আজ: ৬ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২রা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি, রাত ৮:৪৪
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয়, প্রধান সংবাদ বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি পেলেন ঝিনাইদহের দুই নারী

বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি পেলেন ঝিনাইদহের দুই নারী


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১৬/০২/২০১৯ , ৫:৪৭ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জাতীয়,প্রধান সংবাদ


মুক্তিযুদ্ধে সবকিছু হারিয়ে বাংলাদেশ পেয়েছিলেন। আর যুদ্ধের পর তাদের যুদ্ধ করতে হয়েছে সমাজের বিভিন্ন মানুষের সাথে। ঘুরতে হয়েছে মানুষের দ্বারে দ্বারে। অবহেলিত হয়েছেন সমাজের প্রভাবশালীদের কাছে। অবশেষে স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর এই দুই নারীকে ‘বীরাঙ্গনা’ স্বীকৃতি দিল রাষ্ট্র।

তারা হলেন- ঝিনাইদহ শহরের কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা বৃদ্ধা জয়গুন নেছা ও কালিগঞ্জ উপজেলার মোল্লাকোয়া গ্রামের ফাতেমা বেগম।

মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগিদের হাতে নির্যাতিত হওয়ায় জয়গুন নেছা ও ফাতেমা বেগমসহ ১০ জন বীরাঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়ে সম্প্রতি গেজেট জারি করেছে সরকার। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৬০ তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বীরাঙ্গণারা এ স্বীকৃতি পেলেন। এ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়া বীরাঙ্গণার সংখ্যা হলো ২৭১ জন।

ঝিনাইদহ শহরের কাঞ্চনগর পাড়ার বীরাঙ্গনা স্বীকৃতি পাওয়া জয়গুন নেছা জানান, স্বাধীনতা যুদ্ধে স্বামী হাবিবুর রহমান ও সতিনের মেয়ে হাসিনা খাতুনকে হারিয়েছেন তিনি। পাক সেনারা তাদের ধরে নিয়ে গিয়ে আর ফেরত দেয়নি। নিজের আর পরিবারের সদস্যদের ওপর পাক বাহিনীর পাশবিক নির্যাতন ও বর্বরতার সেই মুহূর্তগুলোর কথা মনে হলে এখনো গাঁ শিউরে ওঠে তার। শরীরে দগদগে সেই ভয়াল স্মৃতি চিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা প্রমাণে এই বৃদ্ধ বয়সে সার্টিফিকেট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে বিভিন্ন সময় ছুটেছেন এ অফিস থেকে সে অফিস। অবশেষে এ বছর সরকার তার স্বীকৃতি দিয়েছে।

তিনি বলেন, এতদিন পর হলেও আমি বীরাঙ্গনা সম্মান পেয়েছি। এখন মারা গেলেও আমি শান্তি পাব।

আরেক বীরাঙ্গনা ফাতেমা বেগম জানান, ৭১ সালে যুদ্ধের সময় বানুড়িয়া গ্রামের স্বামী সিরাজুল ইসলামের বাড়ি থেকে পিতার বাড়ি যশোরের চৌগাছা উপজেলার চন্ডিপাড়া গ্রামে যাচ্ছিলেন। পথে কালীগঞ্জ উপজেলার মাহমুদপুর এলাকা থেকে পাক-হানাদার বাহিনীরা তাকে ধরে নিয়ে যায়। সেখানে কয়েকদিন আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতন চালায়। সেখান থেকে ফিরে আসার পর স্বামী সিরাজুল তাকে গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে কালীগঞ্জ উপজেলার মোল্লাকোয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা শুকুর আলী তাকে বিয়ে করেন। দীর্ঘদিন ধরে তার স্বীকৃতি দাবি করে বিভিন্ন মহলের ঘুরেছেন। সমাজের কর্তাদের কাছে গেলে তারা অবহেলা করেছেন। অবশেষে স্বীকৃতি পাওয়ায় আবেগ আপ্লুত হয়ে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করেন তিনি।

Comments

comments

Close