আজ: ২২শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ৮ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি, সকাল ৮:৪১
সর্বশেষ সংবাদ
ধর্ম কথন রোজার নিয়ত, সাহরি ও ইফতারের মাসায়েল

রোজার নিয়ত, সাহরি ও ইফতারের মাসায়েল


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১৭/০৫/২০১৮ , ৩:৪৩ অপরাহ্ণ | বিভাগ: ধর্ম কথন


আরবিতে রোজাকে সাওম বলা হয়। এর আভিধানিক অর্থ বিরত থাকা। ইসলামের পরিভাষায় রোজা বলা হয়—রোজার উপযুক্ত ব্যক্তিকে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজার নিয়তে খানাপিনা, স্ত্রীসম্ভোগ এবং এসব সম্পর্কিত বিষয় থেকে বিরত থাকা। (উমদাতুলকারি : খ. ১০, পৃ. ৩৭৫, তাবয়ীনুল হাকাইক : খ. ২, পৃ. ১৪৫)

মুসলিম উম্মাহর ঐকমত্যে রমজানের রোজা ফরজ। রমজানের রোজা শরিয়ত সমর্থিত কারণ ছাড়া ছেড়ে দেওয়া কবিরা গুনাহ। (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৩-১৮৪, তাতার খানিয়া : খ. ৩, পৃ. ৩৫০)

রোজার নিয়তসংক্রান্ত মাসায়েল

♦ মুখে নিয়ত করা জরুরি নয়, অন্তরে নিয়ত করলেই যথেষ্ট হবে। তবে মুখে নিয়ত করা উত্তম। (ফতোয়াতে শামি : খ. ৩, পৃ. ৩৪৫)

♦ নিয়ত আরবিতে হওয়া জরুরি নয়। যেকোনো ভাষায় নিয়ত করা যায়। নিয়ত এভাবে করা যায়—আমি আজ রোজা রাখার নিয়ত করলাম। (জাওয়াহিরুল ফিকাহ : খ. ১, পৃ. ৩৭৮)

♦ সূর্য হেলে পড়ার দেড় ঘণ্টা আগ পর্যন্ত রমজানের রোজার নিয়ত করা বৈধ। তবে রাতে নিয়ত করাই উত্তম। (ফতোয়াতে তাতার খানিয়া : খ. ২, পৃ. ২৭০; আহসানুল ফাতওয়া : খ. ৪, পৃ. ৪৪৬; জাওয়াহিরুল ফিকাহ : খ. ১, পৃ. ৩৭৮)

♦ রমজানে রোজা রাখার উদ্দেশ্যে খাওয়াটাই নিয়ত। যদি কোনো কিছু খাওয়া অথবা পান করা না হয়, তাহলে সূর্য হেলে পড়ার দেড় ঘণ্টার আগেই নিয়ত করে নেবে। (ফতোয়ায়ে রহিমিয়া : খ. ৩, পৃ. ৩৭)

♦ যদি কেউ সূর্য হেলে পড়ার আগে নিয়ত করে যে আমি এই সময় থেকে রোজাদার, তাহলে তার রোজা শুদ্ধ হবে না। (ফতোয়ায়ে শামি : খ. ৩, পৃ. ৩৭)

♦ হানাফি মাজহাব মতে, নিয়ত ছাড়া রোজা শুদ্ধ হয় না। (তাতার খানিয়া : খ. ২, পৃ. ২৭০)

♦ প্রতিটি রোজার জন্য পৃথক পৃথক নিয়ত করা আবশ্যক। সব রোজার জন্য প্রথম রোজার নিয়ত যথেষ্ট নয়। (ফতোয়াতে রহিমিয়া : খ. ২, পৃ. ১৫)

♦ যে ব্যক্তি পুরো রমজানই রোজা রাখা বা না রাখার কিছুই নিয়ত করেনি, তাহলে সে কাজা করে নেবে। (ফতোয়ায়ে তাতার খানিয়া : খ. ২, পৃ. ২৭১)

সাহরিসংক্রান্ত মাসায়েল

♦ সাহরি খাওয়া সুন্নত। পেটে ক্ষুধা না থাকলে দু-একটি খেজুর খেয়ে নেওয়া উত্তম অথবা অন্য কোনো জিনিস খেয়ে নেবে। (হেদায়া : খ. ১, পৃ. ১৮৬)

