আজ: ১৮ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ২রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১২ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি, দুপুর ২:২২
সর্বশেষ সংবাদ
ধর্ম কথন, নারী ও শিশু রোজা পালনে নারীদের করণীয়

রোজা পালনে নারীদের করণীয়


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ০৬/০৫/২০১৯ , ৮:৪২ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: ধর্ম কথন,নারী ও শিশু


রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের পয়গাম নিয়ে আবারো আমাদের মাঝে আসছে পবিত্র মাহে রমজান।

ঋতুমতী, গর্ভবতী ও প্রসূতি নারীদের জন্য রোজা ও নামাযের বিধান: রমজানে রক্তস্রাবের কারণে নারীরা তিন থেকে দশ দিন রোজা রাখতে পারেন না এবং নামাযও আদায় করতে পারেন না। অনুরূপভাবে নেফাস অবস্থায় অর্থাত্ প্রসবোত্তর স্রাব চলাকালীন (সর্বোচ্চ ৪০ দিন) তারা নামায ও রোজা পালন করতে পারেন না। শরীয়ত এই দুই অবস্থায় তাদের জন্য নামায মওকুফ করেছে। তবে রোজা ভঙ্গের নির্দেশ করলেও পরবর্তীতে ভঙ্গকৃত রোজাগুলোর কাযা আদায় করতে বলেছে। হাদীস শরীফে এসেছে, উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রা)-কে জিজ্ঞেস করা হলো- হায়েজ ও নেফাস থেকে পবিত্রতা অর্জনের পর মহিলারা কি নামায ও রোজার কাযা আদায় করবেন? তিনি বললেন- ‘এ দুই অবস্থায় আমাদেরকে রোজার কাযা আদায় করতে বলা হয়েছে, নামাযের নয়। (বুখারী ও মুসলিম)

রোজা অবস্থায় রক্তস্রাব হলে ওই দিনের রোজা হবে না; তবে রমজানের সম্মানার্থে সেদিন ইফতার পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকা বাঞ্ছনীয়। পরদিন থেকে সুস্থ হওয়া পর্যন্ত রোজা ভঙ্গ করবে। তবে রোজার মাসে যে নারী ঋতুমতী ছিলেন রমজানের কোনো রাতে সাহরির সময় শেষ হওয়ার আগে যদি তিনি স্রাব থেকে মুক্ত হন, তাহলে সেদিন থেকে তিনি রোজা পালন আরম্ভ করবেন। যদি কোনো কারণে তিনি সাহরী খাওয়ার পূর্বে গোসল করতে না পারেন, তাহলে সাহরী খেয়ে গোসল করে ফজরের নামায আদায় করবেন। এতে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না।

নিজের ও সন্তানের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকলে গর্ভবতী ও স্তন্যদায়িনী নারী রোজা ভঙ্গ করতে পারবেন। তবে কোনো অভিজ্ঞ ডাক্তার যিনি ধর্মীয় বিধানের গুরুত্ব ও রোজার সামগ্রিক দিক সম্বন্ধে যথাযথ ওয়াকিফহাল, তিনিই কেবল অন্তঃসত্ত্বা ও দুগ্ধদানকারিনী নারীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা নিরূপণ করে যদি তাকে রোজা পালনে নিষেধ করে থাকেন, এ অবস্থায় যতোগুলো রোজা ভঙ্গ হবে পরবর্তীতে সে রোজাগুলো কাযা আদায় করতে হবে। রোজা না রেখে ফিদইয়া বা কাফফারা আদায় করে তা গ্রহণযোগ্য নয়। ফিদইয়া হলো তাদের জন্য, যারা অসুস্থতা বা বার্ধক্যজনিত অক্ষমতার কারণে রোজা রাখতে পারছেন না, যে অসুস্থতা থেকে আর সুস্থ হওয়ার কোনো আশা বা সম্ভাবনা নেই। রোজা অবস্থায় সন্তানকে দুধ পান করালে রোজা ভঙ্গ হয় না। এমনিতে যদি স্তন থেকে দুধ নিঃসরণ হয় তাতেও রোজার কোনো ক্ষতি হবে না।

ঋতুমতী মহিলারা রক্তস্রাব চলাকালীন সময়ে কী করতে পারবেন আর কী করতে পারবেন না: রক্তস্রাব চলাকালীন সময়ে মহিলাদের জন্য নামায পড়া, রোজা রাখা, কুরআন তেলাওয়াত ও স্পর্শ করা এবং মসজিদে প্রবেশ নিষিদ্ধ। তবে এ সময়ে তারা জিকির, দোয়া-দরূদ ও ওযীফা আদায় করতে পারবেন। পবিত্র কুরআনের দোয়ার আয়াতগুলো দোয়া হিসেবে পড়তে পারবেন, তেলাওয়াত হিসেবে নয়।

কোনো নারীর যদি তিন দিনের কম বা দশ দিনের বেশি সময় মাসিক পিরিয়ড হয় অথবা নিয়মিত পিরিয়ড হওয়ার পর পুনরায় রক্তক্ষরণ দেখা দেয়, তাহলে একে ‘ইস্তিহাযা’ (রোগ) বলা হয়। ইস্তিহাযা চলাকালীন নামাযও পড়তে হবে, রোজাও পালন করতে হবে। অনুরূপভাবে সন্তান প্রসবের চল্লিশ দিন পরও যদি রক্তপাত বন্ধ না হয়, তাহলে অজু-গোসল করে যথারীতি নামায আদায় করতে হবে এবং রোজাও রাখতে হবে। আল্লাহ সকল রমণীকে শরীয়তের পূর্ণ অনুসরণের মাধ্যমে সিয়াম সাধনার তাওফিক দান করুন। আমীন!

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: