আজ: ১৭ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ৩রা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি, দুপুর ১:১৬
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয় প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ঝুঁকিপূর্ণ ধারা বাতিলের আহ্বান টিআইবি’র

প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ঝুঁকিপূর্ণ ধারা বাতিলের আহ্বান টিআইবি’র


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ০২/০৫/২০১৮ , ৫:০৯ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জাতীয়


দেশের গণমাধ্যম কর্মীরা যাতে মুক্ত পরিবেশে বাক্-স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকার চর্চা অব্যাহত রাখতে পারে সেজন্য প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৮ ধারা পুনর্বিবেচনা ও তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিলের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। আজ ৩ মে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই আহবান জানিয়েছে সংগঠনটি। একইসঙ্গে খসড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বিষয়ে গণমাধ্যম কর্মীসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে অগ্রসর হওয়ার জন্য সংসদীয় কমিটির প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

বুধবার দেওয়া বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মন্ত্রিসভা কর্তৃক অনুমোদিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সকল নাগরিকের বাক্-স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতের সাংবিধানিক অঙ্গীকার ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। ডিজিটাল নিরাপত্তার নামে প্রস্তাবিত আইনটি প্রণীত হলে শুধু মত প্রকাশের ক্ষেত্রেই নয়, গণমাধ্যম কর্মীদের পাশাপাশি সকল নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার চর্চার ক্ষেত্রে অধিকতর নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।

যৌক্তিক বিধি নিষেধ সাপেক্ষে সংবিধান মত প্রকাশের যে স্বাধীনতা দিয়েছে, তা তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার কাছে অসহায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীসহ মূল ধারার গণমাধ্যম কর্মীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ভীতি ও ভীতি প্রসূত স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপ চাপিয়ে দিয়েছে। যা বাক্-স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীন দায়িত্ব পালনের প্রধান অন্তরায় বলে বিবেচিত হচ্ছে। তদুপরি প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৮ ধারাসমূহ প্রয়োজনীয় সংশোধন ছাড়া প্রণীত হলে সার্বিকভাবে দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চা ও গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের সম্ভাবনা ধুলিস্যাত্ হবার ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।

খসড়াটি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের পক্ষ থেকে ব্যাপক উদ্বেগ প্রকাশ সত্ত্বেও ধারাগুলো সংশোধন না করেই সংসদে উত্থাপিত হওয়াকে হতাশাজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ আইনের ফলে বিভিন্ন প্রকার অনিয়ম-দুর্নীতিসহ ক্ষমতার অপব্যবহারের তথ্য প্রকাশ যেমন অসম্ভব হয়ে পড়বে, তেমনি এসব অপরাধের সুরক্ষার মাধ্যমে অধিকতর বিস্তৃতি ঘটাবে।

সরকার ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন নিশ্চিতের যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে প্রস্তাবিত আইনটি সেক্ষেত্রে বাধা হিসেবে কাজ করবে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, গণমাধ্যমসহ সকল নাগরিক যাতে সব ধরনের ভয়-ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে সরকারের সহায়ক শক্তি হিসেবে স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন ও বাধাহীন মতামত প্রকাশ করতে পারে তার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এ পর্যায়ে খসড়া আইনটির সংশোধনের দায়ভার সংসদীয় কমিটির ওপর ন্যস্ত হবার কারণে কমিটিকে অবশ্যই ইতিবাচক ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

Comments

comments

Close