আজ: ৬ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২রা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি, রাত ৮:২৬
সর্বশেষ সংবাদ
অপরাধ সাটু‌রিয়ায় তরুণী ধর্ষণের ঘটনায় ২ এসআই’র বিরুদ্ধে মামলা

সাটু‌রিয়ায় তরুণী ধর্ষণের ঘটনায় ২ এসআই’র বিরুদ্ধে মামলা


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১২/০২/২০১৯ , ৯:০০ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: অপরাধ


মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তরুণীকে ধর্ষণ ও জোর করে ইয়াবা সেবন অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশের তদন্ত কমিটির সদস্যরা।
অবশেষে ওই তরুণী বাদী হয়ে সাটুরিয়া থানায় অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছে।
সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে মামলাটি দায়ের করা হয়।
মামলার আসামিরা হলো, সাটুরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেকেন্দার হোসেন ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মাজহারুল ইসলাম।
এর আগে রোববার (১০ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ সুপারের কাছে নির্যাতনের শিকার ওই তরুণী লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার সকালে মানিকগঞ্জ সদর সার্কেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান ও ডিএসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হামিদুর রহমান সিদ্দীকীকে নিয়ে ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি করেন পুলিশ সুপার। তার অা‌গে শ‌নিবার এ ঘটনায় মা‌নিকগঞ্জ পুলিশ সুপারের কাছে মৌ‌খিক অভিযোগ দায়েরের পর তাৎক্ষণিক ওই অ‌ভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়।
মানিকগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান জানান, তদন্ত কমিটির কাছে নির্যাতনের শিকার ওই তরুণী তার ওপর নির্যাতনের বর্ণনা দেন। দিনভর প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে ওই তরুণী পুলিশ সুপারের কাছে যে অভিযোগ করেছেন তার সত্যতা রয়েছে।
এ ব্যাপারে ওই তরুণী সাটুরিয়া থানায় এসআই সেকেন্দার ও এএসআই মাজহারুলকে আসামি করে মামলা করেছেন। মামলাটি তদন্ত করবেন সাটুরিয়া থানার (ওসি তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ।
ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণের জন্য ওই তরুণীর মেডিকেল পরীক্ষাসহ প্রয়োজনে ডিএনএ টেস্ট করা হবে।
সাটুরিয়া থানার ওসি আমিনুর ইসলাম জানান, সাটুরিয়া থানার এসআই সেকেন্দার ও এএসআই মাজহারুল বর্তমানে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) রিফাত রহমান শামিম সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা আড়াইটার দিকে সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ বলে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্ত কমিটির সদস্যদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের তদন্ত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে ওই তরুণী এবং এ ঘটনায় জড়িতদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তদন্তে প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। অপরাধ করলে কোনো ভাবে ছাড় পাওয়ার সুযোগ নেই।
উল্লেখ্য, মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপ‌জেলায় এক তরুণীকে দুই দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে সাটু‌রিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেকেন্দার হোসেন ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মাজহারুল ইসলাসের বিরুদ্ধে।
অস্ত্রের মুখে ওই তরুণীকে মাদক সেবনেও বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়ে। এ সময় পাশের আরেকটি রুমে আটকে রাখা হয় তরুণীর খালাকে।
এ ঘটনায় মা‌নিকগঞ্জ পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দায়েরের পর তাৎক্ষণিক ওই অ‌ভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়ে।
নির্যাত‌নের শিকার ওই তরুণীর খালা জানায়, সাটুরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসঅাই) সেকেন্দার হোসেন আশুলিয়া থানায় কর্মরত থাকার সময় তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা ধার নিয়ে জমি কেনে। জমি বিক্রির লাভের অংশ তাকে দেওয়ার কথা ছিল। সেই হিসাবে তিনি সেকেন্দার হোসেনের কাছে প্রায় তিন লাখ টাকা পাবে। কিন্তু টাকা শোধ না করে সেকেন্দার তাকে ঘুরাতে থাকে। সাটুরিয়া থানায় বদলি হওয়ার পরও তিনি সেকেন্দারের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সে তার এক ভাগ্নিকে (২০) সঙ্গে নিয়ে সাটুরিয়া থানায় যায়। সেখানে সেকেন্দার তাকে টাকা দেওয়া হবে জানিয়ে ডাকবাংলোতে নিয়ে যায়। সন্ধ্যার পর সাটুরিয়া থানার এএসআই মাজহারুলকে সঙ্গে নিয়ে ডাক বাংলোতে যায় সেকেন্দার।
সে অা‌রো জানায়, সেখানে দুই পুলিশ কর্মকর্তা টাকা দিতে অস্বীকার করে উল্টো হুমকি দেন। পরে তারা ডাকবাংলোর একটি কক্ষে ইয়াবা সেবন করে ও তার ভাগ্নিকে জোর করে ইয়াবা সেবন করায়। তারা তার ভাগ্নিকে সারারাত আটকে রেখে ধর্ষণ করে। পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে টাকা দেওয়ার কথা জানায় এসআই সেকেন্দার। এ জন্য দুই নারীকে বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়। টাকার জন্য তারা ওই ডাকবাংলোতেই অপেক্ষা করে। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হওয়ার পর ওই দুই কর্মকর্তা সেখানে পৌঁছায়। কিন্তু ওই সময়েও তাদের কোনো টাকা দেননি এসআই সেকেন্দার। বরং আগের রাতের মতোই তারা পাওনাদারের ভাগ্নিকে ধর্ষণ করে। পরে শুক্রবার সকালে ৫ হাজার টাকা হাতে দিয়ে তাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেয় এসআই সেকেন্দার ও এএসআই মাজহারুল।
নির্যাতনের শিকার তরুণী বলেন, প্রতিবেশী খালার সঙ্গে তিনি সাটুরিয়া গিয়েছিল। তাদের সেদিনই ফিরে আসার কথা থাকলেও দুই পুলিশ কর্মকর্তা তাদের আটকিয়ে রাখে। তারা অস্ত্রের মুখে তাকে মাদক সেবন করানোর পর ধর্ষণ করে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী তরুণী। ওই সময় ঘটনা প্রকাশ করলে গুম করার হুমকিও দিয়েছে পুলিশ কর্মকর্তারা। শুক্রবার সকালে সেখান থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে রোববার মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপারের কাছে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।

Comments

comments

Close