আজ: ১১ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, ২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২১শে জিলহজ, ১৪৪১ হিজরি, রাত ১:১৪
সর্বশেষ সংবাদ
জীবন ধারা পিরিয়ড কিংবা শারীরিক সম্পর্কের সময় অসহ্য যন্ত্রণায় ভুগছেন?

পিরিয়ড কিংবা শারীরিক সম্পর্কের সময় অসহ্য যন্ত্রণায় ভুগছেন?


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ২৫/১১/২০১৯ , ৭:০৪ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: জীবন ধারা


শারীরিক সম্পর্কের সময় অনেক নারীর তলপেটে অসহ্য যন্ত্রণা হয়। অনেকের আবার ঋতুস্রাবের সময়ও তলপেটে ব্যথা হয়। বেশিরভাগ মানুষই এই বিষয়গুলোকে এড়িয়ে যান। তবে ঘন ঘন এই ব্যথার পেছনে লুকিয়ে আছে ‘এন্ডোমেট্রিওসিস’ নামে এক অসুখ। যা অজান্তেই দিনে দিনে মহামারির আকার ধারণ করেছে।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ১৭ কোটি ৬০ লাখ নারী এই এন্ডোমেট্রিওসিসের সমস্যায় ভুগছেন। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক যন্ত্রণাদায়ক এ অসুখটির কিছু লক্ষণ।

১. ঋতুস্রাব শুরুর আগে অল্পস্বল্প পেট ব্যথা প্রায় সকলেরই হয়। কিন্তু ব্যথা যদি সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যায়, তাহলে ব্যথা কমাতে যেমন তেমন পেইন কিলার না কিনে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। পলিসিস্টিক ওভারি হলে সিস্ট থাকবেই। তবে এই সিস্টগুলো খুব একটা সমস্যা তৈরি করে না। কিন্তু সিস্টগুলো যদি রক্তে পরিপূর্ণ হয়, তাহলে এন্ডোমেট্রিওসিস-এর লক্ষণ।

২. জরায়ু বা ইউটেরাসের এক প্রয়োজনীয় একটি আবরণ হল এন্ডোমেট্রিয়াম। বয়ঃসন্ধির সময় থেকে সন্তান ধারণের সময়কালে মেয়েদের জরায়ুতে নানা পরিবর্তন ঘটে। ঋতুস্রাবের পর জরায়ুর মধ্যে থাকা এন্ডোমেট্রিয়াম আবরণটি ক্রমশ পরিপূর্ণতা পায়। এই সময়ে গর্ভবতী না হলে এন্ডোমেট্রিয়াম আবরণটি ক্রমশ জরায়ু থেকে ছিঁড়ে পড়ে যায়। ২৮ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে এন্ডোমেট্রিয়াম আবরণটি জরায়ু থেকে খসে পড়ে গেলেই মাসিক বা ঋতুস্রাব শুরু হয়।

এন্ডোমেট্রিওসিসে আক্রান্ত রোগীর জরায়ুর ভিতরে ছাড়াও এর বাইরের দিকে ডিম্বাশয়ে (ওভারিতে), ডিম্ববাহী নালী বা গর্ভনালীতে (ফ্যালোপিয়ান টিউবে) এমনকি কখনও কখনও রেক্টাম বা মলাশয়ের গায়ে এন্ডোমেট্রিয়াম আবরণ তৈরি হয়। ঋতুস্রাবের সময় জরায়ুর বাইরের দিকের এই সব অস্বাভাবিক এন্ডোমেট্রিয়াম টিস্যুগুলোও ছিঁড়ে যায়। ফলে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ হতে থাকে। আর এই কারণেই এই সময় তলপেটে অসহ্য ব্যথা করতে থাকে।

এই রক্তক্ষরণের ফলে ওভারির ভেতরে রক্ত জমে যে সিস্ট তৈরি হয় তাকে ‘চকোলেট সিস্ট’ বলা হয়। অজ্ঞতা ও অবহেলার ফলে অনেক সময় ডিম্বাশয়ে ও জরায়ুতে এন্ডোমেট্রিওসিসের কারণে টিউমারও হতে পারে। সেক্ষেত্রে জটিলতা এবং সমস্যা অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে।

এন্ডোমেট্রিওসিসের সমস্যায় করণীয়?
এন্ডোমেট্রিওসিস এমনই এক অসুস্থতা যা সম্পূর্ণ ভাবে সারিয়ে তোলা সম্ভব নয়। তবে ডায়াবেটিস বা হাইপ্রেশারের মতো নিয়ম মেনে নিয়মিত চিকিৎসার  সাহায্যে এই অসুখ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

চিকিৎকের পরামর্শ অনুযায়ী, ডায়াথার্মি, লেসার বা ল্যাপারোস্কোপির সাহায্যে এন্ডোমেট্রিওসিসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে প্রতি মাসে যদি ঋতুস্রাব বা পিরিয়ডের সময় তলপেটের অসহ্য যন্ত্রণা হতে থাকে তাহলে দেরি না করে কোনো স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি।

Comments

comments

Close