আজ: ৩রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, ১৮ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৯শে রজব, ১৪৪২ হিজরি, বিকাল ৫:৩৯
সর্বশেষ সংবাদ
অপরাধ, জেলা সংবাদ বাউফলে উপসচিব পরিচয়ে প্রতারনা, ভুয়া উপসচিব গ্রেফতার

বাউফলে উপসচিব পরিচয়ে প্রতারনা, ভুয়া উপসচিব গ্রেফতার


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ০৮/০৪/২০১৮ , ১০:৪৩ অপরাহ্ণ | বিভাগ: অপরাধ,জেলা সংবাদ


এনামুল হক বাউফল (পটুয়াখালী)প্রতিনিধি :- নিজেকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পরিচয়ে দিয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যান এক যুবক। আগের দিন শনিবার মুঠোফোনে প্রধান শিক্ষককে জানিয়ে রোববার বেলা ১১টায় তিনি এসেছিলেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা সদরের বাউফল মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে একপর্যায়ে ধরা পড়ে তাঁর প্রতারণার বিষয়টি।

জাতীয় পরিচয়পত্র ও ওই যুবকের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর নাম আবদুল মতিন ভূঁইয়া (২৭)। তাঁর বাবার নাম হারুন অর রশিদ ভূঁইয়া। বাড়ি নরসিংদী জেলা সদর উপজেলার হোসেনপুর গ্রামে।

বাউফল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নার্গিস আক্তার জাহান বলেন, গত রাতে (শনিবার) মুঠোফোনে তাঁকে জানানো হয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে বিদ্যালয় পরিদর্শনে তিনি এসেছেন। আগামীকাল (রোববার) তাঁর বিদ্যালয়ে আসবেন। আজকে (রোববার) বেলা ১১টার দিকে তাঁর কক্ষে এসে পৌঁছান। এরপর প্রধান শিক্ষকের কাছে তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের যাবতীয় তথ্য দেওয়ার জন্য একাধিক ফরম্যাট প্রদান করেন। একপর্যায়ে নার্গিস আক্তারের কাছে ওই যুবকের আচরণ সন্দেহ হয়। তিনি কৌশলে বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানান এবং ওই যুবকের কাছে মন্ত্রণালয়ের দালিলিক প্রমাণ দেখতে চান। তখন ওই যুবক তা দেখাতে ব্যর্থ হন এবং নার্গিস আক্তারের পা ধরে ক্ষমা চান। পরে তাঁকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

পটুয়াখালী নেছারিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. ওমর জিহাদ বলেন, ‘আবদুল মতিন নিজেকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে উপসচিব পরিচয় দিয়ে তাঁর মাদ্রাসা পরিদর্শনে যান এবং তাঁর কাছ থেকে কৌশলে পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে চলে যান।’

জানা গেছে, বাউফল আদর্শ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ এ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের মুঠোফোনে অবহিত করা হয়েছে তিনি (আটক আবদুল মতিন) বিদ্যালয় পরিদর্শনে আসবেন।

এক স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘তাঁকে মুঠোফোনে বলা হয়েছে সব ঠিকঠাক না থাকলেও চলবে। তবে সম্মানীটা একটু বাড়িয়ে দিতে হবে। এ কারণে তিনি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা সংগ্রহ করেও রেখেছিলেন।’

আবদুল মতিনের চালাকির কাছে কুপোকাত হয়ে যান জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাও। তিনি আবদুল মতিনের থাকা-খাওয়ারও ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, এক ব্যক্তি তাঁকে মুঠোফোনে জানায়, মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক স্তরে তথ্য ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রচলন শীর্ষক প্রকল্পের প্রভাব মূল্যায়নের জন্য নিয়োগকৃত পরামর্শক ফার্মের একটি পরামর্শক দল তাঁর জেলায় সফর করছেন। তাদের যেন সহযোগিতা করা হয়। পরে মতিন এসে এ-সংক্রান্ত একটি পত্রও তাঁকে দেখান। এ কারণে জেলা শিক্ষা কার্যালয়ের রেস্টহাউসে তাঁকে রাতে থাকার ব্যবস্থা করে দেন। মতিন যে প্রতারক, তা তিনিও বুঝতে পারেননি।

আটক আবদুল মতিন ভূঁইয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি পটুয়াখালী সদর উপজেলার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন। তারা তাকে খরচ বাবদ ছয় হাজার টাকা দিয়েছেন। তিনি এ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও বলেন। আবদুল মতিন স্বীকার করেছেন তিনি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নন; তিনি কখনো এ পরিচয় দেননি বলেও দাবি করেন।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতারক ওই যুবককে আটক করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: