আজ: ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩রা সফর, ১৪৪২ হিজরি, বিকাল ৩:০৫
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয় উদ্বিগ্ন বিদেশি ক্রেতারা

উদ্বিগ্ন বিদেশি ক্রেতারা


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১৩/০২/২০২০ , ১:২০ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: জাতীয়


চীনের করোনা ভাইরাসের কারণে ক্রয়াদেশ দেওয়া পণ্য যথাসময়ে পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশি পণ্যের বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে। বিশেষত সম্প্রতি ক্রয়াদেশ দেওয়া পণ্য যথাসময়ে ক্রেতার কাছে পৌঁছাতে পারবে কি না, এ বিষয়ে তারা নিশ্চিত হতে চাইছেন। এদিকে চীন থেকে আমদানিনির্ভর কাঁচামাল, এক্সেসরিজ ও কেমিক্যালের মজুত ফুরিয়ে আসায় বিকল্প খুঁজছেন এখানকার উদ্যোক্তারা। তারা আশঙ্কা করছেন, এর ফলে বাড়তি দামে সেসব কিনতে হবে। আবার একই মানের পণ্য পাওয়া যাবে কি না, কিংবা সময়মতো সেসব পাওয়া নিয়েও সংশয় রয়েছে।

একই ইস্যুতে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক পণ্য প্রদর্শনী একের পর এক স্থগিত হয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দু-একটি প্রদর্শনী হলেও সেগুলোতে চীনের নাগরিকেরা থাকছেন না। অথচ বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হওয়া আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীগুলোতে চীনের প্রতিষ্ঠান ও তাদের নাগরিকদের অনেকেই অংশগ্রহণ করত। এসব কারণে প্রদর্শনীর আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বড়ো অঙ্কের লোকসান গুনতে হচ্ছে। অন্যদিকে ব্যবসায়েও তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নারায়ণগঞ্জের এমবি নিট ফ্যাশন্স ইউরোপ ও আমেরিকার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পোশাক তৈরি করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটিকে ক্রয়াদেশ দেওয়া পণ্য যথাসময়ে পাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন বিদেশি ক্রেতারা।

প্রতিষ্ঠানের মালিক মোহাম্মদ হাতেম  বলেন, তাদের পণ্য যথা সময়ে দিতে পারব কি না, এ বিষয়ে তারা আমাদের কাছে জানতে চাইছে। চীনের চান্দ্রমাসের দীর্ঘ ছুটি শেষ হওয়ার পর বেশ কয়েকটি রাজ্যে এ ছুটি দুই দফায় বাড়ানো হয়েছে। কোথাও কোথায় এটি আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে আমাদের বায়াররা পণ্য জাহাজীকরণে দেরি হবে কি না, তা জানতে চাইছে। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে চীনে ছুটি বাড়ানোয় সেখান থেকে বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে আসতে দেরি হবে। এক্ষেত্রে বিদেশি ক্রেতারা ছাড় না দিলে আমাদের বড়ো অঙ্কের আর্থিক লোকসান গুনতে হবে। আবার মাস শেষে শ্রমিকের মজুরির অর্থ পরিশোধও কঠিন হবে অনেকের জন্য।

বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের কাঁচামাল, এক্সেসরিজ ও কেমিক্যালের বড়ো অংশই চীন থেকে আমদানি করতে হয়। ওভেন পোশাকের কাপড়ের প্রায় ৬০ শতাংশ আর গার্মেন্টসে ব্যবহার হওয়া এক্সেসরিজ, ডায়িং ওয়াশিংসহ কেমিক্যালের উল্লেখযোগ্য অংশ আসে চীন থেকে। চীন ইতিমধ্যে ছুটির সময়সীমা বাড়িয়েছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে জাহাজীকরণ হলেও পুরোদমে হচ্ছে না।

বাংলাদেশ থেকে একক ব্র্যান্ড হিসেবে সবচেয়ে বেশি গার্মেন্টস পণ্য আমদানি করে সুইডেনভিত্তিক এইচঅ্যান্ডএম। এই প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশ অফিসের প্রধান জিয়াউর রহমান গতকাল  বলেন, এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি সহনীয়। তবে করোনা ভাইরাসের ইস্যুটি আরো দুই-তিন মাস দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে বিপর্যয় ঘটতে পারে। এইচঅ্যান্ডএম গত বছর বাংলাদেশ থেকে সাড়ে তিন শ কোটি (সাড়ে তিন বিলিয়ন) ডলার মূল্যের গার্মেন্টস পণ্য ক্রয় করেছে। বাংলাদেশের রপ্তানির ৮৪ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। তবে চলতি অর্থবছরে গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি কমতির দিকে। করোনা ভাইরাস ইস্যুতে রপ্তানিতে প্রভাব পড়লে তা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করবে।

ঢাকায় স্থগিত আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী

করোনা ভাইরাস ইস্যুতে ঢাকায় স্থগিত হয়ে গেছে কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী। এসব প্রদর্শনীতে চীনের প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের আধিক্য থাকায় তা বাতিল করতে হচ্ছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিল্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) আয়োজনে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে আয়োজন হওয়ার কথা টেক্সটাইল ও গার্মেন্ট মেশিনারির প্রদর্শনী। কিন্তু বিটিএমএর সচিব মনসুর আহমেদ বলেন, ঐ প্রদর্শনী আপাতত বাতিল করা হয়েছে। প্রদর্শনীটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এ-সংক্রান্ত সবচেয়ে বড়ো প্রদর্শনী। এতে ৩৬টি দেশের ১ হাজার ৬৫০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে চীনা প্রতিষ্ঠানই প্রায় ৩০০। এছাড়া বাতিল হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল প্লাস্টিক এক্সপো। ঢাকায় বাণিজ্য-সংশ্লিষ্ট বড়ো আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর আয়োজকদের অন্যতম সেমস গ্লোবাল। প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত তিনটি প্রদর্শনী স্থগিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফেব্রিক শো, খাদ্যপণ্য এবং মেডিক্যাল ইক্যুইপমেন্ট ও হেলথ ট্যুরিজমের প্রদর্শনী। চলতি মাস থেকে আগামী এপ্রিল নাগাদ এসব প্রদর্শনী হওয়ার কথা ছিল।

Comments

comments

Close