আজ: ২২শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং, শুক্রবার, ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৫শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী, সন্ধ্যা ৬:১৩
সর্বশেষ সংবাদ
মতামত, সম্পাদকীয় ১৫ অগস্টে শুধু বঙ্গবন্ধু নয়, হত্যা করা হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেও

১৫ অগস্টে শুধু বঙ্গবন্ধু নয়, হত্যা করা হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেও


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১৫/০৮/২০১৮ , ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: মতামত,সম্পাদকীয়


অঞ্জন রায়ঃ

তিনি নিজেই ৭ মার্চ ১৯৭১ তার ঐতিহাসিক ভাষণে বলেছিলেন, “রক্তের দাগ এখনও শুকায়নি।” আরও বলেছিলেন, “আপনারা রক্ত দিয়ে আমাকে ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্ত করে এনেছিলেন। সে দিন এই রেসকোর্সে আমি বলেছিলাম, রক্তের ঋণ আমি রক্ত দিয়ে শোধ করব; মনে আছে? আজও আমি রক্ত দিয়েই রক্তের ঋণ শোধ করতে প্রস্তুত।” হ্যাঁ, সে দিন ৭ মার্চের ভাষণের মধ্যে দিয়েই নিরস্ত্র বাঙালি হয়ে উঠেছিল সশস্ত্র। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সেই আহ্বান— “এ বারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম। এ বারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম।” স্ফুলিঙ্গের মতোই ছড়িয়ে পড়েছিল দেশজুড়ে। বাঙালি তার হাত ধরেই স্পর্শ করেছিল স্বাধীন একটি দেশের মাটি।

মাত্র ৪ বছর। এর মধ্যেই ষড়যন্ত্রের শেকড় পৌঁছে গেল অনেক গহিনে। এক দিকে বিদেশি মদত আর অন্য দিকে দেশের মাঝে পাকিস্তানপন্থীদের মদতের সঙ্গে উগ্র বামপন্থীদের খতমের রাজনীতি। একই সঙ্গে দেশের মাটিতে চলছে পাকিস্তানি সংস্থার ভয়াল তৎপরতা। তারা চায় বাংলাদেশের গতি বদলে দিতে, আর সেই চাওয়ার সবচেয়ে শক্ত প্রতিপক্ষের নাম শেখ মুজিবুর রহমান। সে কারণেই সদ্য স্বাধীন দেশটির জন্ম হল যাঁর হাত ধরে, তাঁকেই হত্যার ছক কষল ঘাতকেরা। দেশি ও বিদেশি যৌথ ষড়যন্ত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৫ অগস্ট নৃংশস ভাবে খুন হলেন। শুধু তিনিই নন, ঢাকা শহরের ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ফজিলাতুন্নেসা, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও দশ বছরের শিশু শেখ রাসেল, দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামালও নিহত হন ঘাতকের বুলেটে।

সেনাবাহিনীর কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল উচ্চাভিলাষী সদস্য ১৯৭৫-এর ১৫ অগস্ট ভোর রাতে বাংলাদেশের স্থপতিকে পরিবার-সহ হত্যা করে। সে দিন সেই নির্মম হত্যাকাণ্ড থেকে বিদেশে থাকাতে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। এই দিনে প্রাণ হারান বঙ্গবন্ধুর বেশ কয়েক জন স্বজন এবং রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিলউদ্দিন আহমেদ ও কর্মরত কয়েক জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা, কর্মচারী।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সঙ্গেই যে চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল, তার একদম উল্টো দিকে পথচলা শুরু হয় সদ্য স্বাধীন দেশটির। প্রশাসন থেকে রাজনীতি, সব জায়গায় পাকিস্তানি ভাবধারার শুরু হয় জয়জয়কার। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাংলাদেশ বেতারের নাম পাল্টে হয় রেডিও বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধে যে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানটি ছিল রণধ্বনি, সেটি বদলে পাকিস্তান জিন্দাবাদের সুরে নতুন স্লোগান আসে— বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত, খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগের আপরাধের ১১ হাজার যুদ্ধাপরাধী জেল থেকে বেরিয়ে আসে এক বছরের মধ্যেই। উল্টো দিকে মুক্তিযোদ্ধা ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ যাঁদের স্বপ্ন, তাঁদের স্থান হতে থাকে কারাগার।

Comments

comments

Close