আজ: ১৪ই অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, ২৯শে আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে সফর, ১৪৪২ হিজরি, দুপুর ১২:৫৩
সর্বশেষ সংবাদ
অপরাধ, জেলা সংবাদ, বিশেষ প্রতিবেদন দিনে চিকিৎসক রাতে ওয়ার্ডবয়!

দিনে চিকিৎসক রাতে ওয়ার্ডবয়!


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১৪/১০/২০২০ , ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: অপরাধ,জেলা সংবাদ,বিশেষ প্রতিবেদন


নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার উত্তর রামপুর গ্রামের সুবিদ আলীর ছেলে জাহিদুল ইসলাম মূলত একজন ওয়ার্ডবয়। কিন্তু নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে রোগীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন প্রতারণা করে আসছেন। শুধু তা-ই নয়, বদলগাছীর পাহাড়পুরে একিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে লাইসেন্সবিহীন একটি অবৈধ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। সেখানে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি করছেন বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষাও। ব্যবস্থাপত্রের পাশাপাশি প্রতিটি রিপোর্টে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে নিজেই স্বাক্ষর করছেন। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে এলেও রহস্যজনক কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেউ।

জাহিদুল ইসলাম পাশের জেলা জয়পুরহাট সদরের রওশন ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এমএলএসএস পদমর্যাদার একজন ওটিবয় (অপারেশন থিয়েটারে সাহায্যকারী) হিসেবে কর্মরত আছেন। এখানে তিনি রাতে ডিউটি করেন। অন্যদিকে দিনে নিজের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বসে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। প্রায় পাঁচ বছর ধরে অবৈধভাবে ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি চালিয়ে আসছেন তিনি।

একিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক জাহিদুল ইসলামের দাবি, তিনি ১৯৯৮ সালে মানবিক বিভাগ থেকে মাধ্যমিক ও ২০০০ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর ২০০৪ সালে কলকাতা থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি নেন। পরে কথার পরিপ্রক্ষিতে জাহিদুল ইসলাম স্বীকার করে বলেন, রাতে তিনি জয়পুরহাটের একটি ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ওটিবয় হিসেবে কাজ করেন। এইচএসসিতে কোন কোন বিষয় ছিল—এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে সদুত্তর দিতে পারেননি। ভারতের শিয়ালদহ স্টেশনসংলগ্ন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব অল্টারনেটিভ মেডিসিন কলকাতা থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি নিয়েছেন বলে দাবি করলেও বলতে পারেননি এমবিবিএসের পুরো অর্থ। মানবিক বিভাগের ছাত্র হয়ে এমবিবিএস বা ডাক্তারি পড়া যায় কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘কথাটি বলায় আমার ভুল হয়েছে।’

স্থানীয়রা জানায়, জাহিদুল ইসলাম পাহাড়পুর একিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বসে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রোগী দেখেন। নিজেই করেন আল্ট্রাসনোগ্রাফি, ইসিজি ও এক্স-রে। ব্যবস্থাপত্রের পাশাপাশি প্রতিটি রিপোর্টে নিজেই স্বাক্ষর করেন।

নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. এ বি এম আবু হানিফ বলেন, ‘একিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কানিস ফারহানাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Comments

comments

Close