আজ: ২২শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং, শুক্রবার, ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৫শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী, সন্ধ্যা ৬:১৫
সর্বশেষ সংবাদ
ফেসবুক থেকে, মিডিয়া ওয়াচ বাংলাদেশে গণমাধ্যমের সংকট ,নাকি গণমাধ্যম কর্তাদের?

বাংলাদেশে গণমাধ্যমের সংকট ,নাকি গণমাধ্যম কর্তাদের?


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ৩১/১০/২০১৯ , ৮:৩৬ অপরাহ্ণ | বিভাগ: ফেসবুক থেকে,মিডিয়া ওয়াচ


বাংলাদেশের গণমাধ্যমে গভীর সংকট: কর্মীদের মধ্যে চাকরি হারানোর ভয় তৈরি হয়েছে’ শিরোনামে বিবিসি একটি বিশেষ প্রতিবেদন করেছে। খুবই সময়োপযোগী একটি সংবাদ। কিন্তু সংবাদটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই নেই। দেশের সংবাদকর্মী বিশেষ করে গণমাধ্যম পরিচালকদের (সম্পাদক-সিইও) দক্ষতা-যোগ্যতার যে অভাব প্রকট, সেটিই নেই। অথচ এটি এক নম্বর সমস্যা। মালিকপক্ষেরও সমস্যা বা দায় রয়েছে। এ নিয়ে এর আগের লেখাগুলোয় বলেছি।

ভুলে গেলে চলবে না যে, মিডিয়াও একটি ব্যবসা। দক্ষ পরিচালক ও যোগ্য কর্মিবাহিনী না থাকলে সেই মিডিয়া প্রতিষ্ঠান দাঁড়াবে না। দাঁড়াবে না মানে, তার প্রচার, প্রসার ঘটবে না। ফলে কাঙ্খিত বাণিজ্য বা আয়ও হবে না। এক পর্যায়ে সেই মিডিয়া বন্ধ হয়ে যাবে। সোজা হিসাব।

সময় পরিক্রমায় ব্যাংক-বীমা-অর্থনীতি সংক্রান্ত সকল ব্যবসার ধরণ পাল্টেছে। আমাদের মিডিয়া ব্যবসার ধরণ পাল্টায়নি। উপরন্তু এক শ্রেণির অসৎ-অযোগ্য মানুষ মিডিয়া জগতের দখল নিয়ে নিয়েছে। তারাই বিনিয়োগকারীদের ভুল পথে নিয়ে গেছে। একজন বিনিয়োগকারীর যত অর্থই থাকুক, তিনি চাইবেন তার মিডিয়া প্রতিষ্ঠান নিজে ‍উপার্জন করে চলুক। যে গাছটি তিনি লাগিয়ে দিয়েছেন, তা থেকে ফল আসুক। ফল না এলেও নিদেন পক্ষে জ্বালানির কাঠটা (প্রভাব-সুনাম) আসুক। কিন্তু আসে না। হতাশ হয়ে সেই মিডিয়া মালিক তার প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেন।

মিডিয়া বস্তুনিষ্ঠ বা সত্যের কারবারি। সত্যই তাদের মূল পুঁজি। সেই সত্যেকে প্রতিষ্ঠা করতে দরকার মেধা ও সৎ-সাহস। কিন্তু এই সময়ের মিডিয়ার কর্মীদের মধ্যে সেটি নেই। বরং মিথ্যার সাথে তাদের নিরন্তর বসবাস। আমাদের গণমাধ্যমগুলোর যাত্রা-ই শুরু হয় মিথ্যা দিয়ে। মিথ্যা প্রচারসংখ্যা দিয়ে সেই যে শুরু, সেটি গিয়ে নিয়ম হয় মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ-প্রচারের দৈনিন্দিন কারবারে।

বিবিসির প্রতিবেদনটিতে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে, মত প্রকাশের ক্ষেত্রে সরকারি চাপের। এই পয়েন্টটিতে বেশ কজন সাংবাদিকের মতামতও দেওয়া হয়েছে। এটি দুর্বল যুক্তি। চাপ থাকবেই। বিশ্বে চাপহীন কোনো মিডিয়া নেই। এ দেশে ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলেও সরকারি তরফে মিডিয়ার ওপর চাপ ছিল। তখনও মিডিয়া কাজ করেছে।

সরকার তার কাজ পরিচালনার সময় সমালোচনায় বিব্রত হতে রাজী নয়। অপরপক্ষে মিডিয়ারও গণদায়বদ্ধতা থেকে গঠনমূলক সমালোচনা করে যেতে হয়। এ ক্ষেত্রে দক্ষতা ও কৌশলী হতে হয়। কিন্তু মিডিয়া কর্তাদের সেই কৌশল নেই। যেহেতু তাদের মেধার বিপুল ঘাটতি আছে। ফলে এ দেশে দুই ধরণের সাংবাদিকতার চর্চা দেখা যায়, সরকার যা-ই করুক তার খুঁত বের করার চেষ্টা। অপর পক্ষকে দেখা যায়, সরকার যা না-করেছে, তারচেয়েও অর্জনটাকে বাড়িয়ে বলে তোষামোদির সীমা ছাড়িয়ে যাবার চেষ্টা। এ দুটোই বর্জনীয়।

সাংবাদিকতা সহজ বিষয় নয়। বুদ্ধিজীবীতা জলবৎ কিছু নয়।

সঠিক সাংবাদিকতা করলে, মিডিয়া ব্যবসা বুঝলে সতের কোটি মানুষের এ দেশে এ খাতে এখনও সফল হওয়া সম্ভব। মানুষ সঠিক তথ্য পেতে চায়। তথ্যের জন্য তারা পাগল। ইনফরমেশন ইজ মানি। মানুষ এটা এখন ভাল করেই জানে। কিন্তু তাকে এ যুগে ভুল ও কাঁচা ইনফরমেশন + এন্টারটেইনমেন্ট= ইনফোটেইনমেন্ট দেওয়ার দিন শেষ।

লুৎফর রহমান হিমেল,  সম্পাদক, প্রিয়দেশ ।

Comments

comments

Close