আজ: ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২২শে সফর, ১৪৪৩ হিজরি, সকাল ৮:৫০
সর্বশেষ সংবাদ
চটগ্রাম বিভাগ, জাতীয়, প্রধান সংবাদ, রাজনীতি চট্টগ্রামের ১২ আসনেই পুরনো মুখ, চমক শুধু মহিউদ্দিন পুত্র নওফেল

চট্টগ্রামের ১২ আসনেই পুরনো মুখ, চমক শুধু মহিউদ্দিন পুত্র নওফেল


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ২৫/১১/২০১৮ , ১০:০৮ অপরাহ্ণ | বিভাগ: চটগ্রাম বিভাগ,জাতীয়,প্রধান সংবাদ,রাজনীতি


চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য রয়েছেন ১২ জন। বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের এসব সংসদ সদস্যের সবাই একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য দলের মনোনয়ন পেয়েছেন। শুধু জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ভাগ্নি জামাই বর্তমান সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী জিয়া উদ্দীন আহমেদ বাবলু নিজ আসন থেকে ছিটকে পড়েছেন।

চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে (নগরের কোতোয়ালি-বাকলিয়া) মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহীবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তিনি প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে। জাপার ভিআইপি নেতা এমপি বাবলুর আসনে আওয়ামী লীগের তরুণ নেতা নওফেলের মনোনয়ন এখন চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘টক অব দ্য টাউন’। আওয়ামী লীগের নেতাদের মতে, চট্টগ্রামে নওফেলের মনোনয়ন এবারের নির্বাচনে চমক। নওফেল দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে নগরের কয়েকটি এলাকায় আনন্দ মিছিল হয়েছে।

জানা যায়, চট্টগ্রাম-৯ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে নওফেলকে মনোনয়ন দেওয়ায় জাতীয় পার্টির বাবলুকে কক্সবাজার-৩ আসনে মনোনয়ন দেওয়ার কথাবার্তা চলছে। সে ক্ষেত্রে ওই আসনের আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলের কপাল পুড়তে পারে।

এ ব্যাপারে জানতে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী জিয়া উদ্দীন আহমেদ বাবলু এমপির সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। মনোনয়ন বিষয়ে কোনো উত্তর না দিয়ে বাবলু ফোন সংযোগ কেটে দেন।

মনোনয়নবঞ্চিত কক্সবাজার-৩ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘আসনটি জাতীয় পার্টির জিয়া উদ্দীন আহমেদ বাবলুকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

প্রথমবারের মতো মনোনয়ন পাওয়া আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহীবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্ত। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দাবি ছিল। নেত্রী তৃণমূলসহ দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করেছেন। আমরা নেত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব নিজ কাঁধে নিয়ে ১০ বছর যে উন্নয়ন করেছেন তা অতীতের অন্য কোনো সরকারের আমলে হয়নি। উন্নয়নের সুফল আমরা পাব। যদি জনগণ আমাকে নির্বাচিত করে সিটি করপোরেশন, সিডিএসহ চট্টগ্রামের সব সেবা সংস্থাকে নিয়ে অসমাপ্ত কাজ আমরা শেষ করতে পারব।’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গত ৭ এপ্রিল চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘি মাঠে আয়োজিত জনসভায় চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে বাবলুকে একাদশ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছিলেন। ইতিমধ্যে জাতীয় পার্টি সরকার দলের কাছে অন্যান্য আসনের পাশাপাশি চট্টগ্রামের এ আসনে বাবলুকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়।

তবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বিশেষ সহকারী, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মহাসচিব জিয়া উদ্দীন আহমেদ বাবলুকে এবারের নির্বাচনে জোট থেকে আসনটি ছেড়ে না দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভা-সমাবেশ এবং বর্ধিত সভাগুলোতে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা জোর দাবি জানিয়ে আসছিল। এসব দলীয় কর্মসূচিগুলোতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে তৃণমূল নেতারা প্রকাশ্যে বাবলুর সমালোচনা করে আসছিলেন। দল থেকে প্রার্থী দেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম আর থাকবে না বলেও দলীয় নেতারা বলে আসছিলেন।

এ অবস্থায়  রবিবার মনোনয়ন পেলেন আওয়ামী লীগের নওফেল। এ ছাড়া চট্টগ্রামের অন্য তিনটি আসনে কাউকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাউজান পৌরসভার মেয়র দেবাশীষ পালিতের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় সংসদ সদস্য আছেন ১২ জন। তাঁদের সবাই দল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। এ ছাড়া অন্য চারটি আসনের মধ্যে দুটিতে জাতীয় পার্টি, একটি জাসদ এবং একটিতে তরীকত ফেডারেশনের এমপি রয়েছেন। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির চট্টগ্রাম-৯ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-নগরের দুটি ওয়ার্ড), চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি), চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-নগর আংশিক) আসন তিনটিতে আওয়ামী লীগ থেকে এখনো কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।

গতকাল দলীয় মনোনয়নের চিঠি পাওয়া চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা হলেন চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) সংসদীয় আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) মাহফুজুর রহমান মিতা, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড-নগরের পাহাড়তলী) আসনে মো. দিদারুল আলম, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) সাবেক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, চট্টগ্রামে-১০ (ডবলমুরিং, হালিশহর) সাবেক মন্ত্রী ডা. আফছারুল আমীন, চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) এম এ লতিফ, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) সামশুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া আংশিক) আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী ও চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। তাঁরা সবাই আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য। এ ছাড়া মহীবুল হাসান চৌধুরী নওফেল আওয়ামী লীগ থেকে চট্টগ্রাম-৯ আসনে মনোনয়ন পান।

এদিকে গতকাল রাতে গুঞ্জন ওঠে চট্টগ্রাম-১০ ও চট্টগ্রাম-১১ আসন দুটিতে আওয়ামী লীগ থেকে দুজন করে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমান এমপির পাশাপাশি নতুন একজন করে রয়েছেন। তবে ওই দুই আসনে যে দুজনকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তাঁদের নাম নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: