আজ: ১৮ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ২রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১২ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি, বিকাল ৫:০৩
সর্বশেষ সংবাদ
জেলা সংবাদ, ঢাকা বিভাগ শীতলক্ষ্যার মাটি যাচ্ছে ইটভাটার পেটে ,ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নদী

শীতলক্ষ্যার মাটি যাচ্ছে ইটভাটার পেটে ,ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নদী


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ২৪/০৪/২০১৯ , ১২:২৭ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জেলা সংবাদ,ঢাকা বিভাগ


মহিউদ্দিন আহমেদ, শ্রীপুর (গাজীপুর )প্রতিনিধি:
শীতলক্ষ্যার যৌবন এ মুহুর্তে আর নেই,নদীতে পানির প্রবাহ কমে পানি নেমে যাওয়ায় এ মৌসুমে নদীর উভয় পাশে উঁকি দিয়েছে মাটি। এ তর যেন আর সইছেই না মাটি দস্যুদের। তারা কখনও রাতের আধারে  কখনও বা দিনে নদীর মাটি কাটছে দেদারসে। পরে এ মাটির স্থান হচ্ছে নদীর পাশে গড়ে ওঠা ইটভাটায়।  গত কয়েকদিন ধরেই গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার কুড়িয়াদী খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের চোখের আড়ালে এমন মাটি কাটার  উৎসব চলছে।

স্থানীয়দের তথ্য মতে,শীতলক্ষ্যা নদীটি কিশোরগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা টোক নামক স্থানে পুরাতন ব্রক্ষপুত্র হতে উৎপত্তি হয়ে শ্রীপুর, কাপাসিয়া ও কালিগঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। কাপাসিয়ার সিংহশ্রী ইউনিয়নের কুড়িয়াদী খেয়াঘাট এলাকায় নদীটির সরকারী অংশ হতে মেশিন চালিত মাটি কাটার যন্ত্রের (ভেকু) সাহায্যে গত কয়েকদিন ধরেই মাটি কাটা হচ্ছে। পরে এই মাটি ট্রাক যোগে নেয়া হচ্ছে পাশের এবিবি ব্রিক্স নামের একটি ইটভাটায়। এ মাটি কাটার নেতৃত্ব দিচ্ছেন আবুল হায়াত নামের স্থানীয় আওয়ামীলীগের এক নেতা। সে আবার সিংহশ্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফউদ্দিন আল-আমিনের ছোট ভাই।
স্থানীয় কুড়িয়াদী খেয়াঘাটের অটোচালক বাদল মিয়া জানান,ভেকুর সাহায্যে প্রতিদিনই নদী থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। বিশেষ করে সাপ্তাহিক বন্ধের দিন ও রাতের বেলায় মাটি কাটা হয়। পরে এসব মাটি স্থানীয় ইটভাটায় ট্রাকের সাহয্যে পৌছে দেয় মাটি ব্যবসায়ীরা। এতে নদীর যেমন ক্ষতি হচ্ছে তেমন ক্ষতি হচ্ছে গ্রামীণ সড়কেরও।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল আলী জানান,বিভিন্ন নদীতে ভাঙ্গা গড়ার খেলা হলেও শীতলক্ষ্যা ব্যতিক্রম। এর পানি কখনও নদীর সীমানা অতিক্রম করে না। নদীর সীমানা থেকে পানি নেমে যেত তখন আমরা নদীর জমিতেই নানা ধরনের কৃষিকাজ করতাম। কিন্তু এখন যেভাবে গর্ত করে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে এতে সবারই ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষ করে নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা কৃষি অর্থনীতির।
সিংহশ্রী গ্রামের মাদ্রসা শিক্ষক আবুল হাসেম জানান,নদী থেকে যেভাবে মাটি কাটা হচ্ছে তাতে নদীটির সাথে ঘেষে থাকা কৃষকের ফসলী জমিও নদীতে রুপান্তর হয়ে যাবে। নদীর স্বকিয়তা রক্ষা ও কৃষকের জমি বাঁচাতে এ বিষয়ে প্রশাসনের জরুরী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
নদীর মাটি নিজের ইটভাটায় নেয়ার বিষয়ে এবিবি ব্রিক্সের মালিক অহিদুল ইসলাম ভূইয়া জানান,আমরা সরাসরি নদী থেকে মাটি কাটি না। তবে আমরা বিভিন্ন মাটি ব্যবসায়ীদের কাছ হতে ভাটার জন্য মাটি কিনে থাকি। আমাদের এখানে মাটি সরবরাহ দিচ্ছেন স্থানীয় আবুল হায়াত। এ বিষয়ে তার সাথেই যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।
মাটি কাটার বিষয়ে আবুল হায়াতের ভাষ্য, ইটভাটার জন্য এখন আর তেমন মাটি পাওয়া যায়না, তাই কিছু মাটি নদীর পাশ থেকে নেয়া হয়েছে। আমরা জানতাম এসব জোত জমি, তাই মাটি কেটেছি। তবে ভবিষ্যতে আর মাটি কাটব না।
সিংহশ্রী ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নং ওয়ার্ড সদস্য হাজী আব্দুল ওয়াহেদ জানান,গত কয়েকদিন ধরেই সরকারী নদী থেকে মাটি কাটছে দেখে আমি স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে বাধা প্রদান করেছি। প্রয়োজনে প্রশাসনকেও অবহিত করব।
এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড.দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির জানান,সরকার নদী রক্ষায় বদ্ধপরিকর, প্রশাসনের চোখের আড়ালে কেউ যদি নদী থেকে মাটি কেটে থাকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নদী থেকে মাটি কেটে ইট ভাটায় নেয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে গাজীপুরের পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুস সালাম জানান, নদীর ভূমি থেকে মাটি কাটার কোন ধরনের সুযোগ নেই। আমরা সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: