আজ: ৭ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৩রা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি, রাত ৯:৫৫
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয়, প্রধান সংবাদ বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী আজ

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী আজ


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ২৬/০২/২০১৯ , ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: জাতীয়,প্রধান সংবাদ


বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৮৩ তম জন্মদিন মঙ্গলবার। তাঁর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ ট্রাস্ট ও নড়াইল জেলা প্রশাসন আজ নূর মোহাম্মদ নগর ও বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তনে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।

আরো জানা গেছে, এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কোরআনখানি, র‍্যালি, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচিত্র প্রদর্শনী, স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, গার্ড অব অনার ও, স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা। আর প্রধান বক্তা হিসেবে থাকবেন পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন পিপিএম।

প্রসঙ্গত, নূর মোহাম্মদ ১৯৫৯ সালের ১৪ মার্চ তৎকালীন ইস্ট পাকিস্থান রেজিমেন্টে যোগদান করেন এবং কৃতিত্বের সঙ্গে প্রশিক্ষণ শেষে একই বছরের ৩ ডিসেম্বর দিনাজপুর সেক্টরে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর ১৯৭০ সালের ১ জুলাই যশোর সেক্টর হেড কোয়ার্টারে বদলি হয়ে আসেন। ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধকালে ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ ৮ নং সেক্টরে সাবেক ইপিআর ও বাঙালি সেনাদের নিয়ে গঠিত একটি কোম্পানিতে যোগদান করেন।

একাত্তরের ৫ সেপ্টেম্বর নূর মোহাম্মদ যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গোয়ালহাটি গ্রামের সম্মুখ যুদ্ধে একটি টহলের নেতৃত্ব দিচ্ছেলেন। সঙ্গী ছিল আরো ৪ জন সৈন্য। তারা পার্শ্ববর্তী ছুটিপুর পাক হানাদার বাহিনীর ঘাঁটির ওপর নজর রাখছিলেন। পাকবাহিনী টের পেয়ে বিপদজনক অবস্থার মুখে টহলদারী মুক্তিযোদ্ধাদের ফাঁদে ফেলার পরিকল্পনা করে। হানাদারদের এই পরিকল্পনা বুঝে উঠতেই নূর মোহাম্মদ সঙ্গীদের নিয়ে হানাদার বাহিনীর ঘাঁটি আক্রমণ করেন। শুরু হয় সম্মূখ যুদ্ধ। মারাত্মক আহত হন সঙ্গী নান্নু মিয়া। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে হানাদারদের মর্টার শেল মারাত্মকভাবে জখম করে নূর মোহাম্মাদকে।

মৃত্যু আসন্ন বুঝে তিনি সিপাহী মোস্তফা কামালের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিয়ে আহত নান্নু মিয়াকে নিয়ে সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বলেন। উপায়োন্তর না পেয়ে তারাও তাই করলেন, কিন্তু একটি এসএলআর রেখে যান মারাত্বক আহত কমান্ডারের কাছে। নূর মোহাম্মাদ মৃত্যুপথযাত্রী হয়েও এসএলআর নিয়ে শেষবারের মত ঝাঁপিয়ে পড়েন হানাদারদের ওপর সেখানেই তিনি শহীদ হন। পরবর্তীতে নিকটবর্তী একটি ঝোঁপের মধ্যে এই বীরের মৃতদেহ পাওয়া যায়।

Comments

comments

Close