আজ: ১৫ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং, শুক্রবার, ৩০শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী, রাত ১১:৩৪
সর্বশেষ সংবাদ
স্বাস্থ্য যৌনরোগ বিষয়ে জেনে রাখুন ১০টি জরুরি তথ্য

যৌনরোগ বিষয়ে জেনে রাখুন ১০টি জরুরি তথ্য


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ০৪/০৯/২০১৯ , ২:৩৮ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: স্বাস্থ্য


সুস্থ জীবনের জন্য জেনে রাখা জরুরি এমন একটি বিষয় হলো যৌনরোগ। অনেকেই বিরক্ত হয়ে ভাবেন, আমি জেনে কী করব? আমার তো কখনো এমন রোগ হবেই না! বাস্তবতা কিন্তু অনেক কঠিন। আর তাই এসব রোগ সম্পর্কে জেনে রাখাটাও ভীষণ জরুরি। যৌনরোগ থেকে হতে পারে ক্যান্সার, অন্ধত্ব, সন্তানের জন্মগত ত্রুটি এমনকি মৃত্যু। সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হলো, পৃথিবীজুড়ে বাড়ছে যৌনরোগের প্রকোপ। জেনে রাখুন এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য-

১) নারীপুরুষ উভয়েই রয়েছেন এইচপিভির ঝুঁকিতে

এইচপিভি বা হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস এমন এক ধরনের ভাইরাস যা যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ায় এবং বেশ কয়েক ধরনের ক্যান্সার তৈরি করে। অনেকের মাঝে এই ভাইরাস বছরের পর বছর থাকতে পারে কোনো উপসর্গ ছাড়াই। তারা অন্যের মাঝে ছড়াতে পারে এই ভাইরাস।

২) কনডম পূর্ণ সুরক্ষা দিতে পারে না

নিরাপদ শারীরিক সম্পর্কের জন্য কনডম ব্যবহারের কথা বলা হয়। কিন্তু তা শতভাগ সুরক্ষা দিতে পারে না। সাধারণত তরলের মাধ্যমে ছড়ায় এমন সব যৌনরোগ থেকে কনডম সুরক্ষা দেয় যেমন গনোরিয়া, ক্ল্যামাইডিয়া এবং এইচআইভি। কিন্তু ত্বকের সংস্পর্শে ছড়ায় এমন সব যৌনরোগ যেমন সিফিলিস, হার্পিস এবং এইচপিভিকে আটকাতে কনডোম তেমন কাজ করে না।

মিশিগানের ব্লু ক্রস ব্লু শিল্ড মেডিকেল কোম্পানির উপদেষ্টা ড. প্যাট্রিশিয়া ফার্গুসন জানান, যৌনতা থেকে বিরত থাকলেই একমাত্র যৌনরোগ থেকে শতভাগ নিরাপদ থাকা যাবে।

৩) যৌনতা ছাড়াও ছড়ায় যৌনরোগ

যৌনরোগের ব্যাপারে একটি ভুল ধারণা হলো, শুধুমাত্র শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমেই তা ছড়ায়। হার্পিস বা জেনিটাল ওয়ার্ট ত্বকের সংস্পর্শের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার কিছু গবেষক ধারণা করেন, চুম্বনের মাধ্যমে ছড়াতে পারে গনোরিয়া। ড. ফার্গুসনের উপদেশ দেন, নিজের এবং সঙ্গীর কোনো যৌনরোগ আছে কিনা তা নিশ্চিত হয়েই সম্পর্কে জড়ানো উচিৎ এবং এরপরেও সবসময় কনডম ব্যবহার করা উচিৎ।

৪) প্রতি বছর যৌনরোগের পরীক্ষা করানো উচিৎ

শারীরিক সম্পর্কে জড়িত থাকলে বছরে অন্তত একবার পরীক্ষা করানো উচিৎ। শুধু তাই নয়, যৌনসঙ্গী পাল্টালে আরও ঘন ঘন টেস্ট করানো উচিত। এসব টেস্টের মাঝে রয়েছে মূত্র ও রক্ত পরীক্ষা এবং প্যাপ স্মিয়ার।

৫) কিছু যৌনরোগের কোনো উপসর্গ থাকে না

প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে অন্তত ২ কোটি মানুষ নতুন করে যৌনরোগে আক্রান্ত হন। এর মাঝে প্রায় অর্ধেকের বয়স ১৫ থেকে ২৫ বছরের মাঝে। অনেক গুরুত্বর যৌনরোগেরও উপসর্গ পাওয়া যায় না, যেমন ক্ল্যামাইডিয়া, গনোরিয়া, এইচপিভি এবং এইচআইভি। এ কারণে নিয়মিত টেস্ট করানো জরুরি।

