আজ: ৯ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, সোমবার, ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১২ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী, রাত ১১:৩৯
সর্বশেষ সংবাদ
প্রধান সংবাদ, মতামত বাড়ছে রেল ও সড়ক দূর্ঘটনা, আহত-নিহতদের ক্ষতিপূরণ, আবার নতুন দূর্ঘটনার অপেক্ষা!

বাড়ছে রেল ও সড়ক দূর্ঘটনা, আহত-নিহতদের ক্ষতিপূরণ, আবার নতুন দূর্ঘটনার অপেক্ষা!


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১১/১১/২০১৯ , ২:২২ অপরাহ্ণ | বিভাগ: প্রধান সংবাদ,মতামত


বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশের তথ্য মতে, গত ২০১৩-২০১৮ সালে শুধু রাজধানীতেই  ট্রেন দুর্ঘটনায় পাঁচ শতাধিক মৃত্যু হয়েছে। তবে ২০১৭ সালে সারা দেশে প্রথম ছয় মাসেই ট্রেনে কাটা পড়ে ও দুর্ঘটনায় মারা গেছে ৪৬৬ জন, যার মধ্যে শুধু রাজধানীতেই মারা গেছেন ৭৩ জন। ২০১৭ সালে সারা দেশে ট্রেন দূর্ঘটনায় এক হাজার ১০০ লোকের মৃত্যু হয়েছে। 

অতীত ঘাটলে খুব ভালো ভাবেই বোঝা যায়, ট্রেন দূর্ঘটনায় প্রতিবছর প্রায় হাজার মানুষ প্রাণ দিচ্ছেন। অসহায় হয়ে পরছে হাজার পরিবার। যখন এতো হতাহতের খবর আসছে তখনো কি সচেতন হয়েছেন ট্রেনের চালক বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা?

আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ২ ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা ১৬। এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শোক প্রকাশ করেছেন।  ট্রেনচালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ এর প্রয়োজন মনে করছেন সরকার।

দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। আর আহতদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সরকারের দুঃখ প্রকাশ কিংবা ক্ষতিপূরণ কোনটাই কি আসলেই তাদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারে?

এত দূর্ঘটনার পরেও কি সরকার বা প্রশাসনের টনক নড়ছে?

সড়ক দূর্ঘটনার অবস্থা আরও ভয়াবহ । ২০১৬ সালের ১০ জানুয়ারী দৈনিক প্রথম আলোর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে সারা দেশে ৬ হাজার ৫৮১টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৮ হাজার ৬৪২ জন। আহত হয়েছেন ২১ হাজার ৮৫৫ জন। অন্যদিকে তার আগের বছরেই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছিল ৫ হাজার ৯২৮টি। এসব দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৮ হাজার ৫৮৯ জন। আর আহত হয়েছিলেন ১৭ হাজার ৫২৪ জন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ২০ হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোন না কোন ভাবে দূর্ঘটার জন্য দায়ী চালক  এবং কর্মকর্তারা। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শাস্তির আওতায় আনা হয় না তাদের। এতে করে সতর্ক হওয়ার প্রয়োজনও  মনে করেন না চালক – কর্মকর্তারা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্ঘটনা কমাতে হলে সবার আগে দরকার সঠিক তথ্য। কিন্তু সরকারের কাছে সঠিক তথ্যই নেই। নেই উদ্যোগও।

সরকারি তথ্যের উৎস পুলিশ। সড়ক দুর্ঘটনার পর মামলা হলেই পুলিশ তথ্য সংরক্ষণ করে থাকে। ভুক্তভোগী কেউ মামলা না করলে কিংবা নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করে ফেললে পুলিশের খাতায় কোনো তথ্য থাকে না। এ ছাড়া দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে কেউ মারা গেলে সেই হিসাবও পুলিশের কাছে থাকে না।

Comments

comments

Close