আজ: ২২শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং, শুক্রবার, ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৫শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী, সন্ধ্যা ৭:০৭
সর্বশেষ সংবাদ
অপরাধ, রাজধানী জুড়ে ভূমিখেকো হাসু-কাসু চক্রের নির্যাতনে অতিষ্ট আদাবরের নিরীহ লোকজন ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা

ভূমিখেকো হাসু-কাসু চক্রের নির্যাতনে অতিষ্ট আদাবরের নিরীহ লোকজন ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ০৮/১১/২০১৯ , ৮:৪১ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: অপরাধ,রাজধানী জুড়ে


দখল-চাঁদাবাজির রাজত্ব কায়েম করে বাসিন্দাদের জন্য এক আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাশেম হাসু। ২০০২ সালে প্রথম কাউন্সিলর হওয়ার পর থেকেই এলাকায় দখল-চাঁদাবাজির শুরু। তখন ছিলেন বিএনপির অনেকের সঙ্গে ঘনিষ্ট। সরকার পরিবর্তন হলে সখ্যতা গড়েন আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে।

এক পর্যায়ে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পান। এরপর শুরু করেন সরকারি দলের পরিচয়ে দখল-চাঁদাবাজি। স্থানীয় আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাদের ভাষ্য মতে মনের মাঝে ৪০ ভাগ জামায়াতের আদর্শ ধারণ , ২০ ভাগ বিএনপি পন্থীতা আর বাকি ৪০ভাগ আওয়ামী নিধনকারী হিসেবে কাজ করাই যেন হাসুর চারিত্রিক বৈশিষ্ট ।
আওয়ামী লীগ থেকে চাঁদাবাজি, জমি দখল, বাড়ি দখল, সন্ত্রাসীদের লালন, ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীর ওপর হামলা-নির্যাতন, বঙ্গবন্ধুর ছবি মুছে নিজের ছবি লাগানো, জয় বাংলার স্লোগান দিয়ে এলাকায় খুন, ডাকাতি, লুটপাট, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে সংগঠন বিরোধী কাজ করায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

দল থেকে বহিস্কার হলেও থেমে থাকেনি হাসুর অপকর্ম। দ্বিতীয় দফা স্বতন্ত্র কাউন্সিলর হওয়ার পর তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেন। নেশা হয়ে উঠে অন্যের জমি-সম্পত্তি দখল করা। গত কয়েক বছরে দখল, জালিয়াতি আর নানা অপকর্ম করে তিনি শতকোটি টাকার মালিক হয়েছেন। ব্যবহার করেন তিনটি দামি গাড়ি।

কাউন্সিলল হাসুর বাবা ফজর আলী এক সময় জীবিকার তাগিদে ক্ষুদ্র ব্যবসা করতেন। হাসু এবং তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে ছিল রিকশা চুরির অভিযোগ। জনপ্রতিনিধি হওয়ার পর থেকে হাসু এলাকায় এখন আতঙ্কের নাম। অভিযোগ আছে কাউন্সিলর হাসু ও তার ভাই অবৈধ দখলবাজি করে শত শত বিঘা জমি, একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট ও দোকানের মালিক হয়েছেন। তার দখলে শুধু সাধারণ মানুষের সম্পত্তি নয় রয়েছে সরকারি খাসজমিও। আদাবর থানা এলাকায় কেউ নতুন ভবন বা অন্য কোনো স্থাপনা তৈরি করতে হলে হাসুকে চাঁদা দিতে হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন দোকান, অফিস, হাসপাতাল থেকে মাসিক চাঁদা তোলেন। চাঁদা না দিলে বা তাদের মতের বাইরে কেউ গেলে টর্চার সেলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। টর্চার সেলে নির্যাতন করে জোরপূর্বক আদায় করে নিতেন চাঁদা। এ ছাড়া এলাকার বড় মাপের মাদক ব্যবসায়ীও তার আশীর্বাদপুষ্ট। মাদক ব্যবসা থেকেও হাসুর মাসে বড় অঙ্কের টাকা আসে। হাসু-কাসু  ‘স্টার লীগ’ নামে সন্ত্রাসী বাহিনী  পরিচালনা করে   সব ধরনের অপকর্ম করে যাচ্ছেন।

 

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাউন্সিলর হাসু ও তার ভাই মিলে মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, আদাবর, শেখেরটেক, ঢাকা উদ্যান, চন্দ্রিমা উদ্যান, নবোদয় হাউজিং, সিলিকন বেলী, বেড়িবাঁধের নিম্নাঞ্চল এলাকায় দখল করেছেন জমি। তাদের সহযোগী হিসেবে পরিচিত জুল হোসেন, মাহবুব, শাহ আলম খান, রহমত উল্ল্যাহ ও আবুল কালাম নামে হাসু ও কাসু অসংখ্য বাড়ি ও জমি দখল করে প্রথমে রেজিস্ট্রি করতেন। পরে বিক্রি করে যে টাকা আসতো তার বড় অংশই হাসু ও কাসু নিতেন। হাসু চলাফেরা করেন টয়োটা হ্যারিয়ার, রেভ-৪ ও একটি প্রাডো গাড়িতে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে অসংখ্য বাড়িঘর দখল করা এই দুই ভাইয়ের দৌরাত্ম্যে আদাবর এলাকার স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারাও রীতিমতো অতিষ্ঠ। কাউকে তোয়াক্কা না করে তারা দুজনই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে বেড়ান। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমেছে। অথচ ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পান না কেউ। তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে মামলা-হামলাসহ নানা রকম হয়রানি করেন। তাই প্রাণের ভয়ে অনেকেই তাদের শেষ সম্বল হারিয়ে এখন অসহায়। এত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাউন্সিলর হাশেমের ডান হাত হিসেবে পরিচিত শেখেরটেক ৬ নাম্বার রোডের মাদক সম্রাট সেলিম মিয়া ওরফে বিয়ার সেলিম । তিনি মাদক ব্যবসা করে শতকোটি টাকার মালিক হয়েছেন। কাউন্সিলরের নির্দেশে সেলিম শেখেরটেকের রফিক হাউজিং এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতেন। সেলিমের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন মানিক, টিপু, মকবুল, হীরা, জলিল, আল আমিন, মাসুদ, জসিম, জুয়েল, মোহাম্মদ আলী, মকবুল, আলম , সাগর ওরফে রিকশা চোর সাগর , ইয়ামিন ওরফে ইয়াবা ইয়ামিন , টোকাই রিপন , এরফান , ইয়াবা মিরাজ , সমীর , দুলাল , রায়হান , টোকাই মধু , সোবহান , রনি ওরফে গরুচোর রনি । বিল্লাল ওরফে ডাকাত বিল্লাল সহ আরো অনেকে।
সেলিমের বোন শিল্পী ওই এলাকার ইয়াবা সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত। কাউন্সিলর হওয়ার পরে আলিফ হাউজিং এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় হাসুর ক্যাডার বাহিনী প্রথমে পুলিশের সোর্সের ওপর পরে আদাবর থানার উপ-পরিদর্শক রঞ্জিতের ওপর হামলা করে। পুলিশের একটি মোটরসাইকেলও তারা পুড়িয়ে দিয়েছিল। অভিযোগ আছে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে হাসু প্রতিমাসে মাসোহারা পান।
কাউন্সিলর হাসুর দখলবাজির যত অভিযোগ: অনুসন্ধানে কাউন্সিলর হাসু ও তার ভাই কাসুর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে, মামলা হামলা, ভুয়া দলিল তৈরি করে জাল স্বাক্ষরে সাধারণ মানুষের জমি দখলের নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, উত্তর আদাবরের ১৪৫/৩ নম্বরের দেলোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি প্লট দখল। আদাবর ৬ নং রোডের মাথায় ২০৩ দাগে ৬৪ কাঠা, ২০৯ দাগে ১৬০ কাঠা জমি দখল। এই জমির মালিক আলী হোসেন। হাজী মো. ইউসুফ নামের এক ব্যক্তির শেখেরটেক এলাকায় ৩ কাঠা, বায়তুল আমান হাউজিংয়ে সাড়ে ৫ কাঠা জমি দখল। নবোদয় হাউজিং এলাকায় চারটি প্লট, মালেক গলিতে দুটি, আদাবরের বিভিন্ন রোডে সাতটি প্লট, আদাবরের ১০ নম্বর রোডের ৫৯৫ নম্বরের ১০ কাঠা প্লট, ১৩ নম্বর রোডে জমি দখল করে ১০টি দোকান, হোসনাবাদ মার্কেটের পাশে ১০ কাঠার প্লট দখল করে নিয়েছেন। আলিফ হাউজিংয়ের খাল দখল করে অফিস নির্মাণ, মনসুরাবাদ ব্রিজের পাশে জায়গা দখল করে অফিস নির্মাণ, কমফোর্ট হাউজিং ও সুনিবিড় মধ্যস্কুল এলাকায়ও কয়েকটি প্লট দখলে রয়েছে তার। আজিজ গার্মেন্টসের জায়গা মাদ্রাসার নামে লিখে নেয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। শেখেরটেক ও বায়তুল আমান হাউজিংয়ের ১০ নম্বর রোডের শেষ মাথায় ৫টি প্লট দখলে নিয়েছে হাসুর ঘনিষ্ঠ হাজী মোজাম্মেল হক ও অন্যরা। কমফোর্ট হাউজিংয়ের আদাবর ১৭/এ রোডের শেষ মাথায় ২টি প্লট, ১৬ নম্বর রোডের কাঁচা বাজারের সাত কাঠা জমি দখল এবং ১৬/এ রোডের মসজিদ গলিতে জমি দখল করে কাউন্সিলরের লোকজন ব্যবসা করছেন।

ভুক্তভোগীরা যা বলছেন: ২৫/১ শ্যামলীর আলী হোসেন বলেন, আদাবরে ৬ নং রোডের মাথায় ২০৩ দাগে ৬৪ কাঠা ও ২০৯ দাগে ১৬০ কাঠা পৈতৃক সম্পত্তি হাসু কাউন্সিলর দখল করে নিয়েছে। ২০৯ দাগের জমির জন্য ২০০৭ সালে মামলা করেছিলাম। সাত বছর মামলা চলার পর বিবাদী পক্ষ আদালতে কোনো জবাব দেয়নি। তাই আদালত কাগজপত্র দেখে আমাদের পক্ষে রায় দেন। আর ২০৩ দাগের জমিতে মামলা আছে। মামলাটি এখন বিচারাধীন। আলী হোসেন বলেন, হাসু কমিশনার আমাকে একটি হত্যা মামলার আসামি করে জেল খাটিয়েছেন। জেলে থাকা অবস্থায় আমার জমি দখল করে নেয়। তিনি বলেন, একসময় হাসুর কিছুই ছিল না। পুলিশ দিয়ে হয়রানি, মারধর ও নানারকম হুমকি-ধমকি দিয়ে জমি দখল করে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। আরেক ভুক্তভোগী মো. ইয়াছিন বলেন, বায়তুল আনাম ১০ নম্বর রোডের শেষ মাথায় ব্রিজের কাছাকাছি সাড়ে পাঁচ কাঠা ও শেখেরটেক ৭ নম্বর রোডের মাথায় মজিদবাগ এলাকার তিন কাঠা জমি কাউন্সিলর ও তার বড় ভাইয়ের সহযোগিতায় কিছু লোক দখল করে নিয়েছে। এ নিয়ে আমরা থানায় জিডি-মামলা করেছি। আইজিপি, ডিএমপি কমিশনার বরাবর অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু এ জমি আজও উদ্ধার হয়নি।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, ২০১২ সালের ১৪ নভেম্বর সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে আদাবর থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মাহমুদকে। দীর্ঘ পাঁচ মাস নিবিড় চিকিৎসা শেষে মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরেন তিনি। অভিযোগ ওঠে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল হাশেম হাসুর নির্দেশে সন্ত্রাসীরা রিয়াজকে হত্যা করতে চেয়েছিল। হাসু মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছিলেন। রিয়াজের ওপর হামলার ঘটনায় তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। হামলার পর রিয়াজের পরিবার হাসু ও তাঁর ভাই আবুল কাশেমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে।

সেদিনের হামলা প্রসঙ্গে ছাত্রলীগ নেতা রিয়াজ মাহমুদ বলেন, ‘অন্যের জমি দখল আর অন্যায়ের পক্ষে কাজ না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে হাসু তার ক্যাডারদের আমাকে হত্যার নির্দেশ দেয়।’ আদাবরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শুধু ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রনেতা রিয়াজই নয়, আরো অনেকেই হাসুর ক্যাডারদের হামলায় আহত হয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে হাসুর সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান সেলিম ওরফে বিয়ার সেলিম ও লেদু হাসান প্রত্যক্ষভবে আদাবর থানা ছাত্রলীগের পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান মশু হত্যার সাথে জড়িত । ২০১২ সালে তৎকালীন থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান রমিজ হত্যার আসামী হিসেবেও হাসুর ক্যাডার লেদু হাসানের নাম আসে ।
উত্তর আদাবর বাজারে নির্মম পিটুনির শিকার মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আনিস হোসেন ফরিদ। ওই ঘটনায় স্থানীয় কাউন্সিলরের লোকজনের বিরুদ্ধে তিনি মামলাও করেছিলেন। অন্যদিকে ৩০ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমির হোসেনকেও কুপিয়ে জখম করে হাসুর লোকজন। আমির হোসেন বলেন, ‘ভূমি দখলকারী হাসুর লোকজন আমাকে কুপিয়ে মেরেই ফেলতে চেয়েছিল। সেই সন্ত্রাসীরা কাউন্সিলরের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকে।’ একইভাবে ১০০ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি শাহরুখ জাহান পাপ্পুর গাড়ি ভাঙচুর ও মারধর করে হাসুর লোকজন। এ ছাড়া আদাবর থানা ছাত্রলীগের ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রুবেলকে নির্মমভাবে পিটুনি দেয় হাসুর ক্যাডার বাহিনী।
৩০ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি শেখ মো. সিদ্দিকের বাড়িতেও হামলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কাউন্সিলর হাসু নৌকার লোকজনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তার লোকজন চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসীসহ নানা অপরাধ করে বেড়াচ্ছে। এলাকার মানুষ কোনো সেবা পাচ্ছে না। জমি দখল থেকে শুরু করে সে নানা ধরনের ধান্দাবাজি করে বেড়াচ্ছে।’ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাউন্সিলর হাসু কার্যালয়ে নিয়মিত না থাকায় অনেকেই সেবা নিতে গিয়ে সেবা পায় না। রাস্তাঘাটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত হলেও এলাকার এসব সমস্যা সমাধানের বিষয়ে তিনি এগিয়ে আসছেন না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল হাশেম হাসু বলেন, আমি ফকিরের ঘরে জন্মাইনি। আমার সম্পত্তি নিয়ে এনবিআরে এ সংক্রান্ত ফাইলও আছে। চাঁদাবাজি করে আমি এসব করিনি। আমাদের বিরুদ্ধে মামলা থাকতে পারে। কারণ আমি কাউন্সিলর। আমার পক্ষে-বিপক্ষে লোক আছে। অনেকেই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারে। ছাত্রলীগ নেতা ও মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের ওপর হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, তারা নিজেরা মারামারি করে অন্যের ওপর দায় চাপাচ্ছে। আর মাদকের সঙ্গে আমি জড়িত নই। এসব পুলিশ, র‍্যাব দেখবে। আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি। বর্তমানে ছাত্রলীগ-যুবলীগের ছেলেরা আমার সব কাজে বাধা সৃষ্টি করছে।

Comments

comments

Close