আজ: ১৩ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার, ২৯শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৩শে জিলহজ, ১৪৪১ হিজরি, রাত ১২:৩৮
সর্বশেষ সংবাদ
মতামত, সম্পাদকীয় দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের জন্য

দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের জন্য


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১৯/০৪/২০২০ , ৪:৫০ অপরাহ্ণ | বিভাগ: মতামত,সম্পাদকীয়


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আপনার নিকট আবেদন, এই দুর্দিনে আপনার জনগণকে বাঁচান।

বনশ্রীর কাজী বাড়ির সামনে  বঙ্গবন্ধু  ফাউন্ডেশন, ঢাকা মহানগর এর পক্ষ থেকে ত্রাণ দিতে গিয়ে স্বচক্ষে যে দৃশ্য দেখেছি তা ভুলার নয়। নির্দিষ্ট ৭০ জনের জন্য ত্রাণ দিতে গিয়ে প্রায় ৭০০ জনের বেশী মানুষের আহাজারি দেখতে হয়েছে। কারো চোখের পানি দেখতে হবে এমন প্রস্তুতি আমাদের কারো ছিল না। সবার নাম ও মোবাইল নাম্বার নিয়ে আর একটু আশ্বাসবাণী দিয়ে সেখান থেকে একরকম পালিয়ে এসেছি। জানিনা তাদের জন্য কী করতে পারবো, কিন্তু বিবেকের কাছে দংশিত হয়েছি। ছবি তোলার সুযোগ হয়নি, ঠিক ইচ্ছাও ছিল না। তাই প্রমাণ দিতে পারলামনা।

☞অনেকেই ত্রাণ দিচ্ছে কিন্তু কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বিত কোন উদ্যোগ নেই। শুধু সমন্বয়ের অভাবে কেউ হয়তোবা বারবার পাচ্ছে আর কেউ না পেয়ে কাঁদছে।
এভাবে মানুষকে ঘরে রাখা যাবেনা। যার ঘরে খাবার নেই, সে বের হবেই। কেউ তার সন্তানকে অভুক্ত রেখে ঘরে বসে থাকবেনা। শিকলে বাঁধা ছাড়া তাকে কেউ ঘরে আটকে রাখতে পারবেনা। আর তাতেই ছড়াতে থাকবে ভাইরাসটি। মরতে থাকবে লাখে লাখে মানুষ।

☞নির্বাচনের সময় যেভাবে প্রত্যেক ভোটারের কাছে স্লিপ পৌঁছানো হয়েছিল একই পদ্ধতিতে সকল মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের প্রকৃত চিত্র তুলে আনার নির্দেশ দিন।

☞সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় প্রত্যেক বাসা/বাড়িতে একজনকে দায়িত্ব দিয়ে তার মাধ্যমে কমপক্ষে ১ মাসের খাদ্য সামগ্রী ও ঔষধের জন্য ক্যাশ টাকা প্রদান করুণ।

☞ আমাদের মতো অসহায় মধ্যবিত্তদের জন্য বাড়ি ভাড়া মওকুফ করুণ। আমরা জানতাম না পরিস্থিতির কঠিন আঘাতে এভাবেই জীবনহানীর আশংকায় গৃহবন্দী হয়ে যাবো। আমাদেরকে সবাই বড়লোক মনে করে থাকে অথচ আমাদের জীবন কাটে বাড়িওয়ালা ভাইদের মনোরঞ্জন করে। ১০ তারিখের আগে ভাড়া দিতে না পারলে কী লাঞ্চনাই না সইতে হয়, আপনি হয়তো এটা জানেন না।  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের জন্য কিছু একটা করুন ।

☞বাড়িওয়ালা ভাইদের ইউটিলিটি বিলগুলো মওকুফ করে দিন যেন ভাড়াটিয়াদের প্রতি তারা সহযোগিতার হাত বাড়াতে পারেন।

☞আপনার দেয়া প্রণোদনার টাকার কানাকড়িও আমরা পাবো না কারণ হলো আমরা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করি কিন্তু ব্যাংকের দরজায় লোন চাইতে যাইনি। আমাদের বন্ধুরা (ব্যাংক) তেলা মাথায় তেল দেন একথা সবাই জানেন। যাদের কোম্পানির রমরমা ব্যবসা আছে, যাদের ব্যাংক হিসাবে প্রতিদিন টাকা ঢুকে আর বের হয়, তাদেরকে স্যার/বস বলে লোন দেন। আর যাদের তা নেই তারা পুরাই ব্যাংক লোন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। সুতরাং প্রণোদনার টাকা লাগবেনা, আগে আমাদেরকে খাদ্য ও ঔষধ দিয়ে বাঁচান। আমরা আপনার নির্দেশ মাথায় নিয়ে ভাড়া ঘরে গৃহবন্দী হয়ে আছি।

☞হাসপাতালে ভিন্ন রোগের রোগী দেখার কেউ নেই। বিপদের সময় কোন হটলাইন রিসিভ হয়না, হলেও কথা না শুনেই লাইন কেটে দেয়। সামান্য সর্দি কাশির নাম শুনলেই সব এলোমেলো হয়ে যায়, তাদেরতো চিকিৎসা লাগে। স্বাস্থ্য বাতায়নে কল দিয়েও ভালো ব্যবহার পাওয়া যায়না। এই ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়, মানুষের জন্য পাড়ায় মহল্লায় তাবু/ ক্যাম্প বানিয়ে ডাক্তার বসিয়ে দিন। সহজেই অনেক সমস্যা সমাধান হয়ে যেতে পারে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
খুব খুশি হবো সকাল বেলা ঘুম থেকে জেগেই যদি দেখি চাল ডাল আলু আটার পরিবর্তে সবার মোবাইলে, নগদে, বিকাশে ও রকেটে ১/২ মাসের সংসার চালানোর টাকা চলে আসছে।  আমাদের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও খেটে খাওয়া মানুষদের মধ্যে প্রণোদনার টাকাটা বন্টন করে দেবার ব্যবস্থা নিন। জীবন মৃত্যুর আশঙ্কা নিয়ে আশায় পথ চেয়ে আছি।হয়তো রাত পোহালেই জাতি আপনার নতুন একটি নির্দেশনা পাবে।

 

Comments

comments

Close