আজ: ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, ৩রা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১লা সফর, ১৪৪২ হিজরি, রাত ১০:৫৯
সর্বশেষ সংবাদ
জেলা সংবাদ সিএনজি থেকে ৫ লাখ টাকা উধাও!

সিএনজি থেকে ৫ লাখ টাকা উধাও!


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১১/০৯/২০২০ , ৭:০০ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জেলা সংবাদ


বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় কমলগঞ্জ উপজেলা থেকে একটি সিএনজিতে নিজ গন্তব্য আদমপুর বাজারে ফিরছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য নুরুল ইসলাম (৫০)। সিএনজিতে আরো চারজন যাত্রী ছিলেন। কিন্তু সিএনজি থেকে নামার সময় টাকার ব্যাগটি নিতে ভুলে যান তিনি।

এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করলে সিএনজিচালক শাহেল মিয়াকে (১৭) রাত ৮টায় বাড়ি থেকে পুলিশ আটক করে। আটক চালককে রাতভর নিযার্তন করলে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। শুক্রবার সকালে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানায় নিয়ে আসা হয় তাকে।

এ খবরে উপজেলার চৌমুহনী স্ট্যান্ডে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত চৌমুহনী চত্বরে সিএনজি রাস্তায় রেখে শতাধিক চালক সড়ক অবরোধ করে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ে শত শত যাত্রী। চালকরা পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে নির্যাতিত চালককে মুক্তির দাবি জানায়।

সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে ওসি আরিফুর রহমান পৌরসভার মেয়র জুয়েল আহমেদের সহযোগিতায় এবং স্থানীয় কাউন্সিলর জামাল হোসেন, সিএনজিচালক সমিতির সভাপতি আলমাছ মিয়া, আব্দুল মুকিত ও খলিলুর রহমানের জিম্মায় আটক সিএনজিচালক সাহেলকে পুলিশ ছেড়ে দেয়।

নির্যাতিত সিএনজিচালক সাহেলের মা রিনা বেগম বলেন, পুলিশ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর তাঁর ছেলেকে ধরে নেওয়ার সময় থেকে শুরু করে সারারাত পিটিয়েছে। ফলে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমার ছেলেকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার সৌমিত্র সিনহা বলেন, গণধোলাইয়ে সিএনজিচালক সাহেল আহত হয়েছে বলে পুলিশ সদস্যরা তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে চিকিৎসা করায়।

অব. বিজিবি সদস্য নুরুর ইসলাম জানান, পাঁচ লাখ টাকা ব্যাগে করে সিএনজির সিটের পেছনের ভ্যানে রেখে চালকের পাশে বসেছিলাম। কিন্তু ভুলে টাকার ব্যাগ গাড়িতে রয়ে যায়। বিষয়টি পুলিশকে অবগত করি।

কমলগঞ্জ থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান বলেন, যাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতেই চালককে ধরে আনা হয়েছিল। চালকের অসংলগ্ন কথাবার্তায় রাতে বিভিন্ন স্থানে টাকা উদ্ধারের অভিযান চালানো হয়। তবে টাকা পাওয়া যায়নি। অবরোধের কারণে আপাতত তাকে শ্রমিক নেতৃবৃন্দের জিম্মায় ছাড়া হয়। পুলিশি নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তার শরীরে আগের আঘাত থাকায় চিকিৎসা করানো হয়।

Comments

comments

Close