♦ বিলম্বে সাহরি খাওয়া উত্তম। আগে খাওয়া হয়ে গেলে শেষ সময়ে কিছু চা, পানি, পান ইত্যাদি খেলেও সাহরির ফজিলত অর্জিত হবে। (হেদায়া : খ. ১, পৃ. ১৮৬)

♦ সন্দেহ হয়, এমন সময় সাহরি খাওয়া মাকরুহ। (আলমগীরী : খ. ১, পৃ. ২০১)

♦ সঠিক ক্যালেন্ডারে সুবহে সাদিকের যে সময় দেওয়া থাকে, তার দু-চার মিনিট আগে খানা বন্ধ করে দেবে। এক-দুই মিনিট আগে-পিছে হলে রোজা হয়ে যাবে, তবে ১০ মিনিট পর খাওয়ার দ্বারা রোজা হবে না। (আপকে মাসায়েল : খ. ৩, পৃ. ২০১) কিন্তু মনে রাখতে হবে, শুধু ক্যালেন্ডারের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়, কেননা অনেক সময় তাতে ভুলও হয়ে থাকে, তাই এ ব্যাপারে সতর্ক হওয়া দরকার।

♦ নিদ্রার কারণে সাহরি না খেতে পারলেও রোজা রাখতে হবে। সাহরি না খেতে পারায় রোজা না রাখা অত্যন্ত পাপ। (বেহেশতি জেওর : পৃ. ৩৫৩)

ইফতারের ফজিলত

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী : ‘ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া প্রত্যাখ্যান করা হয় না।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৭৫৩) অন্য হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করায়, সে ওই রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৮০৭)

ইফতারের মাসায়েল

♦ সূর্যাস্ত হয়ে যাওয়ার পর তাড়াতাড়ি ইফতার করা মুস্তাহাব। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৩৫৩)

♦ খেজুর দ্বারা ইফতার করা মুস্তাহাব। তারপর কোনো মিষ্টি জিনিস দ্বারা। তারপর পানি দ্বারা। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৩৫৫)

♦ ইফতারের সময় নিম্নোক্ত দোয়া পড়া : বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিজিককা আফ্তারতু।

♦ ইফতারের পর নিম্নোক্ত দোয়া পড়া : জাহাবাজ্-জামাউ, ওয়াব্ তাল্লাতিল উরুকু, ওয়া ছাবাতাল আজ্রু, ইন্শাআল্লাহু তাআলা।

♦ বৃষ্টির দিনে কিছু দেরি করে ইফতার করা উত্তম। শুধু ঘড়ি বা আজানের ওপর নির্ভর করা ভালো নয়। কারণ এতে ভুল হতে পারে। (ফাতাওয়ায়ে রহিমিয়াহ : খ. ৩, পৃ. ১০৮; মাসায়েল রমাজান, রাফয়াত কাছেমি : পৃ. ১৯৭)

♦ ইফতারের জন্য মাগরিবের নামাজ পাঁচ-ছয় মিনিট বিলম্বে আদায় করার অবকাশ আছে। (রহিমিয়া : খ. ১, পৃ. ৩৭)

♦ যদি সূর্যাস্তে সন্দেহ হয়, তাহলে ইফতার করা হালাল হবে না। (নাওয়াজিল : পৃ. ১৫২, শামি : খ. ৩, পৃ. ৩৮৩)

♦ পশ্চিম দিকে প্লেনে সফর করার কারণে যদি দিন বড় হয়ে যায়, তাহলে সুবহে সাদিক থেকে নিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সূর্যাস্ত হলে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ইফতার বিলম্ব করতে হবে। আর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেও সূর্যাস্ত না হলে ২৪ ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার সামান্য কিছু আগে ইফতার করে নেবে। (আহসানুল ফাতাওয়া : খ. ৪, পৃ. ৭০)

♦ ‘লবণ দ্বারা ইফতার শুরু করা উত্তম’—এরূপ আকিদা ভুল। (আহকামে জিন্দেগি : পৃ. ২৪৭)

লেখক : শিক্ষক, মাদরাসাতুল মদিনা, নবাবপুর, ঢাকা।

Comments

comments

Close