আজ: ৮ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ২৫শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৬শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি, সকাল ১০:১৯
সর্বশেষ সংবাদ
অপরাধ, জাতীয়, নারী ও শিশু, প্রধান সংবাদ বিউটি হত্যার পরিকল্পনা বাবার, ছুরি চালায় চাচা: পুলিশ সুপারের ব্রিফিং

বিউটি হত্যার পরিকল্পনা বাবার, ছুরি চালায় চাচা: পুলিশ সুপারের ব্রিফিং


পোস্ট করেছেন: মতপ্রকাশ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ০৭/০৪/২০১৮ , ৫:৩৫ অপরাহ্ণ | বিভাগ: অপরাধ,জাতীয়,নারী ও শিশু,প্রধান সংবাদ


হবিগঞ্জ: জেলার শায়েস্তাগঞ্জে আলোচিত বিউটি হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা তার বাবা সায়েদ আলী নিজেই। ‘ধর্ষক’ বাবুল মিয়াকে ফাঁসাতে নিজেই মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি। আর এ কাজে তাকে সহযোগিতা করে প্রতিবেশী ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ময়না মিয়া। ঘটনার সঙ্গে আরো একজন পেশাদার ভাড়াটে খুনি জড়িত বলেও জানান পুলিশ সুপার।

শনিবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা।

তিনি বলেন, ‘বাবুল নয়, বিউটির প্রকৃত হত্যাকারী তার কথিত চাচা ময়না মিয়া। তবে এ হত্যার ঘটনা বিউটির বাবার উপস্থিতিতেই ঘটেছে। তাকে হত্যার সময় বিউটির বাবা সায়েদ আলী পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। এ হত্যাকাণ্ডে আরেকজন পেশাদার ভাড়াটে খুনি জড়িত ছিল। সে বিউটির হাত-পা চেপে ধরে রাখে। আর ময়না মিয়া বিউটির শরীরে ছুরি দিয়ে আঘাত করে।

তিনি জানান, মামলাটির বাদী বিউটির বাবা সায়েদ আলী আর ময়না মিয়া বিউটি হত্যা ও ধর্ষণ মামলার প্রধান সাক্ষী। কিন্তু এ মামলা সম্পর্কে তদন্ত করতে গিয়ে বেশ কিছু বিষয়ে সন্দেহ হওয়ায় প্রথমে ময়না মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পুলিশ সুপার জানান, ৬ মার্চ শুক্রবার রাত ৮টার দিকে হবিগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তৌহিদুল ইসলামের আদালতে নিজেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছে ময়না মিয়া। সেখানে আরও কয়েক জনের নামও প্রকাশ করে সে, তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর ইউপি নির্বাচনে ব্রাহ্মণডোরা ইউনিয়নের ২ নম্বর সংরক্ষিত আসনে ময়না মিয়ার স্ত্রী আসমা আক্তার বাবুল মিয়ার মায়ের কাছে পরাজিত হন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাবুলের পরিবারকে ফাঁসাতে বিউটিকে হত্যা করে মরদেহ হাওরে ফেলে দেন।

প্রসঙ্গত, গত ২১ জানুয়ারি বিউটি আক্তারকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বাবুল মিয়াসহ তার লোকজন। তাকে অপহরণ করে বিভিন্ন স্থানে রেখে ধর্ষণ করে বাবুল। এ ঘটনার প্রায় ১ মাস পর বাবুল মিয়া বিউটিকে তার বাড়িতে রেখে পালিয়ে যায়। পরে ১ মার্চ বিউটি আক্তারের বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল ও তার মা ব্রাহ্মণডোরা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য কলমচানের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। এরপর ১৬ মার্চ বিউটি নানির বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার পরদিন ১৭ মার্চ বিউটি আক্তারের লাশ স্থানীয় হাওর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

এদিকে, বিউটিকে হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে পরদিন তার বাবা বাদী হয়ে বাবুল মিয়াসহ ২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত কজনকে আসামি করে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলার প্রেক্ষিতে ২১ মার্চ পুলিশ বাবুলের মা ইউপি সদস্য কলম চান ও সন্দেহভাজন হিসেবে একই গ্রামের ঈসমাইল নামের একজনকে আটক করে।

এই ঘটনার পর ২৯ মার্চ হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসম শামছুর রহমান ভূইয়াকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করেন পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা। এরপর ৩১ মার্চ সিলেট থেকে বাবুলকে আটক করে ‌র‌্যাব।

Comments

comments

Close
%d bloggers like this: