আজ: ৬ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ২১শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২২শে রজব, ১৪৪২ হিজরি, রাত ১২:৪৭
সর্বশেষ সংবাদ
জেলা সংবাদ, ঢাকা বিভাগ গাজীপুরের শ্রীপুরে কিশোর শ্রমের কারখানায় বেতন বৃদ্ধির আন্দোলন

গাজীপুরের শ্রীপুরে কিশোর শ্রমের কারখানায় বেতন বৃদ্ধির আন্দোলন


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ০৯/০২/২০১৯ , ১০:৩৩ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জেলা সংবাদ,ঢাকা বিভাগ


কারখানার অধিকাংশ শ্রমিকের গড় বয়স ১৮ বছরের নিচে। দীর্ঘদিন ধরেই কম বেতনে শিশু ও কিশোরদের কারখানায় নিয়োগ দিয়ে কাজ করিয়ে আসছেন মালিকপক্ষ।

অতিরিক্ত শ্রম বিক্রি করেও নায্য মজুরি না পাওয়ায় আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছে সিরাজ সাইকেল ইন্ডাস্ট্রিজ নামের এক সাইকেল কারখানার শিশু ও কিশোর শ্রমিকরা।

গাজীপুরের শ্রীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে মুলাইদ এলাকায় এই কারখানার শ্রমিকরা সরকারি বিধি অনুযায়ী বেতন বৃদ্ধিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার জন্য শনিবার সকাল থেকে কর্মবিরতি পালন শেষে বিক্ষোভ করে। পরে থানা পুলিশ এসে কিশোর শ্রমিকদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে শান্ত হয় তারা।

কারখানার শ্রমিকদের অভিযোগ, এই কারখানায় কোনো শ্রম আইন নেই। কম বেতনের কাজের জন্য এখানে শিশু ও কিশোরদের বেছে নেয়া হয়। বর্তমানে এই কারখানায় কর্মরত আছে প্রায় সাড়ে তিনশ শ্রমিক।

এখানে প্রতিদিন বাধ্যতামূলকভাবে ১২ ঘণ্টা করে শ্রমিকদের কাজ করানো হয়। নেই কোনো ওভারটাইমের ব্যবস্থা। কোনো শ্রমিক অসুস্থ হলে নিজে দায়িত্বে চিকিৎসা করতে হয়। সরকার বিভিন্ন সময় শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি করলেও এই কারখানায় শ্রমিকের বেতন বাড়ানো হয়নি। বর্তমানে শ্রমিকদের তিন হাজার টাকা করে বেতন দেয়া হয়।

কিশোর শ্রমিক আলীর ভাষ্য, চার মাস ধরে এই কারখানায় কাজ করছি, আমার বেতন সাড়ে তিন হাজার টাকা। এক সপ্তাহ আগে মেশিনের ভেতর আমার হাত চলে যায়। কারখানা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালেও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেনি। পরে অন্যান্য শ্রমিক চাঁদা তুলে আমার হাতের চিকিৎসা করায়।

SRiPUR(GAZiPUR-(2)

একই কারখানার শ্রমিক রিয়াদ জানায়, আমাদের দিয়ে একনাগাড়ে ১২ ঘণ্টা কাজ করালেও ওভারটাইম দেয়া হয় না। তিন হাজার টাকা বেতন হলেও মালিক দিতে চায় না। কর্ম-পরিবেশের অবস্থা খুব খারাপ থাকায় অপ্রাপ্তবয়স্করা কাজ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

নারী শ্রমিক শেফালীর ভাষ্য, সরকারি আদেশ অনুযায়ী অন্যান্য কারখানায় নিয়মিত বেতন-ভাতা বৃদ্ধি হলেও আমাদের কারখানায় বেতন বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। স্বল্পবেতনের কাজ করে এখন সংসার আর চলে না। তাই আমরা আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছি।

এ বিষয়ে কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইউসুফ হাসান কারখানায় শিশু ও কিশোর শ্রমের কথা স্বীকার করে বলেন, আমরা কাগজপত্রের মাধ্যমে বয়স যাচাই করে শ্রমিক নিয়োগ দেই। বাস্তবে বয়স নির্ণয় না করায় হয়ত ভুলবশত অপ্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিক নিয়োগ হয়েছে। শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে বসে বিষয়টির সমাধান করা হবে।

শ্রীপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মালেক বলেন, সকাল থেকে কর্মবিরতি পালনের মাধ্যমে কিশোর শ্রমিকরা কারখানার অভ্যন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করছিল। এ সময় মালিকপক্ষ বিক্ষোভরত শ্রমিকদের নিরাপদ কর্ম-পরিবেশ ও বেতন বৃদ্ধির আশ্বাস দেয়ায় কাজে ফিরে যায় তারা।

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: