আজ: ১২ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩০শে শাবান, ১৪৪২ হিজরি, রাত ১২:২১
সর্বশেষ সংবাদ
জেলা সংবাদ শিক্ষকের কলমের আঘাতে রক্তাক্ত ব্যাংক কর্মকর্তা

শিক্ষকের কলমের আঘাতে রক্তাক্ত ব্যাংক কর্মকর্তা


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ০৬/০৩/২০১৯ , ৭:০৩ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জেলা সংবাদ


মোঃ নুরুল আমিন,রাঙ্গামাটি:   রাঙ্গামাটির বরকল উপজেলার দক্ষিণ বরুনাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক কামরুল হাসানের কলমের আঘাতে রক্তাক্ত হয়েছেন আমিনুল ইসলাম নামে এক সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা। বুধবার উপজেলার সোনালী ব্যাংক শাখা কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বুধবার দুপুরে একটি চেক বই নেয়াকে কেন্দ্র করে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে শিক্ষক কামরুল হাসান ব্যাংকের আইটি কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলামের চোখে কলম দিয়ে আঘাত করে এমনকি উপর্যুপরি ঘুষি মারতে থাকে। এতে চোখের উপরে কেটে গিয়ে মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন ওই ব্যাংক কর্মকর্তা। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়।

আহত ব্যাংক কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক কামরুল হাসান কয়েকজন মানুষের নামে ব্যাংক থেকে চেক বই তার হেফাজতে নিতে চেয়েছিলেন। ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী যার চেক বই সেই নিতে পারবে। কিন্তু ওই শিক্ষক নিয়ম না মেনে চেক বই নিতে চাইলে আমি সেটা দেইনি। এ কারণে তিনি আমার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে কলম দিয়ে আমার বাম চোখে আঘাত করেন।

অপরদিকে শিক্ষক কামরুল হাসান বলেন, তার এক সহকর্মীর নতুন চেক বই নেয়ার জন্য ব্যাংকে স্লিপ জমা দিয়েছিলাম। ব্যাংকের এক কর্মচারী দুপুরের দিকে এসে চেক বইটি নেয়ার জন্য বলেন। সেই বইটি নিতে গেলে ব্যাংক ব্যবস্থাপক জসলিন চাকমা চেক বইটি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে কয়েকজন শিক্ষক মিলে অনুরোধ করলে ব্যাংক ম্যানেজার চেক বইটি দিতে রাজী হয় এবং ব্যাংকের আইটি অফিসার আমিনুল ইসলামের কাছে যেতে বলেন। সেখানে গেলে আইটি কর্মকর্তা তাকে চোর অপবাদ দেয়। তখন সে রাগান্বিত হয়ে তাকে বেয়াদব বলে। একজন শিক্ষককে সে কেন চোর বলবে? তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে ওই ব্যাংক কর্মকর্তা চেয়ার থেকে উঠে তাকে এলোপাতাড়ি কিল ঘুষি মারতে থাকে। নিজেকে রক্ষা করতে গেলে হাতে থাকা কলম ওই ব্যাংক কর্মকর্তার বাম চোখের পাতায় লাগে। এতে তার রক্তক্ষরণ হয়।

এ ব্যাপারে সোনালী ব্যাংক বরকল শাখার ব্যবস্থাপক জসলিন চাকমা বলেন, গ্রাহকদের সেবা দেয়া ও গ্রাহকদের একাউন্ট নিরাপত্তা দিতে সদা সচেষ্টা থাকি। একজনের একাউন্ট সম্পর্কে অন্য জনের যেমন জানার অধিকার নেই তেমনি একজনের চেকবইও অন্যজনকে দেয়ার নিয়ম নেই। কিন্তু সহকারি শিক্ষক কামরুল হাসান ব্যাংকের এ নিয়ম তেয়াক্কা না করে শক্তি ও ক্ষমতা প্রদর্শন করে জোর করে অন্য জনের চেক বই নিতে চেয়েছেন। ব্যাংকের ভিতরে ঢুকে ওই শিক্ষক ব্যাংক কর্মকর্তার চোখে আঘাত করে রক্তাক্ত করেছেন। ইতোমধ্যে এ বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বরকল মডেল থানার ওসি মফজল আহম্মদ খান বলেন, আহত ব্যাংক কর্মকর্তা এবং শিক্ষকের বক্তব্য নেয়া হয়েছে। আহত ব্যাংক কর্মকর্তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। থানায় এখনো কোন মামলা হয়নি। মামলা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: