আজ: ১১ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, বুধবার, ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৪ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী, বিকাল ৩:৪৪
সর্বশেষ সংবাদ
অর্থ ও শিল্প, সম্পাদকীয় ব্যাংকিং খাতে ঋণ খেলাপি সমস্যা এবং সমাধান

ব্যাংকিং খাতে ঋণ খেলাপি সমস্যা এবং সমাধান


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১৬/১১/২০১৯ , ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: অর্থ ও শিল্প,সম্পাদকীয়


ব্যাংকিং খাত দেশের অর্থনৈতিক  ও সামাজিক উন্নয়নে অগ্রণী ভুমিকা পালন করছে, বর্তমান সময় ব্যাংকিং খাত বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন, বিশেষ করে যে সমস্যা প্রকট তা হল খেলাপি ঋণ।কোন কারনে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর যখন ঋণের টাকা বা কিস্তি ফেরত না পাওয়া যায় তখন উক্ত ঋণ খেলাপি  ঋণ হিসেবে বিবেচিত হয়। ব্যাংক কতৃক বিতরনকৃত এই ঋণগুলো খেলাপি ঋণে  পরিনত হওয়ার পেছনে বহুবিধ কারন রয়েছেকিছুদিন আগে প্রথমশ্রেণীর একটি পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয় ২০১৮ সালে খেলাপি ঋণের পরিমান ১৭হাজার ২২৫ কোটি টাকাদেশের ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে দুর্বল প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি বিবেচণায় ঋণ বিতরন বন্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের  যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করা প্রয়োজন।নয়তো খেলাপি ঋণ দেশের ব্যাংক ব্যবস্থাকে দুর্বল করে ফেলবে।

 

 

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে খেলাপি ঋণের বর্তমান চিত্র নিম্মরুপ: 

সাল মোটঋণ (কোটি) খেলাপিঋণ (কোটি)
২০১৬ ,৭৩,৭২০ ৬২,১৭০
২০১৭ ,৯৮, ১৯০ ৭৪৩০২
২০১৮ ( সেপ্টেম্বর) ,৬৮,০০০ ৯৯,৩৭০

 

২০১৭ সালে খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে পোশাক খাত ১০,৭৯০ কোটি টাকা।এছাড়া বস্ত্র, নির্মাণ শিল্প খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে সরকারিব্যাংকগুলো কতৃ্ক বিতরনকৃত ঋণের ২৫%  এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলো কতৃ্ক বিতরণ কৃত ঋণের ১০% খেলাপি হয়।

বিতরণকৃত ঋণ খেলাপি হবার পেছনে বহুবিধ কারন রয়েছে। যেমন: 

  • যথেষ্ট যাছাই বাছাই ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ঋণ প্রদান।
  • সরকারি ব্যাংক গুলোর  রাজনৈতিক প্রভাব ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোয় পরিচালকদের প্রভাব বিস্তার করে ঋণ অনুমোদন।
  • মনিটরিং এর অভাব।
  • অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের প্রবনতা।
  • দক্ষ জনবলের অভাব।
  • সুশাসনের অভাব।

 

ঋণের একটি বড় অংশ খেলাপি হয়ে গেলে সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের নেতিবাচক প্রভাব পরে। যেমন:

  • ব্যাংকগুলো মূলধন ঘাটতিতে পরে। 
  • গ্রাহক ন্যায্য মুনাফা থেকে বঞ্ছিত হয়।
  • ঋণগ্রহীতার ঋণ দ্রুত  ক্লাসিফায়েড ঋণে পরিনত হয়।
  • ঋণের বিপরীতে বন্ধক রাখা সম্পদ নিলামে বিক্রি করা  কঠিন হয়ে যায় । কারণ নিলামে ক্রয়কৃত সম্পদ দখলে নেয়া অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না ঋণগ্রহীতা প্রভাবশালী হওয়ায় ।
  • দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারনে ঋণগ্রহীতা যথাযথভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে না  পারায় কাঙ্খিত মুনাফা অর্জন করতে পারেনা।তাই ঋণ পরিশোধে ঋণগ্রহীতা ব্যর্থ হয়ে ঋণ খেলাপিতে পরিনত হয়।
  • ব্যাংক কর্মকর্তাদের উপর চাপ বাড়ে এবং অনেক সময়ই তাদের ইনসেন্টিভ বোনাস প্রদানের ক্ষেত্রে কাটছাঁট করা হয়। 

 

খেলাপি ঋণের পরিমান কমানোর জন্য বিভিন্ন উপায় গ্রহন করা যেতে পারে তা নিম্মরুপ: 

  • খেলাপি ঋণ আদায়ে অর্থ ঋণ আদালতকে প্রভাবমুক্ত ও কার্যকর করা।
  • খেলাপিঋণ গ্রহিতার সাথে সমঝোতার মাধ্যমে বিতরণকৃত ঋণ আদায়ে সচেষ্ট হওয়া
  • ঋণ প্রদানেরপূর্বে যথাযথ মনিটরিং
  • অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের প্রবৃত্তি ত্যাগ করা।
  • দক্ষ জনবল নিয়োগ।
  • বাংলাদেশ ব্যাংক এর নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা।

ব্যাংক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন না করলে ব্যাংকিংখাতে খেলাপি  ঋণ কমবেনা। একই সাথে জনগনের আস্থাও বাড়বেনা।অর্থনীতির চাকাও গতিশীল হবে  না। তাই ব্যাংকিং খাত তথা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে ব্যাংকিং খাতে দরকার সুশাসন।


লিখেছেন:  রায়হানুর রহমান , ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড, মালিবাগ শাখা । 

        

Comments

comments

Close