আজ: ১৮ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ২রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১২ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি, দুপুর ১:৪৮
সর্বশেষ সংবাদ
জেলা সংবাদ, রংপুর বিভাগ ঠাকুরগাঁও বিমান বন্দর এখন চাষাবাদ ও ধান শুকানো চাতালে পরিণত

ঠাকুরগাঁও বিমান বন্দর এখন চাষাবাদ ও ধান শুকানো চাতালে পরিণত


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ২৪/০৪/২০১৯ , ৭:৪৬ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জেলা সংবাদ,রংপুর বিভাগ


মোঃ ইলিয়াস আলী, নিজস্ব প্রতিবেদক: 

৩৯ বছর ধরে অব্যবহৃত হয়ে পড়ে আছে ঠাকুরগাঁও বিমান বন্দর। পরিণত হয়েছে গো-চারণ ভূমিতে। পরিত্যক্ত জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রানওয়ে ছেয়ে আছে আগাছায়। স্থানীয়রা ফসল শুকানোর কাজে ব্যবহার করছেন রানওয়েটিকে।

স্থানীয়দের দাবি বিমান বন্দরটি চলাচলের উপযোগী করে পুনরায় চালু করা হোক। এতে করে ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ের মানুষকে ঘুর-পথে আর সৈয়দপুর বিমান বন্দরে যেতে হবে না।

ঠাকুরগাঁও জেলা শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে শিবগঞ্জ-মাদারগঞ্জ এলাকায় ৫৫০ একর জমির উপর ১৯৪০ সালে এ বিমান বন্দরটি স্থাপন করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিশেষ কৌশল প্রয়োগের উদ্দেশে বিমান বন্দরটি নির্মাণ করা হয়েছিল। বন্দরের রানওয়ে ৩ কিলেমিটার লম্বা।

এই রানওয়ের পশ্চিম প্রান্তে ছিল ১০টি সাব-রানওয়ে। যেখানে যুদ্ধ বিমান লুকিয়ে রাখার বিশেষ সুবিধা ছিল।

পাকিস্তান আমলের প্রথম দিকে বিমান বন্দরের জমি আর্মি স্টেট হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে সিভিল এভিয়েশন বিভাগ ১১১ একর জমি একোয়ার বা হুকুম দখল করে নেয়। ওই অংশে বিমান বন্দরের স্টল ভবন ও রানওয়ে অবস্থিত।

এ প্রসঙ্গে সৈয়দপুর বিমান বন্দরের ব্যবস্থাপক শহিদুল আলম চৌধুরী জানান, বন্দরটি নির্মাণের পর কিছুদিন সচল ছিল। পাকিস্তান আমলেও ত্রাণ-সামগ্রী পরিবহনসহ জরুরি কাজে ব্যবহার করা হতো।

স্বাধীনতার পরও ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বিমান বন্দরটির যোগাযোগ ছিল।  ঢাকা-ঠাকুরগাঁও রুটে নিয়মিত বিমান সার্ভিস চালু ছিল।

তখন থেকেই উত্তরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনপদের সঙ্গে ঢাকার বিমান চলাচলের একমাত্র অবলম্বন ছিল বন্দরটি।

তিনি আরও জানান, ১৯৮০ সালে লোকসানের কারণে দেখিয়ে বিমান চলাচল বন্ধ করে কর্তৃপক্ষ। পরে দাবির মুখে ১৯৯৪ সালে পুনরায় বিমান চলাচল চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়। প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে রানওয়ে, টার্মিনাল ভবন ও বিদ্যুতায়নের কাজসহ নানা সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়।

ওই সময় এয়ার বেঙ্গল ও বোরাকসহ ৬টি বেসরকারি সংস্থা ঢাকা-ঠাকুরগাঁও রুটে স্টল বিমান সার্ভিস চালু করার জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটা চুক্তি হয়। পরে তা আর বাস্তবায়ন হয়নি। তার কিছুদিন পর স্টল বিমান সার্ভিস চালুর প্রক্রিয়াও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ বলেন, বিমান বন্দরটিতে এখন চাষাবাদ করছে কিছু ব্যাক্তি৷  অনেকেই আবার ধান শুকাতে দিচ্ছে রানওয়েতে৷

অব্যবহৃত বিমান বন্দরটিকে এখন নিরাপত্তা দিচ্ছে চারজন প্রহরী। স্থানীয় বাসিন্দা রইসুল হক জানান, নিরাপত্তার জন্য বন্দরটি ঘিরে এক সময় কাঁটাতার ও খুঁটি ছিল। এখন আর অবশিষ্ট নেই। রাতের অন্ধকারে উধাও হয়ে গেছে। পুনরায় বিমান চলাচল চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: