আজ: ১৪ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, ৩০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলহজ, ১৪৪১ হিজরি, রাত ১০:৪১
সর্বশেষ সংবাদ
ফেসবুক থেকে মাশরাফিকে খোলা চিঠি

মাশরাফিকে খোলা চিঠি


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ২১/০৬/২০২০ , ১:১৬ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: ফেসবুক থেকে


প্রিয় মাশরাফি,

করোনার ছোবল থেকে শেষ পর্যন্ত রেহাই পেলেননা আপনিও। কিছুদিন আগেও যে মানুষটা করোনাকে থোড়াই কেয়ার করে নিজ এলাকার মানুষের জন্য ছুটে গেছে, করোনা ভীতি উপেক্ষা করে নিজের সাধ্যমত সাহায্য করেছে, সেই মানুষটিই আজ করোনা শেলে বিদ্ধ।মেঘনাদ যেমন মেঘের আড়াল থেকে তীর বিদ্ধ করত করোনা তেমনি অদৃশ্য থেকে বিষ বিদ্ধ করে যাচ্ছে। রেহাই পাচ্ছেনা নয় থেকে নব্বই। সাধারণ মানুষ থেকে তারকা বা রাজনীতিবিদ৷ এর শিকার আপনিও।

নির্দিষ্ট একটি দলের সাংসদ হয়ে যাওয়ায় রাজনৈতিক কারনে কিছুদিন আগেও যারা আপনার কঠোর সমালোচনা করত, গালি দিত তাদের কন্ঠেও আজ আকুতি ” ও ম্যাশ সুস্থ হয়ে ফিরে এসো প্লিজ “। জমে থাকা অভিমানের মেঘ সরে যেয়ে এ যেন আগের সেই নিখাদ ভালোবাসার ঝকঝকে আকাশ। দল মত নির্বিশেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনাকে ঘিরে এই যে আবেগ আর ভালোবাসার বিস্ফোরণ, একজন মাশরাফির অর্জন মনে হয় এখানেই৷

রাজনীতিতে আসার ব্যাখা দেয়ার জন্য আপনার সেই সংবাদ সম্মেলনটা মাথায় বারবার উঁকি দিচ্ছে৷ আপনার যতগুলো সংবাদ সম্মেলন কাভার করেছি কখনো এত বিব্রত মাশরাফিকে দেখিনি। প্রথমে এসেই জানিয়ে দিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে সিরিজ চলাকালীন কেউ যেন রাজনৈতিক কোন প্রশ্ন না করে তাই আগেভাগেই এই সংবাদ সম্মেলন।

এরপর আপনার দিকে ধেয়ে আসতে লাগল একের পর এক বাউন্সার….” মাশরাফি আপনি কেন রাজনীতিতে? যে মানুষকে দেশের সবাই ভালোবাসে তিনি নির্দিষ্ট একটি দলের হয়ে গেলে কি তার প্রতি মানুষের ভালোবাসা ভাগ হয়ে যাবেনা? আপনার কেন মনে হলো আপনি রাজনীতির জন্য উপযুক্ত? নিজ এলাকার মানুষের জন্য কি এমন করেছেন যে মানুষ আপনাকে ভোট দেবে? অন্য কোন দলে না যেয়ে কেন এই দলকে নিলেন ? অবসরের আগেই কেন রাজনীতিতে? খেলায় কি প্রভাব ফেলবে না? সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যাচ্ছিলেন হাসিমুখেই, কিন্ত স্পষ্ট বোঝাই যাচ্ছিল শোয়েব আকতার বা ব্রেটলির বাউন্সে আপনি যতোটা বিব্রত হতেন এসব প্রশ্নে ভেতরে ভেতরে বিব্রত হচ্ছেন তার কয়েক গুন৷

এরপর বললেন ” আমি শচীন বা ম্যাগ্রা না যে মানুষ আমাকে অবসরের পরেও মনে রাখবে। বৃহৎ পরিসরে কাজ করার লক্ষ্যেই রাজনীতিতে আসা “। এটাকেই টপ লাইন বানিয়ে টিভিতে চালিয়েছিলাম।

কঠিন পরিস্থিতিই নাকি নেতা তৈরী করে৷ করোনার এই কঠিন সময়ে আপনার এলাকার কয়েক জন বন্ধুর কাছে জানতে চেয়েছিলাম ” ২২ গজের অভিজ্ঞ আর রাজনীতির মাঠে অনভিজ্ঞ তোদের এমপি কেমন কাজ করছেরে “। তাদের উত্তর ছিল ” অন্যদের কথা জানিনা কিন্ত কৌশিক ভাই তার সাধ্যমত কাজ করছে৷ এই কারনেই ভালো লোকের রাজনীতিতে আসা দরকার “।

আপনাকে ঘিরে ওদের উচ্ছ্বাস  বলে দিচ্ছে রাজনীতির মাঠের মাশরাফি মাঠের মাশরাফির মত সর্বোচ্চটুকু দিচ্ছে। এমপি হয়েও ওদের কাছে আপনি তাই এমপি না হয়ে প্রিয় কৌশিক ভাই রয়ে গেছেন। একজন নেতা মাশরাফির কারিশমা সম্ভবত এখানেই।

নির্দিষ্ট একটি দলের এমপি হওয়ায় অভিমান থেকে যারা আপনাকে গালি দিয়েছিল, কট্টর সমালোচনা করেছিলো….করোনা আক্রান্ত হওয়ার তাদের অনেককেই দেখলাম সেই অভিমানের ঝাপি সরিয়ে দিয়ে ” ম্যাশ করোনা যুদ্ধে জয়ী হয়ে ফিরে এসো ” টাইপের পোস্ট করতে। একজন মাশরাফির প্রাপ্তি সম্ভবত এখানেই।

এত মানুষের ভালোবাসা যার সাথে, করোনার সাথে যুদ্ধে জিতে তাকে ফিরতেই হবে। যে মানুষ পঙ্গু হওয়ার সম্ভাবনাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে পায়ের এতগুলো অপারেশনের পরেও নিক্যাপ বেধে ২২ গজে দৌড়াতে পারে, অসুস্থ স্ত্রীর পাশে না থেকেও দেশের প্রয়োজনে লাল সবুজের জন্য লড়তে জানে, তাকে করোনা যুদ্ধে জিততেই হবে৷

আপনার দ্রুত সুস্থ হওয়ার অপেক্ষায় থাকলাম। কল্পনায় যেন দেখতে পাচ্ছি ২ নাম্বার জার্সিধারী এক যুবক গলার রগ ফুলিয়ে, ঘাড়টা বাকা করে বল হাতে আগুন চোখে আবার ছুটে যাচ্ছে। যার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বলছে ” করোনাকে ধরে দিয়েছি “।

ইতি
আপনার শুভাকাঙ্ক্ষী
দিবাকর বিশ্বাস

Comments

comments

Close