আজ: ১২ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩০শে শাবান, ১৪৪২ হিজরি, রাত ১২:৩৪
সর্বশেষ সংবাদ
অপরাধ, নারী ও শিশু চলন্ত ট্রেনের টয়লেটে কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা

চলন্ত ট্রেনের টয়লেটে কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ২১/০৬/২০১৯ , ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: অপরাধ,নারী ও শিশু


ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের টয়লেটে এক কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।

২০ জুন, বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্তমমিনুল ইসলাম (২৬) কে আটক করেছে পুলিশ। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে। মমিনুল একজন নির্মাণ শ্রমিক।

জানা গেছে, চলন্ত ট্রেনে শ্লীলতাহানির শিকার ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরীর বাড়ি সিরাজগঞ্জে। সে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। তার নানার বাড়ি রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়াহাট এলাকায়। ঘটনার রাতে নানি ও খালার সঙ্গে ওই কিশোরী রাজশাহী যাবার জন্য সিরাজগঞ্জের মনসুর আলী স্টেশন থেকে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের ‘ঝ’ বগিতে উঠেছিলেন।

ট্রেনটিতে দায়িত্ব পালন করছিলেন সিরাজগঞ্জ রেলওয়ে থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) উজ্জ্বল চন্দ্র বিশ্বাস। তিনিই ওই কিশোরীকে ট্রেনের টয়লেট থেকে উদ্ধার করেন।

এসআই উজ্বল বলেন, “পাবনার ঈশ্বরদী বাইপাস পার হওয়ার পর ওই কিশোরী ট্রেনের টয়লেটে প্রবেশ করে। তখন টয়লেটের সামনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন অভিযুক্ত যুবক। ওই কিশোরী টয়লেট থেকে বের হওয়ার জন্য দরজা খুললেই তিনি ভেতরে ঢুকে পড়েন। এরপর রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী স্টেশন আসা পর্যন্ত প্রায় ৪০ মিনিট তিনি ওই কিশোরীকে টয়লেটে আটকে রেখে শ্লীলতাহানি করেন।”

এএসআই উজ্জ্বল আরও জানান, ট্রেনের শব্দের কারণে ওই কিশোরীর চিৎকার শোনা যায়নি। তবে যাত্রীরা লক্ষ্য করেন অনেকক্ষণ ধরেই টয়লেটের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। তারা দরজায় ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলতে বলেন। কিন্তু দরজা খোলা হচ্ছিল না। একপর্যায়ে তারা ওই কিশোরীর চিৎকার শুনতে পান। এরপরই দায়িত্বরত পুলিশকে ডাকা হয়। তিনি গিয়ে টয়লেটের দরজা খুলতে বাধ্য করেন।

এ সময় কাঁদতে কাঁদতে ওই কিশোরী টয়লেট থেকে বেরিয়ে আসে। তখন ট্রেনের যাত্রীরা মমিনুলকে মারধর শুরু করেন। এ সময় যাত্রীদের হাত থেকে উদ্ধার করে পুলিশ মমিনুলকে নিজেদের হেফাজতে নেন। রাত পৌনে ১১টার দিকে ট্রেনটি রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে অভিযুক্ত যুবক, ওই কিশোরী এবং তার খালা ও নানিকে রাজশাহী রেলওয়ে থানায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

রাজশাহী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইকবাল বলেন, “নির্মাণ শ্রমিক মমিনুল ঢাকা থেকে বাড়ি আসছিলেন। ওই কিশোরীর ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রেনের টয়লেটের ভেতর মমিনুল দীর্ঘ সময় ধরে ওই কিশোরীর মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। তবে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু শ্লীলতাহানি ঘটেছে।”

ওসি আরও বলেন, “ঘটনাস্থল রেলওয়ের ঈশ্বরদী থানার অধীনে। তাই রাত ১২টার ঢাকাগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনে অভিযুক্ত মমিনুলকে ঈশ্বরদী থানায় পাঠানো হয়েছে। ওই কিশোরীকে নিয়ে তার নানি এবং খালাও গেছেন। ঈশ্বরদী থানায় তারা মমিনুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মামলা করবেন।”

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: