আজ: ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১০ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি, সন্ধ্যা ৭:২৯
সর্বশেষ সংবাদ
মতামত, সম্পাদকীয় দেশটাকে বদলাতে আমাদের আরো কিছু শাহিন প্রয়োজন

দেশটাকে বদলাতে আমাদের আরো কিছু শাহিন প্রয়োজন


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ২০/০৫/২০২০ , ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: মতামত,সম্পাদকীয়


আবু সায়েম শাহিন নামটির সাথে পরিচয় গত ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আগে । আমার পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ড থেকে তিনি কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় সমর্থন প্রত্যাশী ছিলেন । সাংবাদিকতা ও রাজনীতি দুটোর সাথেই জড়িত থাকায় আগ্রহ নিয়ে আশেপাশের ওয়ার্ড গুলোর প্রার্থীদের সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছিলাম । রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা আবু সায়েম শাহিন দলীয় সমর্থন না পেয়েও দলের জন্য কাজ করেছিলেন দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম ।

মুগ্ধতাটা আরো ছড়ালো মার্চের শেষ সপ্তাহে এসে দেশে করোনার আবির্ভাব ঠেকাতে সরকারের দেয়া সাধারণ ছুটি শুরু হবার দিন থেকে তার প্রানন্তর মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা দেখে । প্রথম প্রথম মনে হয়েছিল হয়তো লোক দেখানো , কিংবা রাজনীতি করায় আত্মপরিচিতি বাড়াতে টুকটাক হেল্প করে ফেসবুকে প্রচার টাইপ কিছু হবে হয়তো । কিন্তু দ্রুতই আমার ভুল ভাঙ্গে । জানার চেষ্টা করলাম , নিজ থেকে দেখে এলাম , সাংবাদিক দিয়ে মাঠ পর্যায়ে খবর নিলাম ।  এখন শুধু বলতে পারি  ‘মানবতা আর মমতাই  যেন আবু সায়েম শাহিনের জীবনের দর্শন’ ।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সায়েম শাহিন দেখিয়ে দিয়েছেন মানুষের জন্য কাজ করতে   নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিই হতে হবে এমন কথা নেই ।  তিনি বলে দিয়েছেন যেকোনো এলাকারই হোক না কেন খাদ্য সহায়তা নিতে লাগবে না কোনো পরিচয়পত্র। শুধু নাম-ঠিকানা দিলেই খাদ্য পৌঁছে যাবে বাসায়। করোনার প্রভাবে খাদ্য সংকটের এমন মুহূর্তে গত ২৬ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ৩০  হাজার পরিবারকে  খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন আবু সায়েম শাহিন।  তার এসব সহায়তায় একটি পরিবার তিনদিন পর্যন্ত চলতে পারে। রাজধানীসহ দেশের যেকোনো প্রান্তে থাকা অসহায়দের যেন সহায়তার আওতায় আনা যায় এ জন্য করোনা সংকটের শুরুতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘মানুষের পাশে মানুষ: পাবলিক গ্রুপ’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপ খোলা হয়েছে। এই গ্রুপে দুই হাজার ৮০০ সদস্য আছে এবং নতুন করে প্রতিদিন সদস্য বাড়ছে। এই গ্রুপের মাধ্যমে রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে খাদ্য সহায়তার জন্য জানালেই পৌঁছে যাচ্ছে খাবার।

এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ছিন্নমূল, সুবিধাবঞ্চিত, ভবঘুরে, ভিক্ষুক ও সমাজের অন্যান্য স্তরের সংকটাপন্ন মানুষকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। মানুষের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে খাবার। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মানুষ এসেও তার বাড়ি থেকে এই খাদ্য সহায়তা গ্রহণ করছেন। এছাড়াও আবু সায়েম শাহিন বিভিন্ন সড়কে ঘুরে ঘুরে খাবারের সন্ধানে বের হওয়া ও অপেক্ষায় থাকা মানুষের হাতে খাদ্য সহায়তা তুলে দিচ্ছেন।

এক শ্রেণির মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার রয়েছেন যারা নিজেদের অসচ্ছলতার কথা প্রকাশ করতে পারছেন না, বিভিন্ন গোপন সূত্রে খবর নিয়ে এমন সব পরিবারকে খুঁজে বের করে বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের এই নেতা।

শুধু আওয়ামী লীগ নেতাই নন, একজন ক্রীড়া সংগঠকও তিনি । করোনাভাইরাসে সবকিছু বন্ধ হওয়ার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ক্রীড়াঙ্গনেও। লকডাউনে খেলা না থাকায় অনেক খেলোয়াড়ের আয়ের পথ এখন বন্ধ। এমন খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়িয়েছেন হকি খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা ও ক্রীড়া সংগঠক মো. আবু সায়েম শাহীন।   রাজধানীর মাওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে অসহায় এমন প্রায় ৫০০ খেলোয়াড়দের হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দেয়া হয়েছে কিছুদিন আগে । লকডাউনের কারণে ঢাকায় আসতে না পারা দেশের বিভিন্ন জেলার খেলোয়াড়দের কুরিয়ারের মাধ্যমে উপহার সামগ্রী পাঠানো হয়েছে।

সহায়তা প্রসঙ্গে কথা হয়েছিল  আবু সায়েম শাহিনের সাথে । তিনি বলেছিলেন,  দেশের এই  সংকটকালে আমি যদি মানুষের পাশে দাঁড়াতে না পারি তাহলে এই সম্পদ দিয়ে কী লাভ। যদি মারা যাই তাহলে এই সম্পদ দিয়ে কী হবে?  আমি সবসময় চেষ্টা করি সুসময়ে নয়, বিপদে মানুষের পাশে থাকতে।

জানতে চেয়েছিলাম সহায়তা নিয়ে বিস্তারিত ।তিনি বলেছিলেন ,   আমি সরকারিভাবে সাধারণ ছুটি ঘোষণা থেকে শুরু করে আজ অবধি আড়াই লাখের বেশি  মানুষকে উপহার সামগ্রী দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় নিজ উদ্যোগে অসহায় মানুষকে সহায়তা করছি। আমি যে খাবার দিয়েছি তাতে তিনজনের একটি পরিবার তিনদিন চলতে পারবে। যে যেভাবে আমার সাথে যোগাযোগ করছে আমি সহায়তা করে যাচ্ছি। গভীর রাতে সড়কে খাদ্য নিয়ে ঘুরছি। বস্তিতে যেয়ে খাবার দিয়ে আসছি। এলাকার ভোটার না হলে কোনো খাদ্য সহায়তা দিচ্ছেন না আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা । তাহলে যারা এই শহরে জীবিকার জন্য এসেছেন যারা এলাকার ভোটার নয়, তাদের কি খাদ্য সহায়তা পাওয়ার অধিকার নাই ? আমার কাছে কোনো আইডি কার্ড লাগে না। শুধু নাম-মোবাইল নম্বর হলেই খাদ্য পৌঁছে দেব। আমার কাছে যথেষ্ট খাবার মজুত আছে। যতদিন সংকট না কাটে ততদিন দিতেই থাকব।

শাহিন শুধু মুখে বলেই ক্ষ্যান্ত হননি , শাহিন করে দেখিয়েছেন , দেখাচ্ছেন । যেখানে সারা দেশে ত্রাণ নিয়ে অনিয়ম , যেখানে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের তালিকাতে অনিয়ম , দেশটা যাক রসাতলে আমার চাই আরো বেশি টাকা নীতিতে জনপ্রতিনিধিরা যেখানে নিজের বিবেককে বর্গা দিয়ে আছেন  সেখানে সবার চেয়ে ব্যতিক্রম একজন আবু সায়েম শাহিন ।

আবু সায়েম শাহিনের জন্য শুভ কামনা থাকবে  । দেশটাকে বদলাতে আমাদের আরো কিছু শাহিন প্রয়োজন ।

লিখেছেন: রাকিবুল বাসার রাকিব ,

সম্পাদক ও প্রকাশক ,

দৈনিক মতপ্রকাশ ও দৈনিক সময়’৭১ ।

Comments

comments

Close