আজ: ২৬শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার, ১২ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৩ হিজরি, রাত ৮:০৪
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয় কে নিবে আফসানার দায়িত্ব?

কে নিবে আফসানার দায়িত্ব?


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ২১/০৪/২০১৮ , ১১:৩৩ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জাতীয়


নিজেস্ব প্রতিবেদক: ছোট্ট মেয়েটি প্রাণ খুলে হাসছে। এ ঘর থেকে সে ঘরে ছোটাছুটি করছে। কোনো অনুভূতি নেই। মা তাকে ছেড়ে চলে গেছে চার মাস আগে। আর বাবা খুন হয়েছেন গতকাল (২০ এপ্রিল)। অথচ সে কিছুই জানে না। ক্যামেরা দেখেই বেঁকে বসে আফসানা। কোনোভাবেই ছবি তোলা যাচ্ছিল না। ভারি দুষ্টমি করছিল। কী আর করা তাকে কোলে নিতে হলো। ছবি তোলা শেষ হতেই কোল থেকে নেমে গেল ছোট্ট আফসানা।

বলছিলাম ২০ এপ্রিল, শুক্রবার রাতে ময়মনসিংহ  শহরে খুন হওয়া বাবুর দুই বছর বয়সী একমাত্র মেয়ে আফসানার কথা। আফসানার এখন কেউ নেই। আছে শুধু ষাট বছর বয়সী দাদি রোকেয়া বেগম, যিনি গুরুতর অসুস্থ। ছেলেকে হারিয়ে তিনিও বাকরুদ্ধ।

ময়মনসিংহে কাঁচিঝুলি এলাকায় একাডেমি রোডে মা আর মেয়েকে নিয়ে ছোট্ট একটি টিনের ঘরে বাস করতেন পেশায় ইলেক্ট্রিশিয়ান বাবু।

আজ দুপুরে বাবুর এলাকায় গেলে স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় বাবু এলাকায় বৈদুৎতিক খুটিতে কাজ করছিলেন। পাশের মসজিদে নামাজও পড়েছেন। তারপর সব শেষ। কলেজ রোড থেকে অনেকটা ফিল্মি স্টাইলে বাবুর পিছু নেয় চার যুবক। দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাকে ধাওয়া করে। প্রাণ বাঁচাতে দৌঁড়াতে থাকে বাবু। সবাই তাকিয়ে দেখেছে, বাধা দেয়নি কেউ। শেষে রেললাইনের পাড়ে গিয়ে বাবুকে ধরে ফেলে হামলাকারীরা। তাকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটায়। পদতলে পিষ্ট করার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায়। তখনো কেউ বাধা দেয়নি।

হালাকারীরা চলে যাওয়ার পর স্থানীয়রা বাবুকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। ততক্ষণে সব শেষ। ঘটনার পর পুলিশ এলাকায় গিয়ে খোঁজ নিয়েছেন। জড়িতদের ধরতে অভিযান চালিয়েও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় বাবুর মা রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও চার পাঁচজনসহ নয়জনের নামে থানায় মামলা করেছেন। মামলায় যেসব আসামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন- বাবু, জুয়েল, রাজিব, ও ফারুক।

মামলা তদন্ত করছেন ময়মনসিংহ শহরের ২নং ফুলিশ ফাড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সজীব রহমান। ময়নাতদন্ত শেষে আজ (২১ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৪টায় বাবুর লাশ তার মায়ের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

ওসি সজীব রহমান জানান, লাশ মায়ের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। মামলার আসামিদের নামে একাধিক হত্যা, অস্ত্র ও মাদকের মামলা রয়েছে। সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন, যে কোনো মূল্যে জড়িতদের গ্রেফতার করা হবে।

বাবুর বাসায় গিয়ে দেখা যায়, ষাট বছর বয়সী গুরুতর অসুস্থ আফসানার দাদি রোকেয়া বেগম কাঁদতে কাঁদতে বারবার মুর্ছা যাচ্ছিলেন। রোকেয়া পুত্রশোকে নির্বাক হয়ে কোনো কথাই বলতে বলতে পারছেন না। বাকরুদ্ধ রোকেয়া শুধু সামনের দিকে তাকিয়ে আছেন

Comments

comments

Close