আজ: ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ১২ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০শে সফর, ১৪৪৩ হিজরি, সকাল ৯:৫৭
সর্বশেষ সংবাদ
জেলা সংবাদ শাহজাদপুরে দুর্গম যমুনার চরে বাদাম চাষ

শাহজাদপুরে দুর্গম যমুনার চরে বাদাম চাষ


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ৩১/০৫/২০১৮ , ৫:৪৯ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জেলা সংবাদ


ফারুক হাসান কাহার, শাহজাদপুর ( সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা নদীর বিস্তীর্ণ বালুচরে এ বছর প্রায় ১ হাজার বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করা হচ্ছে। উপজেলার কৈজুরি, সোনাতুনি, গালা, জালালপুর ইউনিয়নের দুর্গম যমুনা নদীর চরে এ আবাদ বেশি হচ্ছে । এ ছাড়া পোতাজিয়া ও রূপবাটি ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী কিছু জমিতে এ বছর বাদাম চাষ করা হয়েছে। ফলন ভাল হওয়ায় বাদাম চাষিদের মুখে আনন্দের হাসি ফুটে উঠেছে।
মাকড়া, বানতিয়ার, ছোট চানতারা, বড় চানতারা, কুরসি, রাউতারা ও শেলাচাপড়ি গ্রামের নদী তীরবর্তী বেলে মাটির জমিতে এ ফসল বোনা হয়েছে। বাদাম চাষে খরচ নেই বললেই চলে। তাই দিন দিন এ সব চরে বাদামের চাষ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বানতিয়ার চরের বাদাম চাষি সানোয়ার হোসেন, সাদ্দাম হোসেন, কৈজুরীর শেখ ফরিদ ও হারেজ আলী জানান, চরের যে সব বালুর জমিতে অন্য কোন ফসল চাষ করা সম্ভব হয় না সে সব জমিতে সাধারণত বাদাম চাষ করে ভাল ফলন পাওয়া যায়। এ ছাড়া বাদাম চাষে সেচ ও নিরানি দিতে হয়না। সামান্য সার ও কিটনাশক ছিটিয়ে দিলেই ফলন ভাল হয়। এতে খরচও খুব কম হয়। অপর দিকে বাজারে বাদামের ব্যাপক চাহিদা থাকায় বেশি লাভ করা যায়। তাই গত কয়েক বছর ধরে শাহজাদপুরের যমুনা নদীর চর এলাকায় বাদাম চাষ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাদাম চাষ করে চরের কৃষকরা আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়ায় তারা স্বচ্ছল হয়ে উঠছেন। এ জন্য তারা বাদাম চাষে বেশি ঝুকে পড়েছেন।
এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মনজু আলম সরকার বলেন, আগামীতে শাহজাদপুরের চরে আরো বেশি জমিতে বাদাম চাষ হবে। আরো ভাল ফলন যাতে হয় সে জন্য বাদাম চাষিদের নানা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। ফলে এ বছর প্রতি বিঘা জমিতে ১৪ থেকে ১৫ মণ করে বাদাম উৎপাদন হবে। এতে কৃষকরা অর্থনৈতিক ভাবে বেশ লাভবান হবে। তিনি বলেন কৃষি অফিসের পরামর্শে মিল্কভিটার সাবেক চেয়ারম্যান হাসিব খান তরুণ ও শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এলিজা খান তাদের রাউতারা গ্রামের গোহালা ও ধলাই নদীর চরের সাড়ে ১২ বিঘা জমিতে এ বছর বাদাম চাষ করেছেন। ফলন ভাল পাওয়ায় তারা আগামীতে আরো বেশি জমিতে বাদাম চাষ করবেন বলে তিনি জানান।
সরেজমিনে মাকড়া ও বানতিয়ার চর ঘুরে দেখা যায়, যত দূর চোখ যায় বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে কেবল বাদাম ক্ষেত আর বাদাম ক্ষেত। বাদাম চাষি সবুজ মিয়া জানায়, সে তার ৪ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করছে। তার এ বালুর জমিতে অন্য ফসল না হওয়ায় প্রায় বছরই পতিত ভাবে পড়ে থাকত। এ বছর কৃষি অফিসের পরামর্শে সে বাদাম চাষ করছে। প্রথম বছরেই ফলন ভাল হওয়ায় সে খুবই খুশি হয়েছে। তাই আগামী বছর সে আরো বেশি পরিমাণ জমিতে বাদাম চাষ করবে বলে জানিয়েছে।

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: