আজ: ১৫ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং, শনিবার, ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী, রাত ১২:১৮
সর্বশেষ সংবাদ
অর্থ ও শিল্প, প্রধান সংবাদ অনিয়মের আখড়া পিপলস লিজিং : গ্রাহকের পাওনা ১৫০০ কোটি টাকা

অনিয়মের আখড়া পিপলস লিজিং : গ্রাহকের পাওনা ১৫০০ কোটি টাকা


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ৩০/০৬/২০১৯ , ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: অর্থ ও শিল্প,প্রধান সংবাদ


পরিচালকদের নামে জমি কেনা ও সাবসিডিয়ারিতে মার্জিন ঋণ প্রদানে অনিয়মের অভিযোগ উঠছে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের (পিএলএফএস) বিরুদ্ধে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বিনিয়োগ ও সম্পদের বিপরীতে বড় অংকের সঞ্চিতি ঘাটতির কারণে বিপাকে পড়েছে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি।  এ অবস্থায় এর ভবিষ্যত্ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন গ্রাহকেরা ।  পিপলস লিজিংয়ের আর্থিক প্রতিবেদনে মার্জিন ঋণ প্রদানে অনিয়ম, সঞ্চিতি ঘাটতি, কোম্পানির টাকায় জমি কিনে তা পরিচালকদের নামে নিবন্ধন করা এবং এসব বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমতি না নেয়ার মতো অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর বাইরে কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন তৈরিতে বাংলাদেশ অ্যাকাউন্টস স্ট্যান্ডার্ডের নীতিমালা পরিপালন করা হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয় পিপলস লিজিংয়ের বিরুদ্ধে। এর আগে ২০১৫ সালে  প্রায় সাড়ে ৫০০ কোটি টাকার ঋণ অনিয়মের অভিযোগে পিপলস লিজিংয়ের পাঁচ পরিচালককে অব্যাহতি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তাদের বিরুদ্ধে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটির এসব টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অনিয়মের  বড় অংশের টাকাই  বের করা হয় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক সামসুল আলামিন গ্রুপের নামে। গ্রুপের ২০ প্রতিষ্ঠান এবং কয়েকজন পরিচালকের নামে অনিয়ম করে বের করা হয় ১৪০ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান এম মোয়াজ্জেম হোসেনের নামে নেওয়া হয় ১২৩ কোটি টাকা। এ ছাড়া অন্য পরিচালক মতিউর রহমান ও খবির উদ্দিন, সাবেক পরিচালক ইউসুফ ইসমাইল নিয়েছেন বাকি অর্থ।

এদিকে পিপলস লিজিংয়ে আবারও অনিয়ম শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। নিউ টেক স্পিনিং, গেলকো স্টিল, ন্যাচার বাংলাদেশের নামে ১২০ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে। যদিও এসব প্রতিষ্ঠান নতুন। এ ছাড়া ঋণের জন্য পর্যাপ্ত নথিপত্রও জমা দেওয়া হয়নি। মতামত উপেক্ষা করেই এসব ঋণপ্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত না করেই ঋণ অনুমোদন শুরু হয়েছে ।

২০০৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড (পিএলএফএস) গত ৩ বছর ধরে শেয়ারহোল্ডারদের কোন প্রকার ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেনি। আর  এতে কোম্পানিটি জেড ক্যাটাগরি  অবস্থান করছে। কোম্পানির সর্বশেষ প্রকাশিত ৯ মাসের (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’১৮) আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী,  কোম্পানির শেয়ার প্রতি সমন্বিত লোকসান হয়েছে ০.৬৯ টাকা। যা আগের বছর ্একই সময় শেয়ার প্রতি সমন্বত আয় (ইপিএস) ছিল ০.৪২ টাকা। আর তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’১৮) কোম্পানির শেয়ার প্রতি সমন্বিত লোকসান হয়েছে ০.২০ টাকা। যা আগের বছর ্একই সময় শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) ছিল ০.১৬ টাকা।

 

