আজ: ৫ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, ২০শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২১শে রজব, ১৪৪২ হিজরি, সকাল ৯:২৫
সর্বশেষ সংবাদ
জেলা সংবাদ, নারী ও শিশু নীলফামারীতে লম্পটের অত্যাচারে স্কুলছাত্রীর আত্মহনন

নীলফামারীতে লম্পটের অত্যাচারে স্কুলছাত্রীর আত্মহনন


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ০৩/০৩/২০১৯ , ৬:৫১ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জেলা সংবাদ,নারী ও শিশু


নীলফামারীর সৈয়দপুরে প্রতিবেশী এক লম্পটের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। সুমি রানী রায় (১৫) সৈয়দপুর বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের বাঙ্গালীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী এবং একই ইউনিয়নের ভুজারীপাড়ার দিনমজুর হরেন চন্দ্র রায়ের মেয়ে।

শনিবার সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের ভুজারীপাড়ার এই ঘটনায় নিহত সুমি মা বাদী রাতেই সৈয়দপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

সুমি রানী রায়ের মা ময়না রায় (৪২) জানায়আমি ও আমার স্বামী দিনমজুর । মানুষের জমিতে কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালাই। আমার তিন মেয়ে। এর মধ্যে সুমি রায় (১৫) সবার ছোট। সে বাঙ্গালীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছিল।

দীর্ঘ দিন থেকে আমার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল গ্রামের দিজেন্দ্র নাথ রায়ের ছেলে দুই সন্তানের জনক সূর্য রায় (৩০)। এ নিয়ে তাকে বেশ কয়েক বার শাসন করা হয়েছে। পাশাপাশি তার পরিবারকেও জানানো হয়েছে। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। বরং সে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। স্কুল থেকে যাওয়া আসার সময় রাস্তায় মেয়ের হাত ধরে টানা টানি করত সে।’

শনিবার সকাল থেকে আমরা স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই গ্রামের মানুষের জমিতে কাজ করছিলাম। বাড়ি ফাঁকা ছিল। দুপুর আড়াই টার দিকে আমার মেয়ে বাড়িতে গোসল খানায় গোসল করছিল। সেই সুযোগে সূর্য আমার মেয়েকে গোসল খানায় একা পেয়ে জাপটিয়ে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে মেয়ের চিৎকার শুনে আমরা স্বামী-স্ত্রী ও আমাদের ছেলে বকুল এবং প্রতিবেশীরা বাড়িতে আসলে লম্পট সূর্য পালিয়ে যায়। তাকে ধরতে আমার ছেলে ধাওয়া করে। এমন লজ্জা সহ্য করতে না পেয়ে আমার মেয়ে সুমি নিজ ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় ঘরের দরজা ভেঙে দেখি সে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের চালায় ঝুলছে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে মারা যায়।’

এঘটনায় আমি সৈয়দপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছি। আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই। আমার মেয়ের মতো আর কোন মেয়েকে এমন ভাবে জীবন দিতে না হয়।’

সুমির পিসি জোসনা রানী জানানসুমি প্রায় আমাদের অভিযোগ করতো যে  সূর্য তাকে প্রতিনিয়ত  উত্ত্যক্ত করত এবং নানা কু প্রস্তাব দিতো।’

গ্রামবাসী জানায়, ‘সূর্য  লম্পট। বছর খানেক আগে  গ্রামের এক মেয়েকে বাড়িতে একা পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিল। এ নিয়ে সালিস হয়েছিল। তার স্ত্রী-সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে তাকে ক্ষমা করা হলেও সে তার স্বভাব পরিবর্তন করেনি। শনিবার একই ভাবে সে স্কুলছাত্রী সুমিকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। সূর্যের কারণে সুমি আত্মহত্যা করলো। আমরা সবাই ওই লম্পটের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চাই।’

এদিকে সূর্যের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে তার মা দেবী বালা রায় (৫৫) বলেন,‘ সুমির বাবা-মা কিংবা পরিবারের কেউ কোন দিন সূর্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেনি।’

সূর্য রায়ের স্ত্রী লিপি রাণী রায় বলেন,‘আমার স্বামী নির্দোষ। তাকে ফাঁসানো হয়েছে। গ্রামের কয়েকজন মানুষ সত্যকে আড়াল করে পুলিশসহ সকলকে মিথ্যা কথা বলছে। আমার স্বামী এমন খারাপ কাজ কখনো করতে পারে না।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সৈয়দপুর সার্কেল) অশোক কুমার পাল বলেনখবর পেয়ে পুলিশ শনিবার রাতে সুমির মরদেহ উদ্ধার করে। রোববার দুপুরের নীলফামারী জেলা মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে  বিকেলে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার রাতেই  নিহত স্কুলছাত্রী মা ময়না রাণী বাদী হয়ে সৈয়দপুর থানায় ৩০৬ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। আসামি সূর্য্য রায়কে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান চলছে।

তিনি আরো জানান, ‘পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে সূর্য্য রায় একজন লম্পট চরিত্রের। এর আগেও সে বেশ কটি ঘটনা ঘটিয়েছে।’

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: