আজ: ১৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৫ই শাওয়াল, ১৪৪২ হিজরি, রাত ৪:২৫
সর্বশেষ সংবাদ
চটগ্রাম বিভাগ, জাতীয়, প্রধান সংবাদ কাল কর্ণফুলী টানেল নির্মাণের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

কাল কর্ণফুলী টানেল নির্মাণের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ২৩/০২/২০১৯ , ১০:২২ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: চটগ্রাম বিভাগ,জাতীয়,প্রধান সংবাদ


চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রামের লুসাই কন্যা কর্ণফুলী নদীর তলদেশে ৯ হাজার ৮৮০ কোটি টাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে ৩ হাজার ৫ মিটার দীর্ঘ টানেল।
এই প্রকল্পের উদ্বোধন করতে আগামী রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামে আসছেন। একই সাথে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নগরের লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত চার লেনের ১৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। সেটিরও উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। কম্পিউটারের সাহায্যে বোরিং কার্যক্রম উদ্বোধন এবং টানেল গেটের কাছে বোরিং পয়েন্টে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে তৈরি করা হচ্ছে ৪৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৮ ফুট প্রস্থের নৌকা আকৃতির মঞ্চ। পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ কর্তৃপক্ষের আয়োজনে আগামী রোববার এই মঞ্চে সুধী সমাবেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিন উপমহাদেশের প্রথম টানেল নির্মাণ প্রকল্পের বোরিং কার্যক্রম, লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলার পাইলিং প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে এই সমাবেশে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন বলেন, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের বোরিং কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী চউক এর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের কাজও উদ্বোধন করবেন। এরপর পতেঙ্গা সৈকত এলাকায় সুধী সমাবেশে ভাষণ দেবেন।
এ দিকে কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী হারুনুর রশিদ চৌধুরী জানান, দেড় হাজার মানুষ মঞ্চের সামনে বসতে পারবেন। জেলা প্রশাসন থেকে আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা তৈরি করে তাদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার সরেজমিনে সরেজমিনে দেখা যায়, সুধী সমাবেশের পাশে আউটার রিং রোডের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত থেকে খেজুরতলা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় জনসমাগমের প্রস্তুতির কার্যক্রম চলছে। এই এলাকার রাস্তার উপর মাটি সমানের কাজ চলছে। সমাবেশে প্রবেশের জন্য মুসলিমাবাদ ও র‌্যাব -৭ অফিসের পাশ দিয়ে খেজুরতলা অংশে রিং রোডে ওঠার সুযোগ রাখা হয়েছে।
এ জন্য দীর্ঘ এলাকায় সাউন্ড সিস্টেম এবং প্রজেক্টেরও বসানো হবে। তবে সাধারণ এসব মানুষ সুধী সমাবেশের প্যান্ডেলের নিচে আসতে পারবে না। শুধুমাত্র আমন্ত্রিত অতিথিরাই সমাবেশ স্থলে উপস্থিত হতে পারবেন।
এদিকে টানেল নির্মাণ কার্যক্রম উদ্বোধনের স্পটে গিয়ে দেখা যায়, টানেল বোরিং মেশিনটি ইতিমধ্যে মাটির নিচে স্থাপন করা হয়েছে । প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে একটি গেইটও নির্মাণ করেছে টানেল কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে ৯ হাজার ৮৮০ কোটি টাকায় নির্মিত হতে যাচ্ছে এই টানেল। নদীর তলদেশের সর্বনিম্ম ৩৬ ফুট (১২ মিটার) থেকে সর্বোচ্চ ১০৮ ফুট (৩৬ মিটার) গভীরে স্থাপন করা হবে দুটি টিউব। একেকটি টিউবের চওড়া হবে ১০ দশমিক ৮ মিটার (৩৫ দশমিক ৪৩ ফুট) এবং উচ্চতা হবে ৪ দশমিক ৮ মিটার। আর এই দুই টিউবে যুক্ত হবে নদীর দুই তীর। ৩ হাজার ৫ মিটার দীর্ঘ টানেলটি নেভাল একাডেমি পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে নদীর অপর পাড়ে কাফকো ও সিইউএফএল পয়েন্টের মাঝখান দিয়ে বের হবে।
অপরদিকে লালখান বাজার থেকে বিমান বন্দর পর্যন্ত চার লেনের ১৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভার প্রকল্পটি ২০১৭ সালের ১১ জুলাই একনেকে অনুমোদন পায়। গত বছর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স র‌্যাবনকিন জেবি ২ হাজার ৮৫৪ কোটি ৫৬ লাখ ১২ হাজার ১১৩ টাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের সয়েল টেস্টের কাজ শেষ এখন পাইলিংয়ের কাজ শুরু করার কথা।
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠা-নামার কী সুবিধা থাকছে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক বলেন, সবগুলো জংশনে ওঠা-নামার সুবিধা থাকছে। কিন্তু তারপরও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আবারো সার্ভে করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশনা দেবে। সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, ৩৫ থেকে ৪৫ মিটার পর পর প্রতিটি পিলার বসবে। সেই হিসেবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ৪৫০টি পিলার বসছে। ইতিমধ্যে এসব পয়েন্টে সয়েল টেস্টের কাজ প্রায় শেষ। চলতি মাসেই আমরা পিলারের পাইলিং ও লোড টেস্টের কাজ শুরু করবো।

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: