আজ: ১১ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং, মঙ্গলবার, ২৭শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৪ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী, রাত ২:০৮
সর্বশেষ সংবাদ
অপরাধ, চটগ্রাম বিভাগ, জেলা সংবাদ, প্রধান সংবাদ এবার চট্টগ্রামের একটি মাদ্রাসায় ছাত্র ধর্ষন এবং হত্যার হুমকি! (ভিডিও সহ)

এবার চট্টগ্রামের একটি মাদ্রাসায় ছাত্র ধর্ষন এবং হত্যার হুমকি! (ভিডিও সহ)


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ৬, ২০১৯ , ৬:৪০ অপরাহ্ণ | বিভাগ: অপরাধ,চটগ্রাম বিভাগ,জেলা সংবাদ,প্রধান সংবাদ


কিছুদিন আগেই  সিরাজগঞ্জে শিশু ধর্ষন মামলায় একজনের যাবজ্জীবন,  নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ জনের মৃত্যুদন্ড দিয়েছে আদালত। এরপরেও কি কমেছে শিশু নির্যাতন বা ধর্ষনের ঘটনা? এবার চট্টগ্রামের মদিনাতুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষক বেল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে হেফজ শ্রেনীর এক শিশু ছাত্রকে ধর্ষন ও হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় দুই মাস আগে মামলা  করা হলেও ধরা ছোঁয়ার বাহিরে আছেন অভিযুক্ত। ৬ সেপ্টেম্বর তারিখ ডিএনএ টেস্ট করা করা হলেও এখনো মেলেনি তার রিপোর্ট।

এ ব্যাপারে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদকে জানায় ভুক্তভোগীর পরিবার।  কিন্তু কোন ব্যাবস্থা না নিয়ে মানসিক  এবং শারিরিক ভাবে  নির্যাতন করেছেন বলে দাবি করছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। ভুক্তভোগী ছাত্র জানায় , আরো অনেক ছাত্রই বেল্লাল হোসেনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

৩ মাসে প্রায় ১০-১২ বার তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলেও জানায় শিশুটি । শিশুটি বলে , ” আমাকে খারাপ কাজ করার জন্য ডাকলে আমি যেতে রাজি হইনা, যার জন্য আমাকে শারিরিকভাবে নির্যাতন করা হত। আমার চোখেও মেরেছিলো।”

 

খারাপ উদ্দেশ্যে সাড়া না দিলে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে শারিরিক ভাবে নির্যাতন করা হত। এই ব্যাপারে ভুক্তভোগী জানায় , “আমি তার কুপ্রস্তাবে সাড়া না দিলে আমাকে পুরো মাদ্রাসা দৌড়  করিয়ে মারতেন তিনি, তাও বিভিন্ন কারন দেখিয়ে। একবার ব্রাশ করিনি এই বলে বেত দিয়ে বেধরম পিটিয়েছেন তিনি।”

এই ব্যাপারে কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়  তাকে। এ ব্যাপারে শিশুটি  বলে , ” আমি কাউকে এই ব্যাপারে জানালে আমার শরীর  থেকে মাথা কেটে আলাদা করে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছিলো।”

মাদ্রাসার ভেতরেই অন্য এক ছাত্রকে ধর্ষণের সময় হাতেনাতে ধরা পরেছিলো এই মাদ্রাসা শিক্ষক। তারপরেও তার বিরুদ্ধে নেয়া হয়নি কোন ব্যাবস্থা। উল্টো  সব গোপনের জন্য মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ নিয়েছিলেন ভিন্ন ব্যাবস্থা। আবাসিক ছাত্রাবাসে থাকা শিক্ষার্থীদের সাথে অভিভাবকদের দেখা করার নিয়ম থাকলেও দেখা করতে দেয়া হত না । অনেক অভিভাবকের দাবি, অনেকটা জেলখানার কয়েদিদের মত জানালার ওপাশ থেকেই কথা বলতে হয়েছে তাদের।

বেল্লাল হোসেন নামের সেই মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে নিতে অপারগতা জানায় আকবর শাহ  থানার ওসি  মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরি। অনেক ধর্না দেয়ার পরে মামলা নিলেও মামলার বাদি সেই কাগজ হাতে পান দুই দিনপর। আদালতে নেয়া হয়েছে ভুক্তভোগীর জবানবন্দীও। তাতে কি, এখনো ধরা ছোঁয়ার বাহিরেই আছেন অভিযুক্ত। আইনের মার-প্যাঁচ নাকি রক্ষকের অবহেলা?

মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বাদিকেই খুঁজে বের করতে  বলা হয় বেল্লালকে।  ছেলের নির্যাতনের বিচারের আশায় বেল্লালের অবস্থানের ব্যাপারে পুলিশকে জানান ভুক্তভোগীর মা। তাতেও মিলল না হুজুরের সন্ধান। পুলিশ নেয়নি কোন ব্যাবস্থা।  এই ব্যাপারে ভুক্তভোগীর মা জানান, ” বেল্লাল কোথায় আছে সেটা পুলিশকে জানালে তারা আমাকে চলে যেতে বলে, কিন্তু কোন ব্যাবস্থা নেয় নি তারা। তাকে গ্রেফতারের  কোন চেষ্টাই করছেন না তারা।”

তিনি আরো বলেন, ” মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে ফোন করলে না কারণ দেখিয়ে এড়িয়ে যাওয়া হয় তাকে।”

 

 

Comments

comments

Close