আজ: ১৪ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, ৩০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলহজ, ১৪৪১ হিজরি, রাত ১০:৪৯
সর্বশেষ সংবাদ
স্বাস্থ্য সিওপিডি চিকিৎসার সাত স্তম্ভ

সিওপিডি চিকিৎসার সাত স্তম্ভ


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১১/০৭/২০২০ , ১১:৪৩ অপরাহ্ণ | বিভাগ: স্বাস্থ্য


শ্বাসনালীর একটি দীর্ঘস্থায়ী অসুখ সিওপিডি (ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারী ডিজিজ)। এতে ফুসফুসে বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্থ হয়। সিওপিডি তে এক বা একাধিক রোগ অর্থাৎ ক্রনিক ব্রংকাইটিস, এমফাইসিমা ও ক্রনিক অ্যাজমা একসাথে বা আলাদা আলাদা ভাবে থাকতে পারে। এ অসুখ সম্পূর্ণ নিরাময় যোগ্য নয় তবে যথাযথ পদক্ষেপ নিলে উপসর্গগুলো বা রোগের কারণে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে হ্রাস পাওয়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের ২০০৭ এর সমীক্ষা অনুযায়ী ৪০ বৎসরের ঊর্ধ্ব বয়সের প্রতি ৫ জনে ১ জনের সিওপিডি রোগ আছে। সিওপিডি মূলত ধূমপান, কাঠের চুলার ধোঁয়া বা ধূলাযুক্ত পরিবেশে অনেকদিন কাজ করার ফলে হয়ে থাকে।

সিওপিডি চিকিৎসার সাতটি স্তম্ভ হল-

প্রথম স্তম্ভ : চারপাশের পরিবেশ ধোঁয়ামুক্ত রাখুন। ধূমপান অবশ্যই পরিহার করুন। ধূমপায়ী নিজে ও আশপাশে যারা থাকেন তারা সবাই সমান ক্ষতিগ্রস্থ হয়। গাড়ীর কালো ধোঁয়া বা কাঠের চুলার ধোঁয়া থেকেও দূরে থাকুন।

দ্বিতীয় স্তম্ভ : নিয়মিত ভ্যাকসিন নিনঃ প্রতিবছরে একবার ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাক্সিন এবং প্রতি ৩-৫ বছরে একবার নিউমোনিয়ার ভ্যাক্সিন নিবেন। এতে ফুসফুসে ইনফেকশনের প্রবনতা কমবে।

তৃতীয় স্তম্ভ : ফুসফুসের পুনর্বাসন কার্যক্রমে অংশ নিন। পুনর্বাসন কার্যক্রম বলতে বোঝায় ফুসফুসের কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনার জন্য নিয়মিত ব্যায়াম (যেমন- শরীরের মাংসপেশী নমনীয় ও প্রসারিত করার ব্যায়াম, কাঁধের ব্যায়াম, পায়ের ব্যায়াম, শ্বাসপ্রশ্বাসের মাংসপেশীর শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম ইত্যাদি)। স্বাস্থ্য সম্মত খাদ্যাভ্যাস, রোগীকে তার রোগ সম্পর্কে অবহিতকরণ ইত্যাদির সম্মিলিত প্রয়াস যার মাধ্যমে রোগী তার শারীরিক ও মানসিক উদ্যম ফিরে পায়। এতে অংশ নিলে ফুসফুসের ও শ্বাস-প্রশ্বাসের মাংসপেশীগুলোর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। যারা ফুসফুসের শক্তি কমে যাওয়ায় শারীরিক অক্ষমতার শিকার এবং সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিয়েও স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারছেন না, তারা এ কার্যক্রমে অবশ্যই অংশ নিবেন। যাদের উপসর্গ যত বেশী তারা তত বেশী লাভবান হবেন। কখনও কখনও হঠাৎ বেড়ে যাওয়া অসুখের চিকিৎসার পরেও পুনর্বাসন প্রয়োজন হতে পারে।

চতুর্থ স্তম্ভ : নিয়মিত ওষুধ ব্যবহার করুন। চিকিৎসকের দেয়া ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী শ্বাসনালী প্রসারিত হয় এমন ওষুধ ব্যবহার করুন। সঠিক পদ্ধতিতে ইনহেলার ব্যবহার জরুরি। এতে শ্বাসনালী প্রসারিত হয় এবং স্বাভাবিক ভাবে বাতাস চলাচল করতে পারে। পর্যাপ্ত শ্বাস আপনার কর্মক্ষমতা বাড়াবে।

পঞ্চম স্তম্ভ : ইনফেকশনের কারণে বেড়ে যাওয়া শ্বাসকষ্ট নিয়ন্ত্রণ করুন।

বুকের যেকোনো ধরনের ইনফেকশনে বা অ্যালার্জি জনিত কারণে শ্বাসকষ্ট হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে।

এরকম হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ইনফেকশন আপনার ফুসফুসকে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে এবং কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

ষষ্ঠ স্তম্ভ : শরীরের অন্য সকল রোগের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করুন।

শরীরে নানারকম রোগ বাসা বাঁধতে পারে। যেমন- ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, হার্টের অসুখ, দুশ্চিন্তা-হতাশা, ঘুমের সমস্যা, এসিডিটি ইত্যাদি। এগুলো ভালভাবে নিয়ন্ত্রণ করুন।

সপ্তম স্তম্ভ : প্রয়োজনে অক্সিজেন /মেশিনের সাহায্যে শ্বাস নিন।

দীর্ঘ দিন ধরে শরীরে অক্সিজেন কম থাকলে বা কার্বন-ডাই-অক্সাইড জমে থাকলে বিভিন্ন অঙ্গের কর্মক্ষমতা কমে আসে। সবসময় ক্লান্ত লাগে, শরীরে পানি জমতে পারে, হাড় ক্ষয় ও অন্যান্য সমস্যা হতে পারে। এ ধরনের রোগীকে আমরা বাড়িতে বেশির ভাগ সময়েই অক্সিজেন নিতে বলি। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক করতে কখনও কখনও মেশিন এর সাহায্যে শ্বাস নিতে হতে পারে।

Comments

comments

Close