আজ: ১৯শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, ৩রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৩ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি, রাত ১১:৩৬
সর্বশেষ সংবাদ
জেলা সংবাদ যশোরে ভৈরব নদ খননে দখলদার উচ্ছেদে কেটে গেলো খনন জটিলতা, প্রশংসিত যশোর প্রশাসন

যশোরে ভৈরব নদ খননে দখলদার উচ্ছেদে কেটে গেলো খনন জটিলতা, প্রশংসিত যশোর প্রশাসন


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ২৯/০৩/২০১৯ , ৭:৪০ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জেলা সংবাদ


আরিফুজ্জামান আরিফ:  যশোরের ভৈরব নদ খননে দুই পাড়ের ২৯৬ অবৈধ স্থাপনা যেন বাধা হয়ে দেখা দিয়েছিল। দখলবাজদের ছলচাতুরি, মামলা-মোকদ্দমা আর তদবিরে আটকে ছিল উচ্ছেদ। কিন্তু সবশেষে কোনো কিছুতেই রেহাই হয়নি।

বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে উচ্ছেদ। গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে ছোট-বড় ভবন। যশোর প্রশাসনের প্রশংসিত এই উদ্যোগ উপভোগ করেছে গোটা শহরবাসী। আর এর মধ্যে দিয়ে ভৈরব নদ খনন কার্যক্রম ও সৌন্দর্য্য বর্ধন আরেক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসা শহরের নাগরিকরা। আর প্রশাসন বলছে, উচ্ছেদের আগে নদের এই অংশ খননে ঠিকাদার পাওয়া যাচ্ছিল না। এখন সে জটিলতাও কেটে গেলো।

যশোর শহরের বুক চিরে বয়ে গেছে ভৈরব নদ। দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে থাকা এই নদকে বাঁচাতে শহরবাসীর আকুতি ছিল দীর্ঘবছর ধরেই। ভৈরব বাঁচাও আন্দোলন কমিটির ব্যানারে আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে বছরের পর বছর।জনউদ্যোগ যশোরের ব্যানারেও সভা, সমাবেশ ও মানববন্ধন হয়েছে।

যশোরবাসীর এই আবেগকে সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে ভৈবর খননের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী জানান, প্রধানমন্ত্রীর সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০১৬ সালে ২৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ বছর মেয়াদী ‘ভৈরব রিভার বেসিন এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প’ নেয় সরকার। যার পরের বছর ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যশোরে এসে ভৈরব খনন কাজ উদ্বোধন করেন। এরপর নদ খনন শুরু ও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে তৎপরতা শুরু করে প্রশাসন।

জেলা প্রশাসন জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুত ভৈরব নদ খননে একনেকে অর্থ বরাদ্দ হওয়ার পর অবৈধ দখলদারদের চিহ্নিতের কাজ শুরু হয়। ভৈরব নদের সীমানা নির্ধারণের সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড অবৈধ স্থাপনার একটি তালিকা তৈরি করে। এছাড়া নদের দুই ধারে যশোর জেলা প্রশাসন এবং সড়ক ও জনপদ বিভাগের জমিতে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনার তালিকা তৈরি করে প্রশাসন। সবমিলিয়ে ভৈরব গর্ভে ও তার পাড়ে সরকারি জমিতে গড়ে তোলা ২৯৬ অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি উচ্ছেদের চূড়ান্ত নোটিশ দেয়া হয়। নোটিশে এক সপ্তাহের মধ্যে সব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়। নোটিশ পাওয়ার পরদিনই বেশ কয়েকজন নিজেদের বৈধ মালিক দাবি করে জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেন। পরে তারা উচ্ছেদ বন্ধে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। ফলে থমকে যায় যশোর অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি ভৈরব পাড়ের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ অভিযান। কিন্তু এ জেলার নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমকর্মীদের চাপের মুখে শক্ত অবস্থান নিতে বাধ্য হয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয় শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানা এলাকার ভৈরব পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ। বছরের পর বছর ধরে অবৈধভাবে নদীর জমি দখল করে রাখা দখলদারদের চিহ্নিত করে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। উচ্ছেদের অংশ হিসেবে এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় শতাধিক স্থাপনার বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে প্রশাসন।

এদিকে গুটি কয়েক দখলদার ছাড়া উচ্ছেদের পক্ষে শহরের সব শ্রেণি- পেশার মানুষ। শহরবাসীর প্রাণের দাবি ভৈরব নদকে রক্ষা করতে প্রশাসনের এই উচ্ছেদ অভিযানকে তারা সাধুবাদ জানিয়েছেন।

জানা যায়, যশোর জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে দড়াটানা ভৈরব চত্বর থেকে শুরু করে গরীব শাহ সড়কের পাশের জমি ইজারা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছিলেন পুস্তকসহ সাধারণ ব্যবসায়ীরা। তবে ভৈরব নদকে পুনঃখননের উদ্দেশ্যে এসব দোকান সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হলে একাধিকবার উচ্ছেদের উদ্যোগ নেয়া হয়। এজন্য ২০০৫ সালের পর থেকে সরকারি এসব জমির বরাদ্দ আর নবায়ন করা হয়নি। তবে উচ্ছেদে তোড়জোড় শুরু হলেই এই ব্যবসায়ী নেতারা একাধিকবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে উচ্ছেদ উদ্যোগ বন্ধ করে দেন। তবে এবার আর শেষ রক্ষা হয়নি।

প্রথম দিনেই গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে দালানকোটা। যা অব্যাহতভাবে চলবে। ফলে নদ খনন ও সৌন্দর্য্য বর্ধনের আরও এক ধাপ এগুলো বলে মনে করছেন জন উদ্যোগের সদস্য সাংবাদিক রুকুনউদ্দৌলাহ।

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: