আজ: ১৫ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং, শনিবার, ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী, রাত ১:০৫
সর্বশেষ সংবাদ
প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ করলেন এরশাদ গ্রুপের চেয়ারম্যান

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ করলেন এরশাদ গ্রুপের চেয়ারম্যান


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১৩/১০/২০১৯ , ১১:০৬ অপরাহ্ণ | বিভাগ: প্রেস বিজ্ঞপ্তি


গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং সনে দেশের বেশ কয়েকটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন গণমাধ্যমে আমি আলহাজ মোহাম্মাদ এরশাদ আলী (চেয়ারম্যান এরশাদ গ্রুপ) কে নিয়ে “৫ ব্যাংকের ৩০০ কোটি টাকা নিয়ে গায়েব এরশাদ আলী” ও “রিকশাচালকের পেটে ৩০০ কোটি টাকা” শিরোনামে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে তার প্রতিবাদ জানাচ্ছি । প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পূর্ণ বানোয়াট, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর জন্য এটা অত্যন্ত সম্মানহানিকর।
আমি কখনো ৩০০ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করিনি , লাপাত্তা নই এবং ভবিষ্যতে কখনো লাপাত্তা হওয়ার প্রশ্নই আসে না।কারণ আমি আমার ব্যবসাকে সন্তান ও পরিবারের চাইতেও বেশি ভালোবাসি ।আমি প্রতিনিয়ত ব্যবসায়িক কর্মকান্ডের অংশ হিসেবে ঢাকা ও রাজশাহী জেলায় অবস্থান করি। । দীর্ঘ ২৭ বছর আমি সুনামের সঙ্গে ব্যাংকের সহিত ব্যবসায়িক লেনদেন পরিচালনা সহ ব্যবসা করছি এবং এবি ব্যাংক থেকে নিয়মিত লেনদেনের প্রেক্ষিতে সম্মাননা স্মারক অর্জন করেছি ।   সমাজের একটি কুচক্রী মহল আমাকে হেয়প্রতিপন্ন ও ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে প্রতিবেদকের কাছে ভুয়া তথ্য প্রদান করেছে। ইতোমধ্যে মার্কেটে আমার ব্যবসার বিভিন্ন সেক্টরের প্রায় অর্ধ শত কোটি টাকা বিল পাওনা রয়েছে , সংবাদ প্রকাশের পর এই বিল উত্তোলন আমার জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে ।
আমি রাজশাহীতে ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠিত কৃষক পরিবারে জন্ম নিয়েছিলাম । পদ্মা নদীর ভাঙ্গনে আমার পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হবার পর আমি ৩য় শ্রেণীতে অধ্যয়নরত অবস্থা থেকেই বাবার সাথে বিভিন্ন হাটে-বন্দরে গিয়ে গিয়ে কৃষি পণ্য বিক্রি করতাম ।বহু কষ্টে আমি পরিবারকে সহায়তার পাশাপাশি লেখাপড়া চালিয়ে যাই । মেট্রিকুলেশন পরীক্ষার পর রাজশাহী শহরে এসে কলেজে ভর্তি হয়ে লেখাপড়ার খরচ যোগাতে মায়ের পালিত গরুর পাল থেকে একটি গরু বিক্রয়ের টাকা দিয়ে রিকশা ক্রয় করে নিজের রিকশা নিজে চালানো শুরু করি এবং বাবা-ভাই সহ পরিচিত অন্যদের শহরে নিয়ে আসি । একপর্যায়ে অন্য গ্যারেজ থেকে কম মূল্যে রিকশা ভাড়া করে পালাক্রমে রিকশা ভাড়ায় প্রদান করাতে রিকশা ব্যবসা থেকেও আমরা মুনাফা অর্জন করতে থাকি ।এভাবে নিজেদের জমানো টাকায় একটি দুটি করে করে শতাধিক রিকশার মালিক হই আমি ও আমার পরিবার । পড়ালেখার পাশাপাশি আমার এই কায়িক শ্রমে আমার শিক্ষকেরা মুগ্ধ হয়ে আমাকে নিয়ে গর্ব করতে থাকেন । সে সময় আমার তিন ভাইকে মালেশিয়ায় শ্রম ভিসায় পাঠাই । আমার বিয়ের পর আমার শ্বশুরের পরামর্শে রিকশা বিক্রি করে শ্যালকের রড সিমেন্ট এর ব্যবসার সাথে নিজেকে জড়াই এবং এক পর্যায়ে আমার শ্যালক ব্যবসা ছেড়ে দিলে ভাইদের বিদেশ হতে পাঠানো অর্থ ও আমার জমানো রিকশা বিক্রির টাকা দিয়ে সেই ব্যবসার পুরো মালিকানা নিয়ে নেই । নিজ থেকে একজন নদী ভাঙ্গনের শিকার হওয়া রিকশাচালক এরশাদ আলী থেকে আমি আমার সৎ পথের অর্জন দিয়ে রড সিমেন্টের ব্যবসায়ী হই এবং কালক্রমে রাজশাহী ছাপিয়ে সারাদেশে আমার ব্যবসার প্রসার ঘটে । আমি একজন গর্বিত ব্যবসায়ী যার অতীত সততায় ভরা এবং শরীরের ঘাম ছুটিয়ে , কর্দমাক্ত হয়ে রক্তাক্ত হয়েও আমি নিজে কখনো হাল না ছেড়ে এগিয়ে গিয়েছি আমার অভীষ্ট লক্ষ্যে । আজ আমি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হবার পরেও আমার অতীতকে টেনে এনে রিকশাচালক উপাধি দেয়াতে আমি মর্মাহত নই , বরং আমি গর্বিত যে একজন সৎ মানুষের উত্থান মানুষের সামনে এসেছে ।

বর্তমানে এবি ব্যাংকের ডিএমডি পদে কর্মরত জনাব আব্দুর রহমানের সাথে আমার ব্যক্তিগত লেনদেন থাকায় তিনি আক্রোশ মেটাতেই সংবাদ ছাপিয়েছেন বলে মনে করি ।
উল্লেখ্য যে আমি জনাব আব্দুর রহমানের নিকট হইতে চার বছর পূর্বে ৪কোটি টাকা দিয়ে গুলশানের একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করি । আমার নামে ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রেশন হলেও আমাকে এখনো বুঝিয়ে দেয়া হয়নি । এছাড়াও বিভিন্ন সময় আব্দুর রহমান আমার নিকট হইতে ধার সহ নিজ প্রয়োজনে অর্থ গ্রহণ করে যা বর্তমানে সুদে আসলে সাড়ে ৬ কোটি ছাড়িয়েছে।

সংবাদ ছাপানোর কিছুদিন পূর্বে এবি ব্যাংকের এই ডিএমডি আব্দুর রহমানের সাথে দিলকুশায় ফনিক্স ফিন্যান্স এর হেড অফিসে বসে ফনিক্স ফিন্যান্স এর এমডি জনাব এসএম ইন্তেখাব আলম সহ আমার সাথে ফোনে কথা হলে আমি ফ্ল্যাটের দখল বুঝিয়া চাই , উল্টো আব্দুর রহমান তাকে ফ্ল্যাট ফেরত দিতে বলেন এবং সে জন্য তিনি ৩কোটি ৩০ লাখ টাকা ফেরত দিবেন মর্মে জানান । এতে আমি সায় না দিয়ে আমার ফ্ল্যাটের দখল পুনরায় বুঝিয়া চাই। তার আনুমানিক দুই সপ্তাহ পর সন্ধ্যা ৬টায় হোটেল পূর্বানীতে জনাব আব্দুর রহমান আমাকে তার সাথে দেখা করতে ডেকে নিয়ে একই প্রস্তাব রাখেন এবং পুনরায় ৬ কোটি টাকা ফেরতের বিনিময়ে ফ্ল্যাট ফেরত কিংবা তা না হলে আমার ফ্লাটের দখল বুঝিয়া চাই , ফলশ্রুতিতে তিনি আমাকে এবি ব্যাংকের ডিএমডি পদের পাওয়ার দেখিয়ে দেখে নেয়ার হুমকি দেন এবং আমি কিভাবে ব্যাংকের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখি তা দেখে নিবেন বলে জানান । আমি মনে করি এই হুমকি থেকেই তিনি পুলিশি হয়রানি সহ সংবাদ মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে সংবাদ ছাপাতে উস্কানি দিয়েছেন ।

উল্লেখ্য যে , যেসব ব্যাংক থেকে আমি ঋণ নিয়েছি, তার সব কটির সঙ্গে আমার নিয়মিত যোগাযোগ আছে। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা ফেরত না দেওয়ার কথা প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে তা মিথ্যা। আমি ২০১৪ সালে আমার সম্পত্তি বন্ধক রেখে ৫টি ব্যাংক থেকে মোট ১১০কোটি টাকার লোনগ্রহন করি এবং পরবর্তীতে আমার পদ্মা সেতুর ওয়ার্ক ওয়ার্ডারের বিপরীতে আমার ২০% ক্যাশ মার্জিনের আলোকে বাকি ৮০% বিনিয়োগে এবি ব্যাংক আবারো ৬৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ প্রদান করে যাহা ব্যবসায় ব্যবহৃত সম্পদ হিসেবে এবি ব্যাংকের কাছে বন্ধক আছে । উক্ত টাকায় ৫০টি ড্রাম ট্রাক সহ স্কেভেটর ,জেটি , লাইটার ইত্যাদি ক্রয় করি ।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় ২০১৩-১৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতায় আমার কোম্পানির ১৬৫ টি ট্রাকের ১০০টি ট্রাক ক্ষতিগ্রস্থ হলে এবং কনস্ট্রাকশক সামগ্রীর ব্যবসাতে ধ্বস নামলে আমার কোম্পানি ক্ষতির সম্মুখীন হয় । একসময়ে আমি মূলধন হারাতে থাকি এবং ব্যাংকের কিস্তি পরিশোধে ও আমার সামগ্রিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য অস্থির হয়ে পড়ি । এরই মাঝে আমার ডায়বেটিস , ব্লাড প্রেসার , লিভারের সমস্যা সহ নানাবিধ অসুখ ধরা পরে । ইতোমধ্যে ২০১৪ থেকে ২০১৯ সালে এসে আমার ব্যাংক লোণ সুদ সহ ১৭৫ কোটি থেকে ২৭০ কোটিতে পরিনত হয় । আমি ১৭৫ কোটি টাকার অধিক কোন লোন গ্রহণ করিনি । বর্তমানে ব্যবসা বান্ধব প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে BRDP সার্কুলার ০৫ তারিখ ১৬-০৫-২০১৯ অনুযায়ী আমি পুনঃতফশিলের মাধ্যমে ব্যবসা সচল করতে আগ্রহী । ইতোমধ্যে সকল ব্যাংকে আমি সে মোতাবেক চিঠি জমা দিয়েছি । প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে আমি বলতে চাই যে , আমার পেটে ৩০০ কোটি নয় , বরং প্রদত্ত লোনের বিপরীতে ব্যাংক সমূহের কাছে আমার ২৭০ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দায়বদ্ধ । আমি আমার সম্পত্তি উদ্ধারে ব্যাংকের লোন পুনঃতফসীলে আগ্রহী ।
আমি বর্তমানে ঢাকায় আমার হেড অফিসেই নিয়মিত অফিস করছি তবুও আমাকে পলাতক দেখিয়ে সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে আমাকে হেয় করার নিন্দা জানাচ্ছি ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার আকুল আবেদন জানাচ্ছি , অনুগ্রহ করে কারো ব্যক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে যেন আমার মতন একজন সৎ ব্যবসায়ীকে ক্ষতিগ্রস্থ হতে না হয় সে দিকটি খতিয়ে দেখবেন ।

Comments

comments

Close