৬) যেসব যৌনরোগের প্রকোপ বেশি

ক্ল্যামাইডিয়া সম্প্রতি বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে এর পাশাপাশি আরেকটি রোগের প্রকোপ বাড়ছে। মাইকোপ্লাজমা জেনিটালিয়াম বা সংক্ষেপে এমজি নামক রোগটার ক্ষেত্রে সাধারণত কোনো লক্ষণ ধরা পড়ে না। কিন্তু এটি শ্রোণী প্রদাহজনিত এমন রোগের জন্ম দিতে পারে যা একজন নারীকে সন্তান জন্মদানে অক্ষম করে দিতে পারে।

এটি একটি ব্যাকটেরিয়া যা পুরুষের মুত্রনালীতে প্রদাহ তৈরি করে। ফলে মুত্রত্যাগের সময় পুরুষাঙ্গে ব্যথা অনুভূত হয়। আর নারীদের ক্ষেত্রে ডিম্বাশয়সহ প্রজনন অঙ্গগুলোতে প্রদাহ হতে পারে। ফলে প্রচণ্ড ব্যথা এবং জ্বর আসতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণেরও সম্ভাবনা থাকে।

এই ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত কারও সঙ্গে যৌন সম্পর্ক হলে এ রোগ আরেকজনের মধ্যেও ছড়াতে পারে। আর সে কারণেই যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে কনডমের ব্যবহার রোগটি থেকে মুক্ত থাকার সহজ উপায় বলে বলা হচ্ছে।

১৯৮০ সালে এই রোগটি যুক্তরাজ্যে প্রথম সনাক্ত হয়েছিল। এখন এ রোগটিকে উদ্বেগজনক বলে একটি গাইডলাইন তৈরি করেছে ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশন অব সেক্সুয়াল হেল্থ অ্যান্ড এইচআইভি।

অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে এ রোগের চিকিৎসা হতে পারে কিন্তু সংক্রমক ব্যাকটেরিয়া এখন ক্রমশ অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে উঠছে।

৭) চিকিৎসা না করলে বাড়ে এইডসের ঝুঁকি

বেশিরভাগ যৌনরোগই চিকিৎসায় ভালো হয়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসায় অবহেলা করলে তা ভবিষ্যতে এইচআইভির ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে যাদের সিফিলিস, গনোরিয়া এবং হার্পিস হয় তাদের এই ঝুঁকি বেশি হয়।

৮) ওরাল সেক্সের মাধ্যমেও যৌনরোগ হতে পারে

অনেকেই ভাবেন, সাধারণ শারীরিক সম্পর্কের তুলনায় ওরাল সেক্স নিরাপদ। কিন্তু এভাবেও ছড়াতে পারে যৌনরোগ। গনোরিয়া, হার্পিস, হেপাটাইটিস এবং সিফিলিস এভাবে ছড়াতে পারে বেশি। তবে এভাবে এইচআইভি ছড়ানোর সম্ভাবনা কম।

৯) কিছু যৌনরোগ ওষুধে সহজে সারে না

গনোরিয়া হলো এমন একটি যৌনরোগ, ওষুধ খেলেও যা সহজে সারে না। অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারেও তা সারিয়ে তোলা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে কিছু কিছু সময়। এ রোগটির জন্য নতুন অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের চেষ্টা চলছে।

১০) অবহেলা করবেন না

যৌনাঙ্গ থেকে তরল নিঃসরণ, মূত্রে জ্বালাপোড়া, শারীরিক সম্পর্কের সময়ে ব্যথা বা রক্তপাত, তলপেটে ব্যথা, মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত এবং গলায় ইনফেকশন- এসব উপসর্গের কোনোটি দেখা দিলে অবশ্যই যৌনরোগের পরীক্ষা করান। এগুলো যৌনরোগের প্রধান কিছু উপসর্গ।

যৌনরোগ থেকে মুক্ত থাকতে চাইলে কিছু কাজ করতে পারেন। যেমন এইচপিভি ভ্যাকসিন নেওয়া, শারীরিক সম্পর্কের সময়ে কনডমের ব্যবহার এবং যৌনসঙ্গী কমিয়ে দেওয়া- এ কাজগুলো যৌনরোগের ঝুঁকি কমায়।

Comments

comments

Close