সরেজমিনে কোম্পানিটির বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে জানা যায় , নর্দান  ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টিদের প্রায় ৯কোটি টাকা ফেরত দিতে ২০১৭ সাল থেকে টালবাহানা করছে প্রতিষ্ঠানটি । প্রাসাদ নির্মাণ লিমিটেডের ৪কোটি টাকা , সুন্দরবন সাইন্টেফিক চিংড়ি কালচার লিমিটেড এর ১কোটি টাকা , মোছাঃ হাবিবুন নাহারের ১কোটি টাকা ও সাদ আল জাবির আবদুল্লাহর দেড় কোটি টাকা ফেরত দিতে ইতোপূর্বে চেক প্রদান করলেও তা উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি ।

 

প্রতিবেদক কোম্পানিটির সম্পর্কে অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে দেখেন ,  ফিক্সড ডিপোজিটের ফটোকপি হাতে  মতিঝিল সিটি সেন্টারের  ১৭ তলায় পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস অফিসে হাজির হয়েছেন  অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ। হাপাতে হাপাতে নারী রিসিপশনিস্ট এর কাছে জানতে চাইলেন, এমডিসহ অন্য কর্মকর্তারা কেউ আছেন কিনা। না সূচক জবাব শোনার পর হতাশ আব্দুস সামাদ কথা বলেন প্রতিবেদকের সঙ্গে। তিনি জানান, সরকারি চাকুরি শেষে জীবনের শেষ সম্বল পেনশনের ২৫ লাখ টাকা পিপলস লিজিংয়ে রেখেছিলেন। উদ্দেশ্য মূল টাকা রেখে একটু স্বচ্ছলভাবে জীবনযাপন করা। কিন্তু ওই আশায় গুড়েবালি।

ছয় মাস ধরে ২৫ লাখ টাকার মাসিক লাভ পাচ্ছেন না। এখন আসল টাকাও ফেরত পাবেন কিনা সেই চিন্তায় আছেন। সরজমিনে লিজিং কোম্পানিটির রিসিপশনে তিন ঘন্টা অপেক্ষা করে মিহন ওমর, মোহাম্মদ হোসেন, হাফিজুর রহমান ও পারভেজ ইসলামসহ অনেক আমানতকারীকে পাওয়া যায়।

সবার মুখে একই কথা, মূল টাকা ফেরত পাবো তো।? প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন শাখাতে গ্রাহকরা ভিড় করছেন। ধরনা দিয়েও টাকা পাচ্ছে না গ্রাহকরা। এমনকি কয়েক মাস ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনও ঠিকমতো দিতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। গত এক সপ্তাহ ধরে তাদের কার্যালয়ে গিয়ে দায়িত্বশীল কাউকেই পাওয়া যায়নি।

মতিঝিলের প্রধান কার্যালায়ে যাত্রাবাড়ি থেকে আসেন হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, এক বছর আগে তিনি পিপলস লিজিংয়ে ১০ লাখ টাকা রাখেন। গত এক মাস ধরে নিয়মিত আসছেন ,কিন্তু অফিসের দায়িত্বশীল  কেউ তাকে দেখা দেননি।
আরেক গ্রাহক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, আমার অফিসের বসের প্রায় এক কোটি টাকা এই প্রতিষ্ঠানে রয়েছে। কিন্তু এখন তুলতে পারছি না। এ টাকা আদায় ছাড়া কোন পথ দেখতে পাচ্ছি না। একই দিনে নিডস এডুকেশন নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত পারভেজ ইসলাম  তার ফিক্স ডিপোজিটের অর্থ তুলে নিতে এসে উত্তোলন করতে না পেরে জানান,   আমার বন্ধুর এক কোটির বেশি টাকা এই প্রতিষ্ঠনে রয়েছে। তাকেও টাকা দিতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে ধানমন্ডির বাসিন্দা মুতাসীর উদ্দীন খান ইয়ামীন বেশি সুদের আশায় ৩০ লাখ টাকার ৬ মাস মেয়াদি আমানত (টিডিআর) রাখেন পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসে।

দশ লাখ টাকা করে তিনটি হিসাবে অর্থ জমা করেন গেল বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে। বার্ষিক ১২ শতাংশ হারে সুদসহ আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে তার টাকা ফেরত দেয়ার কথা। কিন্তু পিপলস লিজিং তার আমানত ফেরত দিচ্ছে না। তার পাওনা এক লাখ ৬০ হাজার টাকার সুদসহ মোট ৩১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। পিপলস লিজিংয়ের প্রধান কার্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন জায়গায় দৌড়ঝাঁপ করে কাজের কাজ না হওয়ায় নিরুপায় হয়ে এখন ধরনা দিয়েছেন পুলিশের কাছে। টাকা আদায় করে দেয়ার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়ে ঢাকা মহনগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পিপলস লিজিং এ প্রতিদিন ধর্ণা দেয়া এসব গ্রাহকের বাইরে অনেকেই জমানো টাকা তুলতে পারছেন না। এমনকি কয়েক মাস ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। এজন্য সিনিয়র ও জুনিয়র মিলিয়ে কয়েক শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারি প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে চলে গেছেন। প্রতিষ্ঠানটির চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার মানিক লাল সমাদ্দারসহ বেশ কয়েক জন সিনিয়র কর্মকর্তা চলে গেছেন। এছাড়া অনেক কর্মকর্তা যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পিপলস লিজিংয়ের প্রধান কার্যালয়সহ গুলশান, মতিঝিল ও চট্টগ্রাম ব্রাঞ্চ অফিসে গ্রাহকদের সঙ্গে বচসার ঘটনা ঘটছে।

পিপলস লিজিং সূত্রে জানা গেছে, মালিক পক্ষ জালিয়াতি করে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের কারণে প্রতিষ্ঠানটি ধুঁকে ধুঁকে চলছে। টাকা রেখে ফেরত না পাওয়ার তালিকায় সাবেক সচিব, পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সুপরিচিত অনেক ব্যক্তিও রয়েছেন। এদের অনেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। এরপরও থেমে নেই পিপলস্‌? লিজিংয়ের আমানত সংগ্রহ। উচ্চসুদে আমানত সংগ্রহে নানা উপায়ে টোপ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে ব্যাংকগুলো যেখানে ৬ থেকে ৭ শতাংশ সুদে মেয়াদি আমানত নিচ্ছে সেখানে পিপলস লিজিং ১২ শতাংশ সুদে আমানতের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তির মোবাইলে এসএমএস দিচ্ছে। এ ছাড়া ৫ বছরে দ্বিগুণসহ আকর্ষণীয় নানা স্কিম নিয়ে হাজির হচ্ছে মানুষের কাছে। বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী, নারীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষকে উচ্চসুদের প্রলোভন দেখিয়ে আমানত সংগ্রহের চেষ্টা করছে। আমানত সংগ্রহে কারও মোবাইলে এসএমএস দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানছে না এ প্রতিষ্ঠান। বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

পিপলস লিজিংয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জন গ্রাহক তাদের আমানত তুলে নিতে অফিসটিতে আসেন। কিন্তু কাউকে টাকা দিতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। ব্যক্তি আমানতকারীদের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ব্যাংক তাদের গচ্ছিত অর্থ চেয়েও ফেরত পাচ্ছে না। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি ব্যাংক এই কোম্পানিতে আমানত না রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে চিঠি দিয়েছে। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, ব্র্যাক ও রূপালী ব্যাংক এই কোম্পানিতে রাখা তাদের স্থায়ী আমানত তুলে নিতে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু ওই চিঠির কোন সদুত্তর পায়নি তারা। এসব বিষয়ে পিপলস লিজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামি হুদার বক্তব্যের জন্য বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

গতকাল অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। বলা হয়, স্যার অফিসে আসেননি। তার ব্যক্তিগত মোবাইলে  ফোন ও এসএমএস করে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।  অফিসে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী আহমেদ জামালকে পাওয়া  গেলেও  তিনি কারও সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পরিদর্শনে দেখা যায়, পিপলস লিজিং থেকে বিতরণ করা ঋণের বেশিরভাগই জালিয়াতির মাধ্যমে তুলে নিয়েছেন পরিচালকরা।  প্রতিষ্ঠানের নামে জমি কেনার কথা বলে নিজ নামে জমি রেজিস্ট্রি করার মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন প্রায় সাড়ে ৫০০ কোটি টাকা। জমি রেজিস্ট্রির এ জালিয়াতির মাধ্যমে সাবেক চেয়ারম্যান মতিউর রহমান ১১৬ কোটি টাকা, সাবেক পরিচালক খবির উদ্দিন মিয়া ১০৭ কোটি টাকা, আরেফিন সামসুল আলামিন, নার্গিস আলামিন ও হুমায়রা আলামিনের ২৯৮ কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য ওই সময়ে দুদকে জানানো হয়।

প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দী সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন । বর্তমানে  চট্রগ্রামের মিঃ মং প্রতিষ্ঠানটির নামসর্বস্ব  চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করলেও গ্রাহকেরা তাকে চিনেন না বলেই জানিয়েছেন ।

নর্দান  ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টিদের আর্থিক বিষয়টি দেখছেন প্রতিষ্ঠানটির উপদেষ্টা (ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং) শেখ মঞ্জুর মোরশেদ ।  তিনি বলেন , পিএলএফএস বর্তমানে একটি দেউলিয়া কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে । তারা গ্রাহকের কষ্টার্জিত আমানত নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নাকের ডগায় ছিনিমিনি খেলছে ।কোম্পানিটি তাদের শত কোটি টাকার উপর দামী সম্পত্তি ইতোমধ্যে বিক্রি করেছে এবং ফকিরাপুল পানির ট্যাংকির সামনে কালভার্ট রোডের প্যারামাউন্ট টাওয়ারের (১২ ও ১৩তলা)  দুইটি ফ্লোর সিনটেক্সের কাছে বিক্রির চেষ্টা করছে । এছাড়াও উত্তরাতে একটি উচ্চমূল্যের জমি ইতোমধ্যে বিক্রি করেছে।

তিনি আরো বলেন , বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার হওয়া দরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রনালয়ের হস্তক্ষেপে সম্পত্তি বিক্রি বন্ধ করে পরিচালকদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি জব্দ করে আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ অতীব জরুরী ।

এদিকে ,৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০১৮ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ প্রদানের সুপারিশ করেনি পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ। বৃহস্পতিবার কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত পর্ষদ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর রাওয়া কনভেনশন সেন্টারের অ্যাংকর হলে কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। ৫ আগস্ট এ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে।

সমাপ্ত হিসাব বছরে পিপলস লিজিংয়ের সম্মিলিতভাবে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৫ টাকা ৫২ পয়সা, আগের হিসাব বছর যা ছিল ২৬ টাকা ৬৮ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। এককভাবে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৫ টাকা ২৪ পয়সা, আগের হিসাব বছর যা ছিল ২৭ টাকা ৭ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর সম্মিলিতভাবে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট দায় দাঁড়িয়েছে ৬৫ টাকা ৫৯ পয়সা, এককভাবে যা ৬৫ টাকা ২৬ পয়সা। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর সম্মিলিত ও এককভাবে শেয়ারপ্রতি নিট দায় ছিল যথাক্রমে ৬০ টাকা ৭ পয়সা ও ৬০ টাকা ২ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)।

এদিকে অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০১৯ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) সম্মিলিতভাবে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২ টাকা ৭ পয়সা। এককভাবে শেয়ারপ্রতি লোকসান ২ টাকা ৮ পয়সা। ২০১৮ হিসাব বছরের একই সময়ে সম্মিলিত ও এককভাবে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল যথাক্রমে ৭ পয়সা ও ৫ পয়সা। ৩১ মার্চ সম্মিলিতভাবে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট দায় দাঁড়িয়েছে ৬৭ টাকা ৬৬ পয়সা। এককভাবে শেয়ারপ্রতি নিট দায় ৬৭ টাকা ৩৪ পয়সা। ২০১৮ হিসাব বছরের ৩১ মার্চ সম্মিলিত ও এককভাবে শেয়ারপ্রতি নিট দায় ছিল যথাক্রমে ৬৫ টাকা ৫৯ পয়সা ও ৬৫ টাকা ২৬ পয়সা।

সর্বশেষ রেটিং অনুসারে, পিপলস লিজিংয়ের ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘ট্রিপল বি মাইনাস’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-থ্রি’। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০১৭ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনসহ প্রাসঙ্গিক অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে এ মূল্যায়ন করেছে ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল)।

লোকসানের কারণে ২০১৭ হিসাব বছরেও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি পিপলস লিজিং। তার আগের দুই হিসাব বছরেও (২০১৬ ও ২০১৫) লভ্যাংশ পাননি কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররা। সর্বশেষ ২০১৪ হিসাব বছরে কোম্পানিটি ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল।

 

 

 

Comments

comments

Close