আজ: ১৩ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার, ২৯শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৩শে জিলহজ, ১৪৪১ হিজরি, রাত ১২:২৫
সর্বশেষ সংবাদ
চটগ্রাম বিভাগ, জাতীয়, প্রধান সংবাদ, বাংলাদেশ করোনার মধ্যে ‘পঙ্গপালের’ হানা বাংলাদেশে !

করোনার মধ্যে ‘পঙ্গপালের’ হানা বাংলাদেশে !


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ৩০/০৪/২০২০ , ৮:১৪ অপরাহ্ণ | বিভাগ: চটগ্রাম বিভাগ,জাতীয়,প্রধান সংবাদ,বাংলাদেশ


পাশের দেশ ভারত ও পাকিস্তানের পর এবার বাংলাদেশেও পতঙ্গের আক্রমণের খবর এলো।  দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় সম্প্রতি ঘাসফড়িংয়ের মতো ছোট ছোট কিছু পোকা দেখা যাচ্ছে, যেগুলো উড়তে পারে না। কালো রঙের ডোরাকাটা এই পোকাগুলো দেখতে অনেকটা পঙ্গপালের মতো।

পোকাগুলো দেখে এ তথ্য জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পতঙ্গ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রুহুল আমিন। এরকম শত শত পোকা দলবেঁধে স্থানীয় বাসিন্দাদের বসতভিটার গাছপালায় আক্রমণ চালিয়ে উজাড় করে ফেলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পোকার আক্রমণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কক্সবাজার থেকে কৃষি কর্মকর্তা এসে পোকাগুলোর নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যান।

তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের পোকা তারা আগে কখনো দেখেননি। পোকাগুলোর ছবি দেখে অধ্যাপক রুহুল আমিন ধারণা করছেন, এগুলো স্খিস্টোসার্কা গ্রেগারিয়া প্রজাতির পঙ্গপাল। যেগুলো বেশ বিধ্বংসী হয়ে থাকে। নতুন ছোট প্রজাতির এই পোকাগুলো যদি পঙ্গপাল হয়ে থাকে এবং সেগুলো যদি এখনই নিয়ন্ত্রণ করা না হয়, তাহলে সামনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন তিনি।

কেননা পঙ্গপাল বহুভোজী পোকা। এরা ঝাঁক বেঁধে শস্য, ফসল থেকে শুরু করে বন জঙ্গলে হামলা চালিয়ে সব উজাড় করে ফেলে। যেহেতু পোকাটি অনেক গাছপালা খেয়ে নষ্ট করে ফেলছে। তাই একে ক্ষতিকর বলে মনে করছেন টেকনাফ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারাও। এই পোকা যাতে আর ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য তারা স্থানীয়দের কীটনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দিয়েছেন।

এ বছরের শুরুতে পাকিস্তানে পঙ্গপালের আক্রমণে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর জানা যায়। এ কারণে দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করতে হয়। ভারতের পাঞ্জাবে প্রদেশে এই পঙ্গপাল ঢুকে পড়লে আশেপাশের কয়েকটি রাজ্যে সতর্কতা জারি করা হয়। এ ছাড়া চীন এবং মিয়ানমারেও পঙ্গপালের উৎপাত দেখা দিয়েছে।

এর মধ্যে দেশজুড়ে বোরো ধান পাকলেও কৃষি শ্রমিক এবং যন্ত্রপাতির অভাবে এখনও সব ফসল তোলা সম্ভব হয়নি। এমন সময়ে যদি পঙ্গপাল আঘাত হানে তাহলে বিপুল পরিমাণে ধান ধ্বংস হয়ে যাবে যার ফলে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সাধারণত এই পোকাগুলো সংখ্যায় বাড়ার পর যাযাবর হয়ে ঘোরাফেরা করে এবং চলতি পথের ফসল নষ্ট করে দেয়। টেকনাফে দিন দিন এই পোকার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ারে স্থানীয়রা বেশ উদ্বেগের মধ্যে আছেন।

তবে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন জানিয়েছেন, তারা এখনো নিশ্চিত নন এটি পঙ্গপাল কি না। তাই এখনো তারা কোন ধরনের মনিটরিং শুরু করেননি।

টেকনাফে যে পোকাটি পাওয়া গেছে, সেটার বৈশিষ্ট্য দেখে আফ্রিকায় আঘাত হানা ভয়াবহ পঙ্গপাল বলে মনে হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান। তারপরও এই পোকার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দুই একদিনের মধ্যে টেকনাফে একটি বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।

এটি আসলেও বিধ্বংসী পঙ্গপাল কি না, সেটা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়া বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন রুহুল আমিন। বর্তমানে দেশব্যাপী লকডাউন চলায় তারা পোকাটির নমুনা গাজীপুরের ল্যাবে এনে পরীক্ষা করতে পারছেন না। লকডাউন ওঠার আগ পর্যন্ত তিনি স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাকে এই পোকাটিকে শুকিয়ে ন্যাপথালিন দিয়ে অথবা ৭০% ইথানলে চুবিয়ে রেখে না হলে ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক এজেডএম সাব্বির ইবনে জাহান বলেন, ‘উড়ে আসা পতঙ্গের আক্রমণ থেকে ফসলি জমি রক্ষার কোনো উপায় নেই। এদের যাত্রা থামিয়ে দেবার কোন পদ্ধতিও আবিষ্কৃত হয়নি।’ সূত্র : বিবিসি বাংলা

Comments

comments

Close