আজ: ২৭শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ১৩ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৩ হিজরি, রাত ১:৪৪
সর্বশেষ সংবাদ
ফেসবুক থেকে মৃত রাজীবের সাথে কথোপকথন ……

মৃত রাজীবের সাথে কথোপকথন ……


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১৭/০৪/২০১৮ , ৭:৩০ অপরাহ্ণ | বিভাগ: ফেসবুক থেকে


হাতটা জোড়া না লাগাতে পারলেও চিকিৎসকরা ধারণা করেছিলেন সুস্থ হয়ে উঠবেন দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারানো রাজীব হোসেন। কিন্তু ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছিল তার শারীরিক অবস্থা । শেষ পর্যন্ত পারলেন না সুস্থ হতে। চলে গেলেন না ফেরার দেশে।ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে মৃত্যু হয় মহাখালীর তিতুমীর কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেনের। নিহত রাজীবকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে আলোচনার ঝড় । সাংবাদিক  লুৎফর রহমান হিমেল   লিখেছেন মৃত রাজীবের কাল্পনিক   সাক্ষাৎকার নিয়ে ।

—রাজীব, শুনছেন?
—হুম। বলুন।
—ক’দিন ধরে আইসিইউতে আছেন। মাথার যন্ত্রনাটা কি বেশি হচ্ছে?
—না। মাথা নিয়ে এখন আমার কোনো যন্ত্রনা নেই। মরা মানুষের মাথাই কি, আর শরীরই কি।
—বলেন কি! মরে গেছেন!
—হ্যাঁ, যেদিন চাপা পড়েছিলাম। কী বিভৎস নরক যন্ত্রনা। ঠিক তখনই মরে যাই আমি। শরীরের কিছু অংশ অহেতুক বেঁচে থাকার চেষ্টা করেছিল যদিও।
—তাহলে এ কয়দিন যে হাসপাতালে রাখা হল।
—এটি আনুষ্ঠানিকতা। এখন বলা যাবে, বিনা চিকিৎসায় অন্তত মারা যাইনি। এদেশে এটিও কম পাওয়া নয়। এটি একটি চমৎকার সিস্টেম। আমার ভাল লেগেছে।
—এই যে তরুন বয়েসে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন, এরজন্য কাউকে কি দায়ী মনে করছেন?
—নাহ, কাউকে দায়ী করি না। এজন্য আমি নিজেই দায়ী। আমি ভুল গ্রহে গিয়েছিলাম। হয়ত আমার বাবা মা-ও দায়ী। তারা আমাকে ভুল গ্রহের ভুল দেশে নিয়ে গিয়েছিলেন।
—এই ভুল গ্রহ, ভুল দেশে যারা এখনো আছে, তাদের জন্য আপনি কি কিছু বলবেন? এটি ঠিক করা যাবে না?
—শুধু একটি কথাই বলব, দেশে থাকতে হলে, নিরাপদ পরিবেশ নিজেদেরই তৈরি করে নিতে হবে। কেউ করে দিয়ে যাবে না। তাদেরকেই জেগে উঠতে হবে। কেউ জাগাতে আসবে না।

অ্যাম্বুলেন্সে:
—ওই যে অ্যাম্বুলেন্স এসে গেছে। আপনাকে বাড়ি নিয়ে যাবে মনে হয়।
—ওহহ শান্তি। এখনই চড়ে বসতে হবে ঠাণ্ডা গাড়িটাতে। এমন এসিওয়ালা গাড়িতে জীবনে বেশি উঠিনি। অনেক টাকা-পয়সা লাগে। আজকেরটার জন্য হয়ত টাকা-পয়সা দিতে হবে না। এটি যেহেতু আঞ্জুমানের গাড়ি।
—চির বিদায়ের আয়োজন হচ্ছে। খারাপ লাগছে না আপনার?
—নাহহ। অনেক দিন পর বাড়ি ফিরছি। অনেক খাটাখাটুনি করেছি। ক্লান্ত আমি। এবার চিরবিশ্রাম নেব। সেই ছোটবেলার মতো করে আবার মায়ের পাশে শুয়ে পড়ব। সেই তৃতীয় শ্রেণিতে থাকতে শেষ দেখেছিলাম মাকে। অষ্টম শ্রেণিতে থাকতে বাবাকে। এবার তাঁদের সাথে ওপারে দেখা হয়ে যাবে। আনন্দ লাগছে আমার। ভীষন আনন্দ।
—আপনার এমন কথায় আমার চোখে জল আসছে বারবার। কিন্তু আপনাকে দেখছি কাঁদছেন না।
—দেখুন, মরা মানুষ কখনো কাঁদে না। হা হা হা। (অট্টহাসি)
—থামুন রাজীব, এভাবে কলিজা চৌচির করা হাসি হাসবেন না। ভীষন ভয় করছে আমার।
—ভয় পাবেন না। মরা মানুষ শুধু অট্টহাসিটাই দিতে জানে। তা-ও এই হাসি ভাল মানুষরা ছাড়া অন্যরা কেউ শুনতে পায় না। দেশে ভাল মানুষ বেশি নেই। তাই ভয়েরও কিছু নেই। আপনি এখন যান। অ্যাম্বুলেন্সের দরোজা বন্ধ করে দেবে এখনই। ভাল থাকবেন…

 

 লিখেছেনঃ লুৎফর রহমান হিমেল, , বার্তা সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন ।

Comments

comments

Close