আজ: ১২ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২রা জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি, রাত ৮:৫৭
সর্বশেষ সংবাদ
অপরাধ, জেলা সংবাদ ধর্মপাশায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালে ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ

ধর্মপাশায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালে ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ০৮/১১/২০২০ , ৫:৩০ অপরাহ্ণ | বিভাগ: অপরাধ,জেলা সংবাদ


সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় ইউনিয়ন পর্যায়ে হতদরিদ্রদের জন্য সরকার নির্ধারিত মূল্যে দেওয়া খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৩০ কেজি ওজনের চালের বস্তায় ডিলারদেরকে ২৮-২৯ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে বলে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

আর এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ওই খাদ্যগুদামে সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসানের আকস্মিক পরিদর্শনকালে ওজনে কম দেওয়ার বিষয়টির সত্যতা পান এবং তিনি এ ব্যাপারে খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষকে আরো সতর্কতার সহিত দায়িত্ব পালন করার জন্য নির্দেশ দেন ।
জানা গেছে, চলতি ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ইউনিয়ন পর্যায়ে হতদরিদ্রদের জন্য সরকার নির্ধারিত মূল্যে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৮১০০ কার্ডধারীর মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে প্রত্যেক কার্ডধারীর নিকট ৩০ কেজি করে চাল বিক্রি করার লক্ষে ২০ জন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়।
আর প্রতি কার্ডধারীর বিপরীতে প্রতি মাসে ১০ টাকা কেজি দরে চালের ওজন ৩০ কেজি এবং খালী বস্তার ওজন ৩০০ গ্রাম হিসেবে চালসহ প্রতি বস্তার ওজন ৩০ কেজি ৩০০ গ্রাম সঠিক ওজন করে ডিলারদেরকে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা গুদাম থেকে ডিলারদের বরাদ্দকৃত ওইসব চালের বস্তা কোনো রকম ওজন না করেই তিনি তাদেরকে সংখ্যায় গুণে প্রতি বস্তায় সঠিক ওজন রয়েছে বলে বুঝিয়ে দেন।
আর ডিলাররাও তার কথামতো ওইসব চাল এলাকায় নিয়ে কার্ডধারীদের মাঝে বিতরণ করতে গিয়ে প্রায় বস্তাতেই ২-৩ কেজি করে চাল ওজনে কম থাকায় কার্ডধারীদের কাছে তাদেরকে বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। আর এ ধরনের অভিযোগ উঠায় সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদ্যগুদামে উপস্থিত হয়ে ওইসব চালের বস্তার সঠিক ওজন করে তিনি এসব অভিযোগের সত্যতা পান।
এব্যাপারে একাধিক ডিলারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল খাদ্যগুদাম থেকে উত্তোলণের সময় গুদাম কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে ওজন ছাড়াই ৩০ কেজির ওজনের চালের বস্তা বুঝিয়ে দেয়। তবে ওইসব প্রায় বস্তাতেই ৩০ কেজির স্থলে ২৭-২৯ কেজি চাল থাকে। আর ওইসব চালের বস্তা এলাকায় এনে কার্ডধারীদের মাঝে বিতরণ করতে গিয়ে আমাদেরকে অনেক বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
ধর্মপাশা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুজন রায় বলেন,খাদ্যবান্ধবের চালের বস্তার মুখ মেশিনে শেলাই করা থাকে। ওইসব চালের বস্তা আমরা যে ভাবে বুঝে রাখি, ঠিক সেইভাবেই আমরাও তা ডিলারদেরকে বুঝিয়ে দেই। তাই সেসব বস্তা ওজন করার প্রয়োজন হয়না। তবে হুক লাগার কারণে বা অধিক টানা হেঁছড়ার কারণেও কিছু চালের বস্তায় ওজনে কম হতেই পারে।
ধর্মপাশা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা তাহেরপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা বিএম মুশফিকুর রহমান ওজনে কম থাকার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ইউএনও মহোদয়ের উপস্থিতিতে খাদ্যগুদাম থেকে এক ডিলারের বরাদ্দকৃত চালের বস্তা সরবরাহের সময় ওজন করার পর কিছু বস্তায় ওজনে চাল কম থাকার একটি তথ্য খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা সুজন রায় আমার কাছে পাঠিয়েছে।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান বলেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির বরাদ্দকৃত চালের বস্তায় ওজনে কম দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আগামী মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: