আজ: ২২শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ৮ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি, সকাল ৮:০৭
সর্বশেষ সংবাদ
রাজনীতি তরিকুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

তরিকুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ০৪/১১/২০১৯ , ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: রাজনীতি


সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর ঢাকায় অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। তরিকুল ইসলাম বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে সুপরিচিত একজন ত্যাগী রাজনীতিবিদ ছিলেন। তিনি একাধারে রাজনৈতিক নেতা- উন্নয়নকর্মী, গণতন্ত্রের বলিষ্ঠ প্রবক্তা এবং কর্মী বান্ধব জননেতা ছিলেন। রাজনীতির জন্য যে ত্যাগ স্বীকার তিনি করেছেন তা সম-সাময়িককালে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

তরিকুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে বিএনপির পক্ষ থেকে কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচীর মধ্যে আছে আজ যশোরে মরহুমের কবর জিয়ারত,ফাতেহা পাঠ,খতমে কোরআন এবং আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান।

আগামীকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে তরিকুল ইসলাম স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও বরেণ্য বুদ্ধিজীবীগণ বক্তব্য রাখবেন।

তরিকুল ইসলাম ১৯৪৬ সালের ১৬ নভেম্বর যশোর শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আলহাজ্জ্ব আব্দুল আজিজ ছিলেন একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। মাতা মোসাম্মৎ নূরজাহান বেগম ছিলেন একজন গৃহিণী।

১৯৬১ সালে তিনি যশোর জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্টিকুলেশন, ১৯৬৩ সালে যশোর মাইকেল মধুসূদন মহাবিদ্যালয় থেকে আইএ পাস করেন। এরপর তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে বিএ (অনার্স) এবং ১৯৬৯ সালে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। তরিকুল ইসলাম ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। ১৯৬৩-৬৪ শিক্ষাবর্ষে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসাবে যশোর এমএম কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৬৩ সালে সর্বক্ষেত্রে রাষ্ট্রভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুগ্ন-আহবায়ক ছিলেন। ১৯৬৪ সালে তিনি তৎকালীন মৌলিক গণতন্ত্রের নির্বাচনে পাকিস্তান মুসলিম লীগের বিপরীতে ফাতেমা জিন্নাহর অনুকূলে জনমত সৃষ্টির জন্য অধ্যাপক শরীফ হোসেনের সহযোদ্ধা হিসেবে গ্রামে গ্রামে গমন করেন এবং মানুষকে সংগঠিত করেন।

তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছিলো বৈচিত্রপূর্ণ ও বর্ণাঢ্য। তিনি বহুবার কারাবরণ করেন ও নির্যাতনের শিকার হন। ১৯৬৬ সালে রাজনৈতিক এক মিথ্যা মামলায় তরিকুল ইসলামকে বেশ কিছুদিন কারাবরণ করতে হয়। ১৯৬৮ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের জন্যে তাঁকে রাজবন্দী হিসাবে নয় মাস যশোর ও রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রাখা হয়। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।

জাতীয় রাজনীতিতে তরিকুল ইসলাম ছিলেন একজন প্রথম সারির নেতা। ১৯৭০ সালে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে যোগদান করেন তিনি। ১৯৭৩ সালে তরিকুল ইসলাম যশোর পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

১৯৭৮ সালে তিনি যশোর পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। মরহুম মশিউর রহমান যাদু মিয়ার নেতৃত্বে ন্যাপ (ভাসানী) বিলুপ্ত হলে তিনি ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ওই বছর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে যশোর সদর নির্বাচনী এলাকা থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময়ে তিনি জাতীয়তাবাদী দলের জেলা আহবায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮২ সালের ৫ মার্চ তরিকুল ইসলাম সড়ক ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত হন।

১৯৮৬ সালে তাঁকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এ সময়ে তিনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্বও পালন করেন। ১৯৯০’র গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তরিকুল ইসলাম অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

১৯৯১ সাল থেকে বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বপালনকালীন তিনি পর্যায়ক্রমে সমাজকল্যাণ ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ, খাদ্য,তথ্য,বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। আমৃত্যু তিনি বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।

২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ঢাকা অ্যাপোলো হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। ঢাকায় তিন দফা এবং যশোরে স্মরণকালের বৃহত্তম নামাজে জানাজা শেষে স্থানীয় কারবালা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

Comments

comments